ডেস্ক নিউজ : রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ১২ তলাবিশিষ্ট একটি বহুতল ভবনের বাইরের অংশে প্লাস্টারের কাজ করতে গিয়ে মাচা ভেঙে ৪ রাজমিস্ত্রি নিচে পড়ে গেছেন। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজন মিস্ত্রি মারা গেছেন। আহত দুইজনের মধ্যে একজনকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আর আরেকজন পাশের ভবনের বারান্দার গ্রিল ধরে কিছুটা আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান।
বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা হাউজিংয়ের সি ব্লকের ৯ নম্বর রোডের ১৭ নম্বর বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- আব্দুল হাকিম (২১) ও মামুন হোসেন (১৭)। আহত দুইজনের মধ্যে একজনের নাম জানা গেছে। তার নাম মো. সেন্টু (৩৩)।
নিহত আব্দুল হাকিমের বাবার নাম আব্দুল খালেক মিয়া এবং মামুনের বাবার নাম আশরাফুল ইসলাম। তারা রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার বাসিন্দা।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দুপুর দেড়টার দিকে হঠাৎ করে বিকট শব্দ হয়। এ সময় আমরা দৌড়ে এসে দেখি ওপর থেকে মাচা ভেঙে তিনজন পড়ে আছে। এরমধ্যে দুইজন ঘটনাস্থলে মারা গেছেন। আরেকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এদের মধ্যে আরেকজন পাশের ভবনের বারান্দার গ্রিল ধরে প্রাণে বেঁচে গেছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, এই এলাকায় প্রতিটি ভবনই বহুতল ভবন। এ ভবনগুলো নির্মাণ করার সময় প্রায় ভবনগুলোতে সেফটি নেট কিংবা কোনো রকম সেফটি দেওয়া হয় না। প্রায় সময়ই এ এলাকায় ভবন নির্মাণের সময় ভবন থেকে শ্রমিক পড়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। বাড়ির মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারে না।
এ বিষয়ে তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মুজিব আহমেদ পাটোয়ারী বলেন, দুপুরের দিকে হঠাৎ করে জাতীয় জরুীর সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে আমাদের কাছে খবর আসে, মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা উদ্যানের একটি বহুতল ভবন থেকে পড়ে কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছে। আমরা খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে পুলিশ পাঠাই। সেখান থেকে দুইজনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে বাকি একজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
মুজিব আহমেদ আরও বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তাদের অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যেই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
কিউএনবি/অনিমা/০৩ অগাস্ট ২০২২, খ্রিস্টাব্দ/রাত ৯:৩৬