আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু হওয়ার প্রাক্কালে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে বহনকারী বিমানের নিরাপত্তা বেষ্টনীর দৃশ্য প্রকাশ পেয়েছে। পাকিস্তানের আকাশসীমায় তার বিমানকে ঘিরে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান পাহারা দিয়ে নূর খান বিমানঘাঁটি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার এই ঘটনা কূটনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
প্রকাশিত ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, পাকিস্তান বিমান বাহিনীর পাঁচটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মার্কিন বিমান বাহিনীর বোয়িং সি-৩২এ বিমানকে পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশের পর ঘিরে নিরাপত্তা দিচ্ছে। পরে বিমানটি ইসলামাবাদের কাছের নূর খান বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে। এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আলোচনার গুরুত্ব এবং চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের টানটান পরিস্থিতির মধ্যে এই আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি মুখোমুখি বৈঠকগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। আজকের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষের নেতৃত্ব দেবেন জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে রয়েছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার।
ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি। তবে আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই পারস্পরিক অবিশ্বাসের বিষয়টি সামনে এসেছে। ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে গালিবাফ বলেছেন, তাদের সদিচ্ছা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্ববর্তী আলোচনার অভিজ্ঞতা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও ব্যর্থতায় পূর্ণ ছিল।
এদিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার দুই পক্ষকে গঠনমূলকভাবে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে পৌঁছাতে তারা মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।
আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম, সামরিক সীমাবদ্ধতা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের অবাধ প্রবাহের মতো স্পর্শকাতর বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
অনিমা/১১ এপ্রিল ২০২৬,/রাত ১০:২১