লাইফ ষ্টাইল ডেস্ক : পৃথিবীতে যত প্রকার ব্যায়াম আছে, তার মধ্যে সাঁতার শ্রেষ্ঠ ব্যায়াম। একটা সময় ছিলো যখন চারপাশে নদীনালার সংখ্যা বেশি থাকায় সাঁতার জানতো প্রায় সবাই। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এখনো ছোট থেকেই সাঁতার শেখার প্রবণতা আছে। কিন্তু আধুনিক শহুরে জীবনে কর্মব্যস্ততায় সাঁতার জানা মানুষের সংখ্যা দিনকে দিন কমছে।
কিন্তু সাঁতার শেখাটা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। সাঁতার জানলে পানিতে ডুবে যাওয়া থেকে জীবনকে রক্ষার পাশাপাশি পুরো শরীর সচল থাকে। এ ছাড়া শিশুদের নিরাপত্তার জন্যও সাঁতার শেখাটা জরুরি।
সাধারণত পাঁচ ধরনের সাঁতার আছে।
মুক্ত সাঁতার, চিত সাঁতার, বুক সাঁতার, প্রজাপতি সাঁতার এবং পার্শ্বসাঁতার। তবে ব্যায়াম হিসেবে মুক্ত, চিত ও বুক সাঁতারই উপযুক্ত।
১. দৈনিক ২০-৩০ মিনিট সাঁতার কাটলে ভবিষ্যতে হৃদরোগের ঝুঁকি ৩০-৪০ শতাংশ কমে যায়। এ ছাড়া কমে উচ্চ রক্তচাপও।
২. সাঁতার কাটলে শরীরের সব পেশির শরীরের সব পেশি একসঙ্গে কাজ করে। আর পানি সব দিক থেকে বাতাসের চেয়ে ১২ গুণ বেশি বাধা দিতে পারে বলে মানুষের শারীরিক সামর্থ্য বাড়াতে সহায়ক।
৩. শরীরের বিভিন্ন অঞ্চলে রক্ত চলাচল বাড়ায়। তার ফলে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ে। সঙ্গে বাড়ে কর্মক্ষমতা।
৪. নিয়মিত সাঁতার কাটা কমায় মানসিক অবসাদ বা উদ্বেগজনিত সমস্যা। কারণ সাঁতার কাটলে শরীরে এন্ডরফিন নামক একটি হরমোন তৈরি হয় যা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। মনকে প্রফুল্ল রাখে।
৫. আর্থ্রাইটিসের সমস্যা কিংবা হাঁটু, পায়ের ব্যথা থাকলে সাঁতার কাটতে পারেন। অনেক সময়ে এই ধরনের রোগে ব্যায়াম করতে সমস্যা হলেও সাঁতারে সমস্যা হয় না। অস্টিয়ো আর্থ্রাইটিসের মতো রোগে অস্থিসন্ধির যন্ত্রণা, আড়ষ্ট ভাবও কমাতে সাহায্য করে সাঁতার।
৬. সাঁতার কাটলে শরীরের বাড়তি ওজন দূর হয়। এ ছাড়া রীরের খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল বাড়ায়
৭. বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বার্ধক্যজনিত অনিদ্রাও দূর করে সাঁতার। ইনসমনিয়ার মতো সমস্যায় যাঁরা ভোগেন, তাঁরা নিয়মিত সাঁতার কাটলে ভাল ঘুম হবে।
সাঁতার কাটা নিঃসন্দেহে শরীরের জন্য উপকারী। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাঁতার কাটার সময় সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
১. একই সুইমিং পুল একাধিক মানুষ ব্যবহার করার ফলে অনেক সময়েই ক্ষতিগ্রস্ত হয় ত্বক। অ্যালার্জি, র্যাশ জাতীয় সমস্যা দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
২. অত্যধিক ক্লান্ত থাকলে, ঠান্ডা লাগলে কিংবা প্রচণ্ড গরম থেকে তেতেপুড়ে এলে সাথে সাথে সাঁতার কাটা ঠিক নয়। সামান্য বিশ্রাম নিয়ে সাঁতার কাটুন।
৩. সাঁতার কাটার সময়ে কখনওই মুখে চিউয়িং গাম জাতীয় কিছু রাখবেন না। এতে বিপদের আশঙ্কা থাকে
৪. রাতে সাঁতার কাটতে হলে পুলের অপেক্ষাকৃত আলোকিত জায়গায় সাঁতার কাটাই শ্রেয়
৫. ঝড়-বৃষ্টির সময় বা বিদ্যুৎ চমকালে সাঁতার কাটা থেকে বিরত থাকা উচিত।
৬. সাঁতার কাটার সময়ে লাইফগার্ডের নিয়মাবলি মেনে, তাঁর কথা শুনেই এগোনো ভাল
৭. যা সোরিয়াসিস জাতীয় ত্বকের রোগে ভোগেন যা চর্মরোগ আছে, তাঁদের সুইমিং পুলে সাঁতার কাটা উচিত নয়। এতে সমস্যা বাড়তে পারে।
কিউএনবি/অনিমা/৩১ জুলাই ২০২৩,/রাত ১১:০৫