শান্তা ইসলাম নেত্রকোনা প্রতিনিধি : আমিন, আমিন, ধ্বনিতে মুখরিত টঙ্গীর তুরাগ নদীর পাড়ে বিশ্ব ইজতেমার সাথে তাল মিলিয়ে নেত্রকোনা সদর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের নন্দীপুর গ্রামে গতকাল রোববার সকালে আখেরী মোনাজাতের মাধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে তিন দিনব্যাপী নারী ইজতেমা।
নেত্রকোনা সদর উপজেলার নন্দীপুর গ্রামের ধর্মপ্রাণ তাবলীগ জামাত কর্মী ইসমত আলী প্রতি বছর বিশ্ব ইজতেমায় যোগদান করে এলাকায় এসে মুসলমানদের কাছে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণ ও ঈমান আখলাখ আমল করার দাওয়াত দিতেন। তারই পরামর্শে তার স্ত্রী তারা বানু গত ৪১ বছর আগে নিজ বাড়ির আশপাশের মহিলাদের নিয়ে মহিলা ইজতেমা শুরু করেন। দিনদিন এর প্রসার লাভ করে। প্রায় ২৫ বছর আগে তাঁর মৃত্যুর পর মায়ের আদেশে তার ছেলে আলী উছমান জাকারিয়া নিজ উদ্যোগে প্রতি বছর নারী ইজতেমার আয়োজন করছেন। ওই নারী ইজতেমায় নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, শেরপুর, জামালপুর ও ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার মহিলা যোগদান করেন। এবারও প্রায় ১০ হাজার মহিলা এ ইজতেমায় অংশ গ্রহণ করেন।
গত শুক্রবার জুম্মার নামাজের মধ্য দিয়ে মহিলা ইজতেমা শুরু হয়। তিন দিনব্যাপী ইজতেমায় আম বয়ান করেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার নূর নাহার বেগম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলার পারভীন আক্তার, নেত্রকোনা সদর উপজেলার মদনপুর গ্রামের হাসফুন্নাহার বেগম, অনন্তপুর গ্রামের মনোয়ারা বেগম, তিয়শ্রী গ্রামের খাদিজা আক্তার, নেত্রকোনা সদর উপজেলার সাতপাইরে মোছা. পারভীন আক্তার আটপাড়া উপজেলা জেসমিন আক্তার, সামছুন্নাহার বেগম ও ঘাগড়া গ্রামের মোছা. কালার মা তাহমিনা ভিরমুরী। মিনি মহিলা ইজতেমায় মুসলিম উম্মাহ্র ঐক্য, সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে আখেরী মোনাজাত পরিচালনা করেন মহিলা ইজতেমার মুরব্বী জেসমিন আক্তার।
ইজতেমার আয়োজক আলী উছমান জাকারিয়া মহিলা ইজতেমায় আগত মহিলাদের অজু, গোসল ও পয়ঃনিস্কাষনের জন্য প্রয়োজনীয় পানি, পর্যাপ্ত টয়লেট ও ইবাদত করার জন্য অবকাঠামো নির্মাণের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, জেলা পরিষদসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন। তিনি আরো বলেন, জেলা প্রশাসক স্যারের সহযোগিতায় ও পুলিশ প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ইজতেমা শান্তিপূর্নভাবে শেষ হয়েছে ।
কিউএনবি/আয়শা/০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪,/বিকাল ৪:৫৮