লুৎফুন্নাহার রুমা, ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া ১৪ ই জানুয়ারি রোজ রবিবার সময় বিকাল ৪টা হতে হোম গুটি খেলাটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই খেলাটি পৌষ সংক্রান্তির শেষ বিকেলে ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ীয়া উপজেলার তেলিগ্রাম বড়ই আটায় তালুক-পরগনার সীমানায় অনুষ্টিত হচ্ছে এই হুমগুটি খেলা। পৌষ মাসের শেষ দিনকে ময়মনসিংহের স্থানীয়ভাবে বলা হয় পহুরা। প্রায় দুইশো বছরের ঐতিহ্যবাহী এই খেলা বছরে একবার একই স্থানে হয়।পিতলের তৈরি ২০ কেজি ওজনের গুটি আয়ত্ব করে নিজ গ্রামে নিয়ে গুম করা পর্যন্ত চলে এই খেলা। আর এই খেলাকে কেন্দ্র করে ফুলবাড়ীয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গঞ্জে লেগে যাই আত্বীয় সজনের ভিড়।
গোটা পরিবেশ হয়ে উঠে উৎসব মুখর। ফুলবাড়ীয়ার লক্ষীপুর ও দশ মাইলের মাঝামাঝি বড়ই আটা বন্দে (মাঠে) খেলার কেন্দ্রস্থল। বিকেল চারটার দিকে খেলা শুরু হয়।সকাল থেকে ফুলবাড়ীয়া ছাড়াও পার্শবর্তী ত্রিশাল, মুক্তাগাছা উপজেলার লোকজন আসতে থাকে লক্ষ্মীপুর বড়ই আটা বন্দে।ফুলবাড়ীয়া উপজেলা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার উত্তরে তেলীগ্রাম এর বড়ই আটা বন্দ আর ময়মনসিংহের স্থানীয় বন্দ মানে খোলা ফসলের মাঠ, খেলা শুরুর আগে ময়মনসিংহ-ফুলবাড়ীয়া রাস্তার অদূরে ভাটিপাড়া, বালাশ্বর, তেলিগ্রামের সংযোগস্থল নতুন রাস্তায় লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়।
মুক্তাগাছার জমিদার রাজা শশীকান্তের সাথে ত্রিশালের বৈলরের হেম চন্দ্র রায় জমিদারের জমির পরিমাপ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। জমিদার আমলের শুরু থেকেই তালুকের প্রতি কাঠা জমির পরিমাপ ছিল ১০ শতাংশে, পরগনার প্রতি কাঠা জমির পরিমাপছিল সাড়ে ৬ শতাংশে।একই জমিদারের ভূখন্ডে দুই নীতির প্রতিবাদে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে ওঠে। জমির পরিমাপ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ মীমাংসার জন্য তেলীগ্রাম বড়ই আটা নামক স্থানে (যেখানে শুরু তালুক পরগনার সীমানা) সেখানে এই গুটি খেলার আয়োজন করে।গুটি খেলার শর্ত ছিল,গুটিটি যে দিকে যাবে তা হবে তালুক, পরাজিত অংশের নাম হবে পরগনা। জমিদার আমলের গুটি খেলায় মুক্তাগাছা জমিদারের প্রজারা বিজয়ী হয়।
আজও তালুক পরগনার সীমান্তের জিরো পয়েন্টে ব্রিটিশ আমলে জমিদারি খেলার গোরাপত্তন। আমন ধান কাটা শেষ, বোরো ধান আবাদের আগে প্রজাদের শক্তি পরীক্ষার জন্য জমিদারদের এই পাতানো খেলা চলছে বছরের পর বছর ধরে। হুমগুটি খেলাকে কেন্দ্রকরে ফুলবাড়ীয়ায় মেতে উঠে লক্ষাধিক মানুষের মিলন মেলা।২০ কেজি
কিউএনবি/আয়শা/১৭ জানুয়ারী ২০২৪,/সন্ধ্যা ৭:৪৫