শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকারকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষবিদায় ডিমের কুসুম খেলে কি হার্টের সমস্যা বাড়তে পারে? নাভি পিল্লের নোবেল জয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আইসিসিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কচ্ছপের স্বর্গ আলদাব্রা, সংখ্যায় ছাড়াল সেশেলসের মানুষকেও চীনের সংশোধিত প্রতিরক্ষা মোবিলাইজেশন আইনের আওতায় প্রায় সব খাত বর্বরতার পথে যুক্তরাষ্ট্র? ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড লাইভ সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র বিতর্ক দুর্গাপূজায় আতঙ্ক নয়, নিরাপত্তায় সজাগ থাকবে বিএনপি: গয়েশ্বর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে ঢাবিতে দাবা প্রতিযোগিতা চার তরুণের উদ্যোগে ‘সবুজ’ বাঁশবাড়ি, মুগ্ধ পরিবেশমন্ত্রী ঋতু পরিবর্তনে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে খাবেন যে ৫ খাবার

সাইকেল চালান, অজান্তেই কমছে শুক্রাণু!

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩০ Time View

লাইফ স্টাইল ডেস্ক : হার্ট ভালো রাখা, ওজন নিয়ন্ত্রণ, পেশির শক্তি বাড়ানো থেকে মানসিক চাপ কমানো, একাধিক উপকার রয়েছে নিয়মিত সাইক্লিংয়ে। দৌড়ের তুলনায় জয়েন্টের উপর চাপও কম। কিন্তু সাইকেলের প্যাডেলে যতক্ষণ পা রাখছেন, ততক্ষণ কি অজান্তেই পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যের উপর কোনও খারাপ প্রভাব পড়ছে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাইক্লিং মানেই বন্ধ্যত্ব নয়। সাধারণ বা মাঝারি মাত্রায় সাইক্লিং করলে পুরুষের ফার্টিলিটি নষ্ট হয়, এমন প্রমাণ নেই। 

কতক্ষণ সাইক্লিংয়ে সমস্যা?

সাইক্লিং সরাসরি বন্ধ্যত্বের কারণ নয়। ফার্টিলিটি রক্ষার জন্য পুরুষদের সাইক্লিং ছেড়ে দেওয়ারও প্রয়োজন নেই। তবে সাধারণ সিটে দীর্ঘক্ষণ সাইক্লিং করা বা একটানা কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত জোরে সাইক্লিং করলে পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যে প্রভাব পড়তে পারে।

একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, সপ্তাহে ৫ ঘণ্টা বা তার বেশি সাইক্লিং করা পুরুষদের মধ্যে শুক্রাণুতে ঘনত্ব কম এবং কম গতিশীল শুক্রাণুর ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। অর্থাৎ, সপ্তাহে দু’-তিন দিন অল্প সময় সাইকেল চালানোর সঙ্গে নিয়মিত দীর্ঘক্ষণ সাইক্লিংকে এক করে দেখার কারণ নেই।

সিটেই কি লুকিয়ে বিপদ?

দীর্ঘক্ষণ সাইকেলের সিটে বসে থাকলে শরীরের দুই পায়ের মাঝের অংশে, অর্থাৎ, পেরিনিয়ামে দীর্ঘ সময় চাপ পড়ে। সিটের চাপ ও ঘর্ষণের পাশাপাশি ওই অংশের তাপমাত্রাও বেড়ে যেতে পারে। অণ্ডকোষের আশপাশের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকলে শুক্রাণু তৈরির প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।

শুধু তাপ নয়, ভুল সিটের কারণে স্নায়ু ও রক্তনালীর উপরও চাপ তৈরি হতে পারে। দীর্ঘক্ষণ একই অবস্থায় বসে থাকলে ওই অঞ্চলে রক্তসঞ্চালন সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে। বারবার এমন হলে শুক্রাণুর সংখ্যা, গতিশীলতা এবং গঠনেও প্রভাব পড়তে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘক্ষণ সাইক্লিংয়ে অণ্ডকোষের তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে। অত্যন্ত কঠিন ও দীর্ঘ ওয়ার্কআউট শরীরে বাড়তি চাপ তৈরি করে, যা সাময়িকভাবে হরমোনের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। আবার সিট ঠিক না হলে পেরিনিয়ামের স্নায়ু ও রক্তনালীর উপর চাপ পড়তে পারে।

প্রভাবটা কখন বোঝা যায়?

এখানেও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আজ থেকে সাইক্লিং শুরু করে বা হঠাৎ কয়েক দিন বেশি সাইকেল চালিয়েই শুক্রাণুর মানে বড় পরিবর্তন দেখা যাবে, এমন নয়। শুক্রাণু তৈরি ও পরিণত হতে প্রায় আড়াই থেকে তিন মাস সময় লাগে। ফলে জীবনযাত্রায় কোনও পরিবর্তনের প্রভাব বীর্যের গুণমানে দেখা দিতে সাধারণত কয়েক সপ্তাহ নয়, কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

আরও একটি গবেষণায় অতিরিক্ত সাইক্লিংয়ের সঙ্গে বীর্যে প্রদাহজনিত উপাদান এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বৃদ্ধির সম্পর্ক পাওয়া গিয়েছে। এর ফলে শুক্রাণুর ঘনত্ব, গতিশীলতা ও গঠনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তাহলে সাইক্লিং কি ছেড়ে দিতে হবে?

একেবারেই নয়। বিশেষজ্ঞের মতে, প্রতিদিন ২০-৩০ মিনিটের মতো মাঝারি মাত্রায় সাইক্লিং সাধারণত নিরাপদ। বরং নিয়মিত শরীরচর্চা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সামগ্রিক শারীরিক ও যৌনস্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। তবে যাঁরা দীর্ঘক্ষণ সাইকেল চালান, তাঁদের কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। এমন সিট বেছে নিতে হবে যাতে পেরিনিয়ামে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে। একটানা দীর্ঘক্ষণ সিটে বসে না থেকে মাঝেমধ্যে বিরতি নেওয়া দরকার। সাইকেল চালানোর সময় প্রয়োজনমতো দাঁড়ালে ওই অংশের উপর চাপও কিছুটা কমে।

মূল বিষয় হল পেরিনিয়ামের উপর অতিরিক্ত চাপ না দেওয়া। যাঁরা বেশি সময় বা খুব জোরে সাইক্লিং করেন, তাঁদের সিট, বসার ভঙ্গি এবং বিরতির দিকে বিশেষ নজর দেওয়া উচিত।

যৌনস্বাস্থ্যের জন্য কেমন ব্যায়াম উপকারী?

পুরুষের ফার্টিলিটি ও যৌনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যধিক শরীরচর্চার চেয়ে নিয়মিত, মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম বেশি উপকারী। সপ্তাহে প্রায় ১৫০-১৮০ মিনিট শরীরচর্চা সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে।

অন্যদিকে প্রতিদিন অতিরিক্ত সময় ধরে অত্যন্ত কঠিন ওয়ার্কআউট করলে শরীরে বাড়তি শারীরিক চাপ তৈরি হতে পারে। তাই ফার্টিলিটি ভালো রাখতে শুধু একটি নির্দিষ্ট ব্যায়ামের উপর নির্ভর না করে প্রয়োজন পরিমিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপন।

সুতরাং, সাইকেলকে ভয় পাওয়ার কারণ নেই। তবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সাইকেল চালানোর অভ্যাস থাকলে সিট, বিরতি এবং শরীরের সংকেত, তিনটির দিকেই নজর রাখা জরুরি।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০৯ অক্টোবর ২০২৬,/রাত ১০:২৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit