বাদল আহাম্মদ খান ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় এক শিক্ষার্থীকে বাঁচাতে গিয়ে আরমান (১৭) নামের অপর এক শিক্ষার্থী বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা গেছে। সোমবার (০৪ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের পানিশ্বর বাজারে এই ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া আরমান ওই ইউপির আকবর বাড়ির এলাই মিয়ার ছেলে ও পানিশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। এই ঘটনায় আহত শিক্ষার্থী আখিঁ (১৪) কে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আখিঁ একই বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

স্থানীয়রা জানায়, পানিশ্বর বাজারের একটি ভবনে পানিশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক রাশেদুল ইসলাম প্রাইভেট কোচিং পড়ান। সোমবার ১১টার দিকে তিনি একটি ব্যাচে প্রাইভেট পড়াচ্ছিলেন। কিছুক্ষণ পর এরপরের ব্যাচে শিক্ষার্থী এসে জমায়েত হতে থাকেন। কিছু শিক্ষার্থী ভবনের ছাদের গেইট খোলা দেখে সেখানে গিয়ে হাটাহাটি করছিলেন। এসময় ছাদের উপর দিয়ে পল্লী বিদ্যুতের তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আখিঁ। এই খবর পেয়ে নিচতলা থেকে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সাথে ছাদে যান এএসসি পরীক্ষার্থী আরমান। সে ছাদে যাওয়ার পর অচেতন আখিঁকে উদ্ধার করতে গেলে আরমানও বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই সে মারা যান। অচেতন অবস্থায় আখিঁকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করানো হয়।
কোচিং সেন্টারের শিক্ষক রাশেদুল ইসলাম বলেন, আমার বাড়ি উপজেলার কালিকচ্ছে। সম্প্রতি পানিশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেছি। এই এলাকার নিজের কিছু নেই বলে এই ভবনে কোচিং পড়াই। ভবনের ছাদে আমি কোন দিন যায়নি। শিক্ষার্থীরা নিজেরাই ছাদে গিয়েছিল।আহত শিক্ষার্থী আখিঁ’র মামা আখতার হোসেন বলেন, প্রাইভেট স্যার অন্য শিক্ষার্থীদের পড়ানোর সময় আমার ভাগ্নি সহ ৬/৭জন ছাদে যায়। আমার ভাগ্নি প্রথমে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। তাকে বাচাঁতে গিয়ে ছেলেটি মারা গেল।সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসাইন বলেন, একশিক্ষার্থীকে বাচাঁতে গিয়ে আরেক শিক্ষার্থী মারা গেছে। বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।লাশ হাসপাতাল মর্গে রাখা আছে।
কিউএনবি/অনিমা/০৫.০৭.২০২২/দুপুর ২.৪৬