ডেস্ক নিউজ : ইসলামে বিয়ে কেবল একটি সামাজিক বন্ধন নয়, বরং দুটি জীবনের এক পবিত্র আত্মিক সূচনা। দাম্পত্য জীবনের এই নতুন অধ্যায় সুন্দর, বরকতময় ও মধুময় করতে আল্লাহ তাআলার সাহায্য কামনা করা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বাসর রাতে নফল নামাজ আদায় ও দোয়ার মাধ্যমে সংসারের পথচলা শুরু করা সাহাবিদের আমল দ্বারা প্রমাণিত।
রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বাসর রাতে নির্দিষ্ট কোনো নামাজ পড়ার সরাসরি হাদিস পাওয়া যায় না। তবে সাহাবিদের আমল থেকে বাসর রাতে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়া এবং বরকতের দোয়া করার দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। এটি পড়া অত্যন্ত উত্তম ও মুস্তাহাব, তবে ফরজ বা ওয়াজিব নয়। না পড়লে কোনো গুনাহ হবে না।
সাহাবিদের আমল ও হাদিসের উদ্ধৃতি
সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর কাছে এক ব্যক্তি এসে স্ত্রীর ভালোবাসা না পাওয়ার আশঙ্কার কথা জানালে তিনি বাসর রাতে স্বামী-স্ত্রী একসাথে দুই রাকাত নামাজ পড়ার ও বিশেষ একটি দোয়া পড়ার পরামর্শ দেন।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: «إِنَّ الْإِلْفَ مِنَ اللهِ، وَالْكُشْرَ مِنَ الشَّيْطَانِ، يُرِيدُ أَنْ يُكَرِّهَ إِلَيْكُمْ مَا أَحَلَّ اللهُ لَكُمْ، فَإِذَا أَتَتْكَ زَوْجَتُكَ، فَمُرْهَا أَنْ تُصَلِّيَ وَرَاءَكَ رَكْعَتَيْنِ»
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ‘পারস্পরিক ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে, আর ঘৃণা ও বিদ্বেষ শয়তানের পক্ষ থেকে আসে। শয়তান চায় আল্লাহ তোমাদের জন্য যা হালাল করেছেন তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয় করে তুলতে। তাই তোমার স্ত্রী যখন তোমার কাছে আসবে, তখন তাকে তোমার পেছনে দাঁড়িয়ে দুই রাকাত নামাজ আদায় করতে বলো।’ (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক ১০৪৬০, তাবারানি ৮৯৯৩)
বাসর রাতের বরকতের বিশেষ দোয়া
নামাজ শেষে স্বামী-স্ত্রী উভয়ে মিলে নিম্নোক্ত দোয়াটি পাঠ করবেন—
اللَّهُمَّ بَارِكْ لِي فِي أَهْلِي، وَبَارِكْ لَهُمْ فِيَّ، اللَّهُمَّ ارْزُقْنِي مِنْهُمْ، وَارْزُقْهُمْ مِنِّي، اللَّهُمَّ اجْمَعْ بَيْنَنَا مَا جَمَعْتَ فِي خَيْرٍ، وَفَرِّقْ بَيْنَنَا إِذَا فَرَّقْتَ إِلَى خَيْرٍ
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা বারিক লি ফি আহলি, ওয়া বারিক লাহুম ফিইয়া, ওয়ারযুক্বনি মিনহুম, ওয়ারযুক্বহুম মিন্নি। আল্লাহুম্মাঝমা’ বাইনানা মা ঝামা’তা ফি খাইরিন, ওয়া ফাররিক্ব বাইনানা ইযা ফাররাক্বতা ইলা খাইরিন।
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আপনি আমার জন্য আমার স্ত্রীর মধ্যে বরকত দান করুন এবং তার জন্য আমার মধ্যে বরকত দান করুন। আমাকে তার থেকে (সন্তানাদির) রিজিক দিন এবং তাকেও আমার থেকে রিজিক দিন। হে আল্লাহ! এতদিন আমাদের একসাথে রাখেন কল্যাণের ওপর একত্রিত রাখুন, আর যখন আমাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটাবেন তখন কল্যাণের সাথেই বিচ্ছেদ ঘটান।’
স্ত্রীর জন্য দোয়া বিশ্বনবীর শিক্ষা
নবীজি (সা.) নববিবাহিত স্ত্রীকে ঘরে আনার পর তার মাথায় হাত রেখে বরকতের দোয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন কোনো নারীকে বিয়ে করে, সে যেন স্ত্রীর মাথার সামনের চুলে ধরে, আল্লাহর নাম নেয় (বিসমিল্লাহ বলে) এবং বরকতের দোয়া করে। আর এই দোয়া পড়ে—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَمِنْ شَرِّ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা ওয়া খাইরা মা ঝাবালতাহা আলাইহি, ওয়া আউজুবিকা মিন শাররিহা ওয়া মিন শাররি মা ঝাবালতাহা আলাইহি।’
অনুবাদ: ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে তার কল্যাণ ও তার স্বভাবগত ভালো দিকগুলো কামনা করছি। আর তার অনিষ্ট ও স্বভাবগত খারাপ দিকগুলো থেকে আপনার আশ্রয় চাচ্ছি।’ (আবু দাউদ ২১৬০, ইবনে মাজাহ ১৯১৮)
দাম্পত্য জীবনের সূচনা যদি আল্লাহ তাআলার ইবাদত, জিকির ও আকুল প্রার্থনার মাধ্যমে হয়, তবে সেই বাঁধনে শয়তান ফাটল ধরাতে পারে না। বাসর রাতে অনাড়ম্বরভাবে দুই রাকাত নামাজ ও এই বিশেষ দোয়াগুলো পাঠ করার মাধ্যমে একটি সুখী, সুশৃঙ্খল ও বরকতময় ইসলামি পরিবারের ভিত্তি স্থাপিত হয়।
কিউএনবি/আয়শা/২৩ অগাস্ট ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:৫০