শান্তা ইসলাম নেত্রকোনা প্রতিনিধি : লাইন ফেটে নেত্রকোনা শহরে ৩০ ঘন্টা তিতাস গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল। গত শুক্রবার বিকেল পাঁচটা থেকে সারা জেলায় আবাসিক, বাণিজ্যিকসহ সব ধরনের লাইনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ ৩০ ঘণ্টা পর শনিবার রাত ১১টায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়।
তিতাস গ্যাস নেত্রকোনা অফিসের প্রকৌশলী সুমঙ্গল গোলদার বলেন, ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ থেকে নেত্রকোনায় গ্যাস সঞ্চালন লাইন রয়েছে। শ্যামগঞ্জের ডেঙ্গা এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উন্নয়ন কাজ চলছে। অসাবধানতায় ভেকু মেশিনে মাটি কাটার সময় গ্যাস সরবরাহের মূল লাইন কাটা পড়ে। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ময়মনসিংহ থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। লাইন সংস্কারে ঢাকা থেকে এসে কাজ করে। শনিবার রাতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়।
হঠাৎ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শহরের বাসাবাড়িতে খাবার রান্না নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়েছে স্থানীয় লোকজন। জেলা শহরের মোক্তারপাড়ার বাসিন্দা তোফাইল ইসলাম শাহীন, শংকর সরকার, উকিলপাড়ার খোকন সাহাসহ কয়েকজন বলেন, শুক্রবার বিকেল থেকে রান্না বন্ধ। আমাদের খাওয়া দাওয়ায় সমস্যা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আরও সতর্ক হয়ে এ খননকাজ করার দরকার ছিল। আর তিতাস গ্যাসের কর্তৃপক্ষও উদাসীনতা দেখাচ্ছে।
শহরের নাগড়া এলাকার বাসিন্দা নেত্রকোনা সাহিত্য সমাজের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল্লাহ এমরান বলেন, তিতাস গ্যাসের লোকজন সীমাহীন উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছে। সারা শহরে গ্যাস বন্ধ কিন্তু তারা শুধু শুক্রবার বিকেলে একবার মাইকিং কয়ে দায় সেরেছে। পাইপ লাইনটি জোড়া দিতে এত সময় ক্ষেপন করা হয়েছে। জেলা শহরের সাতপাই এলাকার বাসিন্দা উদীচী জেলা সংসদের সভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গ্যাস না থাকায় রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে যায়। বাইরে হোটেলেও সহজে খাবার পাওয়া যাচ্ছিল না। সিলিন্ডার গ্যাস বা বৈদ্যুতিক চুলা কিনে রান্না করা হবে, এ সুযোগও অনেকের হচ্ছিল না।’
এলাকাবাসী, তিতাস গ্যাস ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার শ্যামগঞ্জের ডেঙ্গা এলাকায় সোয়াইর নদের খননকাজ চলছে। গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ওই এলাকার চর মইলাকান্দা স্থানে খননকাজ করার সময় খননযন্ত্রে লেগে তিতাস গ্যাসের লাইন কেটে যায়। এ সময় প্রচুর শব্দে গ্যাস বের হতে থাকে। এরপর পুরো জেলায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। সিএনজির স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় সংকটে পড়েন পরিবহনচালকরা।
শহরের বাসাবাড়িতে রান্নার কাজ ব্যাহত হয়। এতে জেলার প্রায় সাড়ে পাঁচ গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়েন। শনিবার রাত ১১পর থেকে শহরে কিছু কিছু এলাকায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়। তবে প্রায় আধা ঘন্টা পর সাড়ে ১১টার দিকে সব গ্রাহকদের লাইনে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়। নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সারোওয়ার জাহান জানান, পূর্বধলার সোয়াইর নদ খননের সময় খননযন্ত্রে লেগে লাইনটি কেটে যায়। নদ খননের আগে তিতাস কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে অবহিত করা হয়েছিল। দীর্ঘসময় কাজ করার পর মেরামত কাজ সম্পন্ন হয়।
কিউএনবি/আয়শা/০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪,/বিকাল ৪:৫৮