রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
জার্মানির গণতন্ত্র আবারও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে: প্রেসিডেন্ট স্টাইনমায়ার ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা প্রায় ছেড়েই দিয়েছে: ট্রাম্প কেন সম্ভাব্য মার্কিন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে কানাডা? হুতিদের ৯৭ অবস্থানে হামলার দাবি ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর এআই চীন-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ প্রায় বাঁধিয়ে দিয়েছিল, বিশ্লেষকদের সতর্কতা ফ্লাইদুবাইয়ের সেই ভারতীয় পাইলটকে ইসরায়েলের স্বাধীনতা দিবসে আমন্ত্রণ জানালেন নেতানিয়াহু আজ ঢাকার বাতাস অস্বাস্থ্যকর আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল দখলের খুব কাছাকাছি হুতি? মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ব্যর্থতার দায়ে টেনেসির কারাপ্রধানের পদত্যাগ সৌদির আরামকো তেল স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলার দাবি হুতিদের

পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় চরফ্যাশনে পর্যটনে নতুন সম্ভাবনা

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২৫ জুন, ২০২২
  • ২০০ Time View

ডেস্ক নিউজ : থই থই জলরাশি আর খরস্রোতের মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে জাতীয় স্থাপনা পদ্মা সেতু। স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালুর মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী চরফ্যাশন উপজেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে ঘিরে পর্যটন শিল্পের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এতদিন যোগাযোগ ব্যবস্থায় দীর্ঘ সূত্রিতার কারণে পিছিয়ে ছিল এখানকার পর্যটন খাত। পদ্মা সেতুকে ঘিরে এখন নৈসর্গিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ এ অঞ্চলকে পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করতে চলছে নানা সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ। 

বিচে বন্ধুদের সঙ্গে একটু প্রশান্তি খুঁজতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত পর্যটকদের ভিড় পড়ে যায় ঈদ পূজাসহ বিভিন্ন উৎসবকে ঘিরে। এতদিন ওই অঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক পর্যটকদের পছন্দের পর্যটন কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও ভ্রমণে আগ্রহ ছিল কম। পদ্মা সেতুর ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটকদের মধ্যে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত চরফ্যাশন উপজেলার পর্যটন আকর্ষণগুলোতে ভ্রমণে আগ্রহ বাড়বে।

অন্যদিকে বেতুয়ায় মেঘনার পাড়ে গড়ে ওঠা প্রশান্তি পার্কের রেস্টিং বেঞ্চ, বেতুয়া কায়াকিং পয়েন্ট আর গোলঘরসহ নদীর কিনারায় রেলিং ধরে চা ও কপি’তে চুমুক দিয়ে জলের আলতো ঢেউয়ে শত শত চিলের মাছ শিকারের চিত্র দেখতেও মন্দ লাগবে না কারোরই। বেতুয়ায় ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর বাস্তবায়নে নির্মিত বেড়িবাঁধের ঢালে ঘুরতে আসছে শত শত পর্যটক। নদী পথে যাতায়াতের কারণে অনেকে আবার আসতে চায় না।

চরফ্যাশন শহরে আছে জ্যাকব টাওয়ার, শেখ রাসেল স্কয়ার শিশুপার্ক। জ্যাকব টাওয়ারে উঠলে মনে হবে আকাশের কাছে অবস্থান, পুরো উপজেলা আপনার চোখের সামনে। সবুজের ছাদ। নীল আর সবুজের মাঝে প্রসারিত দৃষ্টি। সবুজ আকাশ পেরিয়ে নদীর রেখা। মেঘনা নদীর মাঝ দিয়ে সাগরমোহনার ভাসানচর পর্যন্ত থেকে থেকে চর। এসব চরে শীতে আসে পরিযায়ী পাখি। 

২২৫ ফুটের উচ্চতায় ১৬ তলাবিশিষ্ট জ্যাকব টাওয়ার পরিদর্শন করেই পর্যটকদের গন্তব্য থাকে বঙ্গপোসাগরের কুলঘেঁষে জেগে ওঠেছে দেশের অন্যতম পর্যটন স্পট কুকরি-মুকরি সী-বিচে। চরফ্যাশন থেকে বাস, মাইক্রো কিংবা মোটরসাইকেলে যেতে হবে কচ্চপিয়া ঘাট। সেখান থেকে ট্রলার, স্পিডবোট কিংবা লাইনের লঞ্চে কুকরি-মুকরি ম্যানগ্রোভ (শ্বাসমূলীয়) বনে যাওয়া যাবে। এ বনে হরিণ ছাড়াও নানারকম বন্যপ্রাণী এবং নদীতে ডলফিন জাতীয় ভোঁদর দেখা যাবে। মনে হবে সুন্দরবন। চারদিকে শত-সহস্রাধিক পাখির ডাক। খালে নৌকার দুই পাশে মাছের ঝাঁক সাঁতরে যায়। 

এ বনে আছে নারকেল বন, বিস্তীর্ণ বালিয়ারি বিচ। বন ফুল। বালুর চরে এক দৌড়ে ক্ষুধা লেগে যাবে। বেসরকারি সংস্থার লোকজন মাঝে-মধ্যে ছাতা বসিয়েছে পর্যটকদের একটু জিরিয়ে নেওয়ার জন্য।

কুকরি-মুকরির কেওরা ও ম্যানগ্রোভ বনে রয়েছে ২৭২ প্রজাতির উদ্ভিদ, চিত্রা হরিণ, বানর ও বুনো মহিশ সহ ৪৫ প্রজাতির প্রাণী এবং প্রায় ২০৯ প্রজাতির পাখি।  বাংলাদেশের মালদ্বীপ খ্যাত প্রকৃতির এ স্বর্গরাজ্যে পর্যটকদের জন্য রয়েছে রেস্টিং বেঞ্চ, ঝুলন্ত সেতু, জিপ ট্রাকিং, মাকরশার জাল, চাইনিজ রেস্তোরাসহ হোম স্টে সার্ভিস। এ কুকরি-মুকরি থেকেই আপনি আরও দক্ষিণের ঢালচর যেতে পারেন। ঢালচরেই আছে তাড়ুয়া সী-বিচ। নদীপথে, সবুজ বনের খালের দুই পাশে আপনার সঙ্গী হবে নানা রকম হাঁস, বক, পানকৌড়ি, হটটিটি আর মাছরাঙ্গা জলচর পাখির দল। 

শীতের সাগর মোহনা আর মেঘনা-তেঁতুলিয়ার জল শান্ত-স্বচ্ছ। হাত ডোবালে হাতের রেখা দেখা যায়। রাতের চাঁদ, দিনের সূর্য এই নীল জলের বুকে পড়ে ঝিলিক মারে। কিছু দূর যেতে না যেতে সবুজ দ্বীপ এখানে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে বিনোদনের পর্যাপ্ত সুযোগ ও পর্যটক আকর্ষণে আরও বহুমাত্রিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়, তাহলে কুকরি-মুকরি ও তাড়ুয়া সমুদ্র সৈকত এবং খেজুরগাছিয়াসহ বেতুয়া প্রশান্তি পার্কের পর্যটন এলাকা থেকেও সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে। 

চরফ্যাশন উপজেলা পরিষদ চরফ্যাশন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন আখন জানান, একসঙ্গে অনেক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে চরফ্যাসন উপজেলা একটি অসাধারণ জায়গা। তবে পদ্মা সেতুর মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হওয়ার পরে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা গেলে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে অন্যান্য জায়গার তুলনায় চরফ্যাসন উপজেলা কোনো অংশেই কম হবে না। এমনকি এই উপজেলাকে ঘিরে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে গড়ে উঠতে পারে একটি এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন।

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাহুল আল নোমান জানিয়েছেন, চরফ্যাশনের উপকূলীয় অঞ্চলকে বিনোদনের অবকাঠামোয় গড়ে তোলার জন্য উপকূলীয় অঞ্চলকে সম্ভাবনাময় পর্যটনের দ্বারপ্রান্তে নিতে উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। ইতোমধ্যে বিনোদনমূলক স্থাপনা নির্মাণ চলছে। এছাড়া কুকরি-মুকরি ও তারুয়া সমুদ্র সৈকতকে ইকো টুরিজমের আওতায় আনা হচ্ছে। পাশাপাশি স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালু হলে চরফ্যাশন উপজেলা পর্যটন শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।
 

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২৫.০৬.২০২২ খ্রিস্টাব্দ/বিকাল ৫:১৯

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit