আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ঘোষণায় এরদোয়ান বলেন, তুরস্কে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৫৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভূমিকম্প বিপর্যস্ত এলাকার অংশ হিসেবে ১০টি শহরে জরুরি অবস্থা ঘোষিত এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর ফলে সোমবারের ভূমিকম্পে দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্কে যে মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে তার মোকাবিলায় প্রয়োজন মতো ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারবে এরদোয়ান সরকার।
ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতদের স্মরণে তুরস্কে ইতোমধ্যে এক সপ্তাহের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এক টুইটার বার্তায় এ ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। বার্তায় এরদোগান বলেছেন, ‘৬ ফেব্রুয়ারি যে ভয়াবহ ভূমিকম্প সংঘঠিত হয়েছে, তার কারণে সাতদিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হলো। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশে আমাদের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।’
এদিকে আবহাওয়ার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় উদ্ধার কাজে গতি ফিরেছে তুরস্ক-সিরিয়ার সীমান্ত এলাকায়। বিভিন্ন দেশ থেকে এরই মধ্যে অঞ্চলটিতে আসতে শুরু করেছে সহযোগিতা। সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ৭.৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্প তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানে। এর ১১ মিনিট পরই আঘাত হানে ৭.৬ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প। তুরস্ক ছাড়াও এই ভূমিকম্প পাশের দেশ সিরিয়া, সাইপ্রাস ও লেবাননেও অনুভূত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) বলছে, এদিন ভোর ৪টা ১৭ মিনিটে সিরিয়ার সীমান্তবর্তী তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গাজিয়ানটেপ শহরে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল কাহরামানমারাস শহরে। প্রথম ভূমিকম্পের পর অন্তত ১০০টি আফটারশক অনুভূত হয়।
স্মরণকালের ভয়াবহ এ ভূমিকম্পে তুরস্ক ও সিরিয়ার হাজার হাজার ভবন মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। রেড ক্রিসেন্টের তথ্য মতে, তুরস্কে ধ্বংস হয়েছে ৫ হাজারের বেশি ভবন। আরও কয়েক হাজার ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছে।
তুরস্ক ও সিরিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে জরুরিভিত্তিতে মানবিক সহায়তা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব। এরইমধ্যে, ইরান, জার্মানি ও মেক্সিকোর পাঠানো সহায়তা পৌঁছেছে তুরস্ক ও সিরিয়ায়। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার কাজে সাহায্যের জন্য তুরস্কের ইস্তাম্বুলে জড়ো হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ।
তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর থেকে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে উদ্ধারকাজে বিধ্বস্ত অঞ্চলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত তারা। অনেকে দুর্যোগপূর্ণ ১০ প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে যেতে চেয়েছেন। শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে তুরস্ক ও সিরিয়া সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা। দেশ দুটিতে জরুরিভিত্তিতে মানবিক সহায়তা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
তুরস্ক ও সিরিয়ায় চিকিৎসক, উদ্ধারকর্মী এবং ত্রাণসামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা পাঠাতে শুরু করেছে বিভিন্ন দেশ। এরই মধ্যে ইরান ও মেক্সিকোর পাঠানো সহায়তা এসে পৌঁছেছে দামেস্ক বিমানবন্দরে। তেহরান ৪৫ টনের মতো সহায়তা পাঠিয়েছে। উদ্ধারকাজ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে সেনাসদস্যদের পাশাপাশি বিশেষ এক ধরনের ‘স্কোয়াড ডগ’ পাঠিয়েছে মেক্সিকো।
তুরস্কে চিকিৎসক, ওষুধ, উদ্ধারকর্মী ও ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়েছে ভারতও। জার্মানি, ইতালি থেকে অক্সিজেন, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও উদ্ধারকর্মী এসেছে আঙ্কারা ও দামেস্কে। গ্রিস সরকারের তরফ থেকে পাঠানো সহায়তা এরইমধ্যে তুরস্কে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুরস্ক ও সিরিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছে উদ্ধারকারী দল। ইসরাইলের পক্ষ থেকেও ট্রাকে করে দেশ দুটিতে সহায়তা পাঠানো হয়েছে। তাইয়ানও একশো সদস্যের উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে।
এদিকে উদ্ধারকাজে সহায়তা করতে তিন শতাধিক সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। ইউরোপীয় ইউনিয়নের তরফ থেকেও উদ্ধারকর্মী পাঠানোর কথা জানানো হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে ৬ কোটি ৯ লাখ মার্কিন ডলার ও নিউজিল্যান্ডের পক্ষ থেকে ৯ লাখ ৪৮ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত সিরিয়াকে প্রায় ১ কোটি ৩৬ লাখ মার্কিন ডলার সমমূল্যের মানবিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
কিউএনবি/আয়শা/০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩/রাত ৮:৩৫