ব্রাজিলের মতো টানা তিন ফাইনাল খেলতে পারবে এমবাপ্পে-দেম্বেলের ফ্রান্স?
Reporter Name
Update Time :
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬
৩৩
Time View
স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপে ফ্রান্সের ইতিহাসও বেশ সমৃদ্ধ। ১৯৯৮ সালে নিজেদের মাটিতে প্রথম শিরোপা জয়ের পর ২০১৮ সালে রাশিয়ায় দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় তারা। এছাড়া ২০০৬ এবং ২০২২ সালে রানার্স আপ হয়ে প্রমাণ করেছে, বড় মঞ্চে ফ্রান্স সবসময়ই শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী।
সবকিছু বিবেচনায় বলা যায়, অভিজ্ঞতা ও তরুণ শক্তির মিশেলে গড়া এই ফ্রান্স দল আবারও বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম ফেবারিট। তবে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা পেরিয়ে শিরোপা জেতা সহজ হবে না—সেটা সকলেরই জানা।
দলের আক্রমণভাগের মূল ভরসা কিলিয়ান এমবাপ্পে, যিনি গত কয়েক বছরে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার সঙ্গে আছেন ব্যালন ডি’অর জয়ী উইঙ্গার উসমান দেম্বেলে, দারুণ ছন্দে থাকা বায়ার্ন তারকা মাইকেল অলিসে। এছাড়া তরুণ প্রতিভা এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা এবং অরেলিয়াঁ চুয়ামেনি দলের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
কোচ দিদিয়ের দেশমের অধীনে ফ্রান্স দীর্ঘদিন ধরেই একটি সুসংগঠিত দল হিসেবে খেলছে। তার কৌশলগত দক্ষতা এবং বড় ম্যাচে ঠাণ্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা ফ্রান্সকে আসন্ন বিশ্বকাপেও বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বর্তমান স্কোয়াডের গভীরতা, অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে ‘লে ব্লু’রা আবারও শিরোপার জোর দাবিদার।
বিশ্বকাপে ফ্রান্সের যে তারকাদের উপর নজর থাকবে
আক্রমণভাগ
ফ্রান্সের স্কোয়াডে সবচেয়ে বড় নাম নিঃসন্দেহে কিলিয়ান এমবাপ্পে। দলের অধিনায়ক হিসেবেও তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন সামনে থেকে। তার গতি, গোল করার ক্ষমতা ও বড় ম্যাচে পারফরম্যান্স ফ্রান্সের সাফল্যের চাবিকাঠি। তার পাশাপাশি ক্লাবে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে গোলের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন ২৭ বছর বয়সি এই তারকা। তার ফর্মের উপরই ফ্রান্সের বিশ্বকাপের পারফরমেন্স নির্ভর করছে। এছাড়াও, বিশ্বকাপে এমবাপ্পের রয়েছে দারুণ রেকর্ড। এখন পর্যন্ত দুইটি বিশ্বকাপে ১৪টি ম্যাচ খেলেছেন এমবাপ্পে। যেখানে তার গোল সংখ্যা ১২। আসন্ন বিশ্বকাপে আর ৫টি গোল করলেই ক্লোজাকে ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ গোল স্কোরার হয়ে যাবেন তিনি।গোলের পর উদযাপন করছে ফ্রান্সের ফুটবলাররা।
এদিকে এমবাপ্পের সঙ্গে আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন ব্যালন ডি’অর জয়ী পিএসজির তারকা উসমান দেম্বেলে। আছেন চলতি মৌসুমে উড়ন্ত ফর্মে থাকা বায়ার্ন মিউনিখের তারকা মাইকেল ওলিসে। এছাড়াও, আক্রমণভাগে নজর থাকবে একিতিকে, কোলো মুয়ানি, মার্কাস থুরাম, বারকোলা এবং দুয়ে।
মিডফিল্ড
ফ্রান্সের মাঝমাঠে নজর থাকবে শেরকি, রাবিওত, কামাভিঙ্গা, চুয়ামেনি, কোনে, কন্তেসহ আরও অনেকে। তবে সবচেয়ে বেশি নজর থাকবে ম্যানচেস্টার সিটির তারকা রায়ান শেরকির উপর। সিটিতে যোগ দিয়েই অসাধারণ ফর্মে রয়েছেন এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। আর অভিজ্ঞ এনগোলো কন্তে’তো প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভাঙতে পারদর্শী। দারুণ ফর্মে রয়েছেন শেরকি।
রক্ষণভাগ
বর্তমান সময়ে সেরা সব ডিফেন্ডারদের মধ্যে প্রথমেই নাম আসবে ফ্রান্সের কিছু খেলোয়াড়ের। আর্সেনালের সালিবা, বায়ার্নের উপামেকানো, লিভারপুলের কোনাতে কিংবা আল হিলালের থিও হার্নান্দেজ। সকলেই রয়েছেন দারুণ ছন্দে। এছাড়াও, রক্ষণভাগে আরও রয়েছেন চেলসির মাওলো গুস্তো, জুভেন্টাসের কালুলু, পিএসজির লুকাস হার্নান্দেজ।
গোলরক্ষক
গোলবারে সম্ভাব্য ভরসা মাইক ম্যাঁইয়াঁ, যিনি ইতোমধ্যেই ইউরোপের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। এছাড়াও পিএসজির লুকাস শেভালিয়ার এবং রেঁনের ব্রিস সাম্বা বর্তমান সময়ে ফ্রান্সের গুরুত্বপূর্ণ দুই গোলকিপার। আশা করা হচ্ছে, এই তিন গোলরক্ষককে নিয়েই দেশম বিশ্বকাপের দল সাজাবেন। ফ্রান্সের এক নম্বর গোলরক্ষক ম্যাঁইয়াঁ।
কোচের কৌশল
দলের কোচ দিদিয়ের দেশম অভিজ্ঞতা ও কৌশলগত দিক থেকে ফ্রান্সকে সবসময় এগিয়ে রাখেন। তার পরিকল্পনাতেই দলটি বড় টুর্নামেন্টে ধারাবাহিকভাবে সফল। সাধারণত, বর্তমান সময়ে দেশম ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে দলকে খেলাচ্ছেন। তবে প্রয়োজনে ৪-৩-৩ এবং ৪-৪-২ ফর্মেশনেও দলকে খেলিয়েছেন।
ফ্রান্স বেশ শক্তিশালী দল হলেও প্রতিটি দলেরই দুর্বলতাও রয়েছে। দেশমের অধীনে দলটি প্রায় ১৫ বছর ধরে খেলার ফলে তার কৌশল সম্পর্কে প্রতিপক্ষদের কিছুটা ধারণা থাকবে আগে থেকেই। যার প্রতিফলন আমরা ২০২৪ ইউরোতে দেখেছি। সেবার ফ্রান্স হট ফেবারিট হলেও, সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে তারা হেরে বিদায় নেয়।
বিশ্বকাপে ফ্রান্সের ইতিহাস
শুরুর বিশ্বকাপগুলোতে ফ্রান্স তেমন সফলতা পায়নি। শুরুর কিছু বিশ্বকাপে তো ফ্রান্স কোয়ালিফাই-ই করতে পারেনি। তবে ১৯৫৮ সালের আসরে ফ্রান্স প্রথম বড় সাফল্য পায়। সেই টুর্নামেন্টে জাস্ট ফঁতেনের অসাধারণ পারফরম্যান্সে ফ্রান্স সেমিফাইনালে পৌঁছে যায়, যা তখন তাদের সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল।
ফ্রান্সের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মুহূর্ত আসে ১৯৯৮ সালে। নিজেদের মাটিতে আয়োজিত বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে ৩–০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জেতে তারা। জিনেদিন জিদানের দুই হেডেড গোল সেই ম্যাচকে ইতিহাসে অমর করে রাখে।১৯৯৮ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ জিতেছিল ফ্রান্স।
২০০২ ও ২০১০ বিশ্বকাপে ফ্রান্স হতাশাজনক পারফরম্যান্স করে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। তবে ২০০৬ বিশ্বকাপে তারা আবার ঘুরে দাঁড়ায় এবং ফাইনালে পৌঁছায়। সেই বিশ্বকাপে ইতালির বিপক্ষে পেনাল্টিতে হেরে রানার্স-আপ হয়। ওই টুর্নামেন্টে জিদানের শেষ ম্যাচে লাল কার্ড বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনা।
আধুনিক ফ্রান্সের সোনালী অধ্যায় শুরু হয় ২০১৮ সালে। ২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপে ফ্রান্স দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। ফাইনালে তারা ক্রোয়েশিয়াকে ৪–২ গোলে হারায়। এই দলে ছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, যিনি ফাইনালে গোল করে ইতিহাসের অন্যতম তরুণ ফাইনাল গোলদাতা হন।
২০১৮ সালে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে ফরাসিরা।
২০২২ বিশ্বকাপে ফ্রান্স আবার ফাইনালে পৌঁছে যায়, কিন্তু আর্জেন্টিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে রানার্স আপ হয়। এমবাপ্পে ওই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়েন।