আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পাকিস্তান ক্রিকেটে আবারও রাজনীতির অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করার হুমকির বিপরীতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে কি না—এমন এক প্রশ্নের জবাবে নাকভি দেশের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নাম টেনে আনেন।
পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে ভারত বা আইসিসির কোনো হুমকিতেই তিনি কিংবা পাকিস্তান সরকার ভীত নয়। এ সময় সেনাপ্রধানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আর ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির সম্পর্কে তো আপনারা জানেনই, তিনি কখনোই ভয় পান না।
ক্রিকেটীয় দ্বন্দ্বে সেনাপ্রধানের নাম ব্যবহারের এই ঘটনাটি ক্রীড়ামহলে বেশ বিস্ময় তৈরি করেছে। মূলত ২০২৫ সালে ভারতের সঙ্গে সীমান্ত উত্তজনা বা ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সময় আসিম মুনিরকে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘ফিল্ড মার্শাল’ পদে উন্নীত করা হয়েছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আইসিসির সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার মুখে নিজেদের অবস্থান শক্ত বোঝাতে এবং জাতীয় সংহতির দোহাই দিতেই নাকভি এই সামরিক রেফারেন্স ব্যবহার করেছেন। তবে এর কয়েক ঘণ্টা পরেই পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে এবং ম্যাচ বয়কটের অবস্থান থেকে সরে আসে পাকিস্তান।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকের মধ্যে আলোচনার পর পাকিস্তান সরকার শেষ পর্যন্ত তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে। সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়, ক্রিকেটের চেতনা রক্ষা এবং বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রগুলোর অনুরোধে পাকিস্তান জাতীয় দল আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে।
আইসিসির চাপের মুখে পাকিস্তানের এই ‘ইউ-টার্ন’ এবং এর আগে সেনাপ্রধানকে জড়িয়ে নাকভির করা মন্তব্য নিয়ে এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে চলছে ব্যাপক সমালোচনা।
সূত্র: এনডিটিভি।
কিউএনবি/আয়শা/১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/বিকাল ৪:০৮