ডেস্ক নিউজ : বাংলাদেশের যে পরিমাণ ঋণ আছে তা ফেরত দেয়া সমস্যা না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা আছে।
সোমবার (১০) যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক গ্রুপ ও আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলন শুরুর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি বলেন, “সম্প্রতি স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওর (আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা) যে কান্ট্রি রেটিং করেছে, এতো অসুবিধার মাঝেও তারা আমাদের আগের রেটিং ই বহাল রেখেছে এবং বলেছে আমাদের ভবিষ্যৎ স্ট্যাবল।
“ক্রেডিট এজেন্সিগুলি একটা জিনিসই দেখে যে, আপনি লোন শোধ দিতে পারবেন কিনা। তারা দেখে বলেছে যে, বাংলাদেশ পারবে।”
গভর্নর বলেন, “আমরা সব সময় বলেছি যে, আমাদের যে লোন আছে সেটা ফেরত দেয়া কোনো সমস্যা না। আমরা যে কোনো ইনেশিয়েটিভকে স্বাগত জানাই। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ ধরণের কোনোকিছু প্রয়োজন হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “ডিএসএসআই ২০২০ সালে আমাদের যত লোন ছিল পিছিয়ে দিতে চেয়েছিল। সমস্ত ডেভেলপিং কান্ট্রি যারা আইডিএ উইন্ডো থেকে লোন নেয় তাদের জন্য এটা করা হয়েছিল। একমাত্র বাংলাদেশ, আমরা এই অফারটা নেইনি। আমরা বলেছি আমাদের সামর্থ্য আছে। আমরা এ টাকা শোধ দিতে পারব এবং আমরা কিন্তু ওইটা নেইনি, শোধ দিয়েছি সময়মতো।
“আমি মনে করি, আমাদের এ মুহূর্তে যে লোন আছে, আমাদের টোটাল এক্সটার্নাল ডেবট টু জিডিপি ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ, যা পৃথিবীর মধ্যে সর্বনিম্ন। আমাদের যে থ্রেশহোল্ড সেটা কিন্তু অনেক উপরে, ৪৫ পার্সেন্ট যেতে পারে। সুতরাং এটা খুব বেশি এমন কিছু না। আমরা শোধ দিতে পারব, সেই সামর্থ্য আমাদের আছে।”
শ্রীলঙ্কাকে দেওয়া ঋণের টাকার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, “শ্রীলঙ্কাকে সোয়াপ অ্যারেজমেন্টের জন্য তিন দফায় ২০০ মিলিয়ন ডলার আমরা দিয়েছিলাম। তাদের অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে সময়মতো এ টাকা তারা পরিশোধ করতে পারেনি। দুই দফা তাদের সুযোগ দিয়েছি। আগামী ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে এ টাকা পরিশোধ করার কথা।”
শ্রীলঙ্কার সেন্ট্রাল ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে জানিয়ে রউফ তালুকদার বলেন, “তিনি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাসে যে ডেটলাইনগুলো আছে সে অনুযায়ী তারা আমাদের টাকা ফেরত দিয়ে দেবে।”
এটিকে একটি ভালো খবর বলে জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর।
কিউএনবি/অনিমা/ ১০.১০.২০২২/বিকাল ৫.৩৫