নওগাঁ হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী: হাসপাতালে স্যালাইন মজুতের পরও রোগীকে না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ
সজিব হোসেন নওগাঁ প্রতিনিধি ।
Update Time :
রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬
২৬
Time View
সজিব হোসেন নওগাঁ প্রতিনিধি : হাসপাতালে স্যালাইন মজুত থাকার পরও রোগীকে তা না দিয়ে বাইরে থেকে স্যালাইন কিনতে বলার ঘটনায় রোগীর খরচের টাকা ফেরত দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট নার্সের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে এ ঘটনা দেখতে পান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার, ফার্মেসি ও রান্নাঘর ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিদর্শনে রোগীদের কাছ থেকে হাসপাতালের সার্বিক সেবার বিষয়ে সন্তোষজনক প্রতিক্রিয়া পেলেও বেশ কিছু অনিয়ম ও সীমাবদ্ধতা মন্ত্রীর নজরে আসে।
এক চিকিৎসক ৪৫ মিনিট দেরিতে দায়িত্বে আসায় তাঁর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও এখানে ১০০ শয্যার হিসাবে খাবার বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এ সংকট দূর করতে এবং খাবারের মান উন্নত করতে রোগীপ্রতি খাবারের বরাদ্দ ১৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫০ টাকা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর এই খাতে কোনো জবাবদিহিতা ছিল না। আমরা মাত্র ছয় মাসে এই খাতে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা ফেরানোর কাজ শুরু করেছি।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়াতে সরকার বড় ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। ডায়ালাইসিস সুবিধা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছানো, শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসকসহ জনবল সংকট দূর করতে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ নতুন জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্যে আড়াই হাজার নার্স ও আড়াই হাজার ফার্মাসিস্ট রয়েছেন। ডায়ালাইসিস সেবার মান উন্নত করার পাশাপাশি ঢাকার ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০টি এবং জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে ১০টি করে ডায়ালাইসিস বেড স্থাপন করা হবে। ইতিমধ্যে মেশিন কেনার টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী তিন মাসের মধ্যে জেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সেবা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, জেলা পর্যায়ে ৬০টি ডায়ালাইসিস মেশিন দৈনিক তিন শিফটে প্রায় ১৮০ জন রোগীকে সেবা দিতে পারবে। পাশাপাশি আগামী দুই বছরের মধ্যে উপজেলা পর্যায়েও ১০টি করে ডায়ালাইসিস বেড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের জনবল সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জনসেবা নিশ্চিত করতে খুব শিগগিরই ৫ হাজার নতুন চিকিৎসক নিয়োগের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা হবে। পাশাপাশি সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে আরও চিকিৎসক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা চলছে। নার্স ও ফার্মাসিস্টসহ আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের স্বাস্থ্য খাতে বড় ও দক্ষ জনবল যুক্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদনহীন কার্যক্রম এবং অনিয়ম বন্ধে কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, নিবন্ধনের শর্ত না মানলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও সিভিল সার্জনদের সমন্বয়ে দেশব্যাপী মোবাইল কোর্ট অভিযানও জোরদার করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতকে আরও সুসংগঠিত ও আধুনিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ধলু, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আ. ম. আখতারুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়ব্রত পালসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।