ডেস্ক নিউজ : মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর বাড্ডা থানায় তিনি এ মামলা করেন। এতে প্রধান আসামি করা হয়েছে ডা. সাব্বির এবং ডা. তাসনুভা মেহজাবিনকে। এ বিষয়ে বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াসিন গাজী জানিয়েছেন, ঘটনা তদন্ত করে দেখবে পুলিশ।
এর আগে, আজ সকালে শিশু আয়ান আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ বি এম শাহজাহান আকন্দ মাসুম জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন। বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটি দাখিল করা হয়েছে।
একইসঙ্গে শিশু আয়ানের চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকদের ডাক্তারি সনদ বাতিল ও ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চায়া হয়েছে। রিটে স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।
গত ৩১ ডিসেম্বর রাজধানীর বাড্ডায় ইউনাইটেড হাসপাতালে সুন্নাতে খৎনা করাতে আনা হয় ৫ বছরের শিশু আয়ানকে। ৮ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর নির্বাচনের দিন রাতে (৭ জানুয়ারি) তাকে মৃত ঘোষণা করে ইউনাইটেড হাসপাতাল। এতে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টিকে সন্দেহের চোখে দেখছেন। তারা বলছেন, পিআইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রেখে ৮ দিন পর রোববার (৭ জানুয়ারি) রাতে আয়ানকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। টার্গেট করেই নির্বাচনের দিনটি হাসপাতাল বেছে নিয়েছে, যাতে গণমাধ্যমে বিষয়টি কম প্রচার পায়।
শোকাহত পরিবার জানায়, গত ৩১ ডিসেম্বর ঘটনার পর থেকে শিশুটির আর জ্ঞান ফেরেনি। এরমধ্যে আয়ানের বাবা-মাকে ডেকে চিকিৎসকরা জানিয়ে দিয়েছিলেন, শিশুটির শরীরে বেশিরভাগ অঙ্গ প্রতঙ্গ ডেথ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় বাঁচার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
শিশুটির বাবা শামীম আহমেদ কনকর্ড গ্রুপের সেলস বিভাগের একজন কর্মকর্তা। তিনি জানান, গত ৩১ ডিসেম্বর সকালে মাদানি এভিনিউতে অবস্থিত ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আয়ানকে সুন্নাতে খৎনা করাতে নিয়ে যায় তার পরিবার। ওইদিনই সকালে চিকিৎসকদের পরামর্শে আয়ানকে অ্যানেসথেসিয়া দিয়ে খৎনা করা হয়। এরপর আয়ানের অবস্থা আরও গুরুতর হয়। তাৎক্ষণিক ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাড়িতে করেই গুলশান-২ এ ইউনাইটেড হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়।
তিনি জানান, গত ৮ দিনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের সঠিক কোনো তথ্য জানায়নি। সে বেঁচে আছে কিনা স্পষ্ট করে তাদের কিছু বলা হয়নি। গত ৮ দিনেও আয়ানের জ্ঞান ফেরেনি। এনেসথেসিয়া প্রয়োগের ভুলের কারণে শিশু আয়ানের জীবন শেষ হয়ে গেলো।
কিউএনবি/আয়শা/০৯ জানুয়ারী ২০২৪,/সন্ধ্যা ৬:৩০