আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মিয়ানমারে চলমান জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়িয়েছে জান্তা সরকার। এর মধ্য দিয়ে চলতি বছরের আগস্টে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে তারা। স্থগিত করা হয়েছে নির্বাচনের কার্যক্রম। মঙ্গলবার (১ আগস্ট ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের ১ ফেব্রেুয়ারিতে মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। এ সময় আটক করা হয় অং সান সু চিসহ দেশটির রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নির্বাচিত সরকারের শীর্ষ নেতাদের। এভাবেই গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছ থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে জরুরি অবস্থা জারি করলেও যথা সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি দেয় জান্তা।
মিয়ানমারের এমআরটিভি টেলিভিশন জানিয়েছে, সোমবার (৩১ জুলাই) রাজধানী নেইপিদোতে বৈঠক করেছে জান্তা সরকার নিয়ন্ত্রিত জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা পরিষদ। বর্তমান পরিস্থিতি নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুকূল নয় জানিয়ে দেশে আরও ছয় মাসের জন্য জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেয় তারা। এই জরুরি অবস্থা আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে।
জান্তা সরকারের জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়ানোর এই ঘোষণা এটাই প্রমাণ করে যে, মিয়ানমারে সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের তাদের পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ নেই এবং সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে দেশে চলমান ব্যাপক বিরোধিতা দমনেও তারা ব্যর্থ। তাদের কাছে জনবল এবং বিপুল আকারের অস্ত্র থাকা সত্ত্বেও ক্রমবর্ধমান সশস্ত্র প্রতিরোধ ও অহিংস বিক্ষোভ জান্তা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে।
২০২১ সালের নির্বাচনে অং সান সু চির দল এনএলডি জয় পেয়ে সরকার গড়লে মিয়ানমারে পাঁচ দশকের সেনা শাসনের অবসান ঘটে। কিন্তু ফেব্রুয়ারির সেনা অভ্যুত্থান মধ্য দিয়ে জান্তা আবারও ক্ষমতা দখল করলে দেশজুড়ে চালু হয় জরুরি অবস্থা , যা এখনও চলমান।
কিউএনবি/আয়শা/০১ অগাস্ট ২০২৩,/বিকাল ৫:১৫