শান্তা ইসলাম নেত্রকোনা প্রতিনিধি : নেত্রকোনার বারহাট্টায় বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেল একই পরিবারের তিনজন। অটোরিকশার যাত্রী মাও দুই সন্তান আহত হয়েছে। ঘটনাটি সোমবার সকালে বারহাট্টা স্টেশনে বারহাট্টা স্টেশন এলাকায় ট্রেন, পিকআপ ও অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষে দুই শিশুসহ চার ব্যক্তি আহতের ঘটনা ঘটেছে।
ময়মনসিংহ- মোহনগঞ্জ রেল লাইনের বারহাট্টা স্টেশনের নিকটবর্তী মাস্টার পাড়ায় এই ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- আটপাড়া উপজেলার বানিয়াজান গ্রামের মো. সোহেল মিয়ার স্ত্রী শান্তা (৩৮), ছেলে শামী (১২), মেয়ে জান্নাত (৮) ও মোহনগঞ্জের পানুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে মো. শাহ আলম (২০) । গুরুতর আহত শামীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনার বারহাট্টা রেল স্টেশনের ইনার-সিগন্যালের নিকটবর্তী রেলক্রসিং থেকে পূর্বদিকে বারহাট্টা-আটপাড়া সড়কের রেলক্রসিং পর্যন্ত রেল লাইনের পাশঘেঁষে পায়ে চলাচলের রাস্তা আছে। ওই সড়ক দিয়ে সোমবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে পূবদিক থেকে একটি পিকআপ পশ্চিম দিকে এবং পশ্চিম দিক থেকে ব্যাটারিচালিত দুইটি অটোরিকশা পূর্বদিকে যাচ্ছিল। এ সময় ঢাকাগামী হাওর এক্সপ্রেস ট্রেন আসলে ট্রেনের ইঞ্জিনের সাথে পিকআপের ধাক্কা লাগে। পরে পিকআপটি যাত্রীবাহী অটোরিকশা দুইটিকে ধাক্কা দিলে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়।
রেলওয়ের বারহাট্টা স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, বারহাট্টা সদরের মূল সড়কে যানজট লেগেই থাকে। স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসির সুবিধার্থে সড়কটি শুধুমাত্র পায়ে চলাচলের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে। এ জন্য নির্মাণের পর সড়কটির পুর্ব ও পশ্চিম মাথায় খুঁটি (রেল) পূঁতে যানচলচলে প্রতিবন্ধক সৃস্টি করা হয়। এক শ্রেণির চালক রাতের আঁধারে খুঁটিগুলো উপড়ে সরিয়ে দিয়ে বেপরুয়া গতিতে মোটরসাইকেল, সিএনজি ও ব্যাটারীচালিত অটোরিকশা, মালামাল বোঝাই পিকআপ, এমনকি ট্রাক চালায়।
এ কারণে সড়কটি ভেঙ্গে পড়ার পাশাপাশি প্রায়শ: ঘটছে দূর্ঘটনা। কয়েকদিন আগে সাধন নামের একব্যক্তি এই রাস্তায় চলার সময় যানবাহন ও ট্রেনকে সাইড দিতে গিয়ে বিভ্রান্ত হন। পরে ট্রেনের ধাক্কায় তিনি মারা যান। মোহনগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফজলুল হক জানান, ট্রেন, পিকআপ ও অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়। এতে শিশুসহ চারজন আহত হয়েছে।
কিউএনবি/আয়শা/১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪/রাত ৮:১৪