ডেস্ক নিউজ : গৌরীপুর পৌর শহরের গোলকপুর গ্রামে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাব্বি মিয়া (২৫) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তিনি মৃত সাইফুল ইসলামের ছেলে। মাকে তার শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতন ও হাত ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় অভিমানে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেন তার মা সজিদা বেগম।
এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় মামলা করেন। লাশের ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।
সজিদা বেগম জানান, তিনি তার পুত্রবধূ রোজিনা আক্তারকে আনতে যান পাশের বোকাইনগর ইউনিয়নের মমিনপুর গ্রামে। সেখানে যাওয়ার পর রোজিনার বাবা জামাল উদ্দিন, পুত্রবধূর চাচা কামাল উদ্দিন ও বাচ্চু মিয়াসহ পরিবারের লোকজন তাকে মারধর করেন। লাঠির আঘাতে হাত ভেঙে যায়। এ ঘটনার খবর পেয়ে অভিমানে লজ্জায় আমার ছেলে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করে।
পরিবার সূত্র জানায়, মমিনপুর গ্রামের মো. জামাল উদ্দিনের মেয়ে রোজিনার সঙ্গে রাব্বি মিয়ার দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গোপনে তারা বিয়েও করেন। রোজিনা আক্তার অন্তঃসত্ত্বা। রাব্বির বাড়ি থেকে জামাল উদ্দিন প্রায় ১০ দিন আগে রোজিনারকে তাদের বাড়ি নিয়ে যান।
বৃহস্পতিবার সকালে রাব্বি মিয়ার ভগিনীপতি মো. আতাহার মিয়া রোজিনাকে আনতে যান। তাকেও লাঞ্ছিত করে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর রাব্বি নিজেও তার বউ আনতে গেলে তাকে মারধর করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। বিকালে যান রাব্বির মা। তাকেও রোজিনার বাবা, চাচা ও পরিবারের লোকজন অসৌজন্যমূলক আচরণ ও কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এতে সজিদা বেগমের হাত ভেঙে যায়।
পরিবারের দাবি, এ ঘটনার খবর পেয়ে মায়ের অপমান সহ্য করতে না পেরে রাব্বি মিয়া তার বাড়িতে আত্মহত্যা করেন। ঘটনার পরপরই রোজিনা ও তার বাবাসহ পরিবারের লোকজন পালিয়ে গেছেন। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাহমুদুল হাসান।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শুভ সাহা জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার তার পরিবারের লোকজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কিউএনবি/অনিমা/১৩.১০.২০২৩/রাত ১১:৪৩