ডেস্ক নিউজ : জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করছে বিএনপি। ফরম সংগ্রহ করতে শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নারী নেত্রীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। আজ ও আগামীকাল দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করবেন ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। বিএনপির দপ্তর সূত্র জানায়, ৩৬ আসনের বিপরীতে প্রথম দিনে ৫৪৪টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী মনোনয়ন ফরম বিক্রির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। তিনি জানান, আগ্রহীরা ১২ এপ্রিলের মধ্যে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দিতে পারবেন। রিজভী বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখতে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আওয়ামী লীগের শাসনামলে যারা নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাদের মধ্য থেকেই সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী বেছে নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলে থাকার কারণে বিএনপির নারী নেত্রীদের কারাবরণসহ নানা ধরনের নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। তাই দলীয় মনোনয়ন বোর্ড সবদিক বিবেচনা করে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করবে, এটাই সবার প্রত্যাশা।’ এ সময় সবাইকে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি। মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে বলেও জানান রিজভী। এর মধ্যে রয়েছে-জুলাই আন্দোলনে ভূমিকা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং জাতীয় সংসদে কার্যকরভাবে কথা বলার সক্ষমতা।
মনোনয়নপ্রত্যাশীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা দলের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে এসেছেন। আপনাদের প্রাণের একটি আকুতি আছে। সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এটা নিয়ে যাবেন এবং দলের যে পার্লামেন্টারি বোর্ড সেই বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে। সবকিছু বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ এ সময় বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন ও তারিকুল ইসলাম তেনজিং উপস্থিত ছিলেন।
রুহুল কবির রিজভী দলীয় মনোনয়ন ফরমের প্রথমটি তুলে দেন জেরিন দেলোয়ার হোসেনের হাতে। এরপর জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক কাজী আসাদুজ্জামান আসাদের সহধর্মিণী ফাতেমা আসাদের হাতে। পরে বিএনপির নিপুণ রায় চৌধুরী, আরিফা সুলতানা রুমা, সাবিনা খান, শওকত আরা আখতার, রোকেয়া চৌধুরী বেবী, মিনা বেগম, ফরিদা ইয়াসমিন, বেগম মেহেরুন্নেসা হক, পেয়ারা মোস্তফা প্রমুখের হাতে ফরম তুলে দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। প্রথম দিনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন ফরম আরও কিনেছেন-শিরিন সুলতানা, হেলেন জেরিন খান, বেবি নাজনীন, বিলকিস ইসলাম, সানজীদা ইসলাম তুলি, শাহজাদী আখতার পাঁপড়ি, কণ্ঠশিল্পী রিজিয়া পারভীন, নোয়াখালীর শাহিনুর বেগম সাগর, মহিলা দলের অ্যাডভোকেট আসমা আজিজ, ইডেন কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক রেহানা আক্তার শিরিন, যশোরের জাহানারা খাতুন, খুলনা-বাগেরহাটের ফারজানা রশিদ লাবণী, মুন্সীগঞ্জের রহিমা বেগম, চট্টগ্রামের ফরিদা আকতার, ডা. লুসি খান, বিবি হাজেরা সাদাত আহমেদ, মোহাম্মৎ শাহেনেওয়াজ চৌধুরী, ফেনীর নাজমা সুলতানা ঝংকার প্রমুখ।
এদিকে মনোনয়ন ফরম বিক্রির প্রথম দিনে নয়াপল্টনে নারী নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসে ফরম সংগ্রহ করেন তারা। এই তালিকায় রয়েছেন তৃণমূলের নেত্রী থেকে শুরু করে শিক্ষক, আইনজীবী, শিল্পী ও ছাত্রদলের সাবেক নেত্রীরা। ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে দেড় যুগের আন্দোলনে সম্পৃক্ত ‘দলের ত্যাগীরা’ সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পাবেন এমন প্রত্যাশা বিএনপির নারী নেত্রীদের। তারা বলছেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থাকা নারী নেত্রীদের যথাযথ মূল্যায়ন করবেন।
বিএনপির সাবেক মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে চিকিৎসক খন্দকার আখতারা খাতুন লুনা বলেন, ‘আমি বাবার পাশে থেকে এই দলকে দেখেছি। আমার গোটা পরিবারই বিএনপির রাজনীতি করে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাদের পথপ্রদর্শক, তার দর্শনেই আমরা সামনে এগিয়ে যাব।’শাহিনুর বেগম সাগর বলেন, ‘২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে নোয়াখালী-৪ আসন থেকে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছিলাম। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে আমি সর্বোচ্চ দিয়ে রাজপথে লড়েছি। আশা করি এবার মূল্যায়িত হব।’
আরিফা সুলতানা রুমা বলেন, ‘বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলাম। আশা করি তারই ভিত্তিতে দল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। নতুনদের ভিড়ে যেন আমরা হারিয়ে না যাই।’রেহানা আক্তার শিরিন বলেন, ‘বিগত সময়ে জীবনের মায়া না করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ডাকা একদফা দাবি বাস্তবায়নে রাজপথে লড়াই করেছি। প্রতিটি কর্মসূচি সফল করেছি। নারী সংরক্ষিত আসনে সুযোগ পেলে তরুণ প্রজন্মের চিন্তাভাবনা নিয়ে কাজ করব, নারীদের অধিকার নিয়ে কথা বলব।’
আসমা আজিজ বলেন, ‘ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে সম্মুখযোদ্ধা ছিলাম, একাধিকবার পেটুয়া বাহিনীর দ্বারা হামলা এবং মিথ্যা বিস্ফোরক মামলার আসামি হয়েছি। জুলাই আন্দোলনে আহত হয়েছি। তারপরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছি।’ দলের কাছে আমার একটাই প্রত্যাশা, ডেডিকেশন ও এডুকেশন দেখে যেন মূল্যায়ন করা হয়।’
কিউএনবি/আয়শা/১১ এপ্রিল ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:৫০