বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শতাধিক মিসাইল-ড্রোন দিয়ে মার্কিন-ইসরায়েলি টার্গেটে ইরানের তাণ্ডব নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করলেন ফখর জামান ঝালকাঠি আঞ্চলিক মহাসড়কে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন নওগাঁর পোরশায় স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন স্কালোনি / ১০০০ গোল মেসির জন্য সময়ের ব্যাপার মাত্র, তার বিশ্বকাপে খেলা হবে সৌভাগ্যের ‘ইরান যুদ্ধের কারণে চরম দারিদ্র্যের কবলে পড়তে পারে উপসাগরীয় অঞ্চলের ৪০ লাখ মানুষ’ বিদেশিদের জন্য ভিসার মেয়াদ বাড়াল ফিলিপাইন দুর্গাপুরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে আবারো প্রশাসনের অভিযান বিদেশ থেকে এসে বাসন মাজছেন প্রিয়াংকা? পুনম কি অন্তঃসত্ত্বা, ছবি ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে

ব্রিটিশদের পতন ঘণ্টা বাজায় সুয়েজ, হরমুজ কি আমেরিকার জন্য একই পরিণতি বয়ে আনবে?

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬
  • ২৯ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইতিহাসের চাকা কি আবার ঘুরে আসছে? ১৯৫৬ সালের সুয়েজ সংকট যেভাবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পতনের ঘণ্টা বাজিয়েছিল, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের ‘হরমুজ প্রণালি’ কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সেই একই পরিণতি বয়ে আনবে? মিডল ইস্ট আইয়ের এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য।

সুয়েজ ১৯৫৬: ব্রিটিশ আধিপত্যের অবসান 

১৯৫৬ সালে মিশরের প্রেসিডেন্ট জামাল আবদেল নাসের সুয়েজ খাল জাতীয়করণ করলে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও ইসরাইল সামরিক অভিযান চালায়। যুদ্ধে তারা জিতলেও রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হয়। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং বিশেষ করে আমেরিকার চাপে ব্রিটেনকে পিছু হটতে হয়। ওই ঘটনা ব্রিটিশ পাউন্ডের মান কমিয়ে দেয় এবং বিশ্ব রাজনীতিতে লন্ডনের একক আধিপত্যের অবসান ঘটায়। এরপর থেকেই আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান নিয়ন্ত্রক হিসেবে আবির্ভূত হয়।

বর্তমান প্রেক্ষাপট ও হরমুজ সংকট 

বিশ্লেষকরা বলছেন, ৭০ বছর পর আজ আমেরিকা ঠিক একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি। ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব ওয়াশিংটনকে সংকটে ফেলেছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে যায়। ইরান যদি এই পথ বন্ধ করে দেয় বা বিঘ্ন ঘটায়, তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে ধস নামবে, তা সামলানোর সক্ষমতা বর্তমান আমেরিকার নেই বললেই চলে।

যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বলতা যেখানে 

১. বিশাল ঋণ: ১৯৫৬ সালে ব্রিটেনের যা ঋণের বোঝা ছিল, আজ আমেরিকার তার চেয়েও বেশি। প্রায় ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণের চাপে জর্জরিত ওয়াশিংটনের পক্ষে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালানো প্রায় অসম্ভব। 

২. সামরিক অতি-বিস্তার: ইউক্রেন থেকে দক্ষিণ চীন সাগর—সবখানেই এখন মার্কিন সামরিক উপস্থিতি প্রয়োজন। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আগের মতো সর্বশক্তি নিয়োগ করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। 

৩. আঞ্চলিক শক্তির উত্থান: ১৯৫৬ সালের মিশরের তুলনায় বর্তমানের ইরান সামরিকভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক মিত্রদের (প্রক্সি নেটওয়ার্ক) কারণে আমেরিকা চাইলেই সরাসরি যুদ্ধে জয় নিশ্চিত করতে পারছে না।

ইসরাইল ও ফিলিস্তিন ইস্যু 

মিডলইস্ট আইয়ের বিশ্লেষণে দাবি করা হয়, ইসরাইলের সামরিক আধিপত্য মূলত মার্কিন সমর্থনের ওপর টিকে আছে। যদি হরমুজ সংকটের কারণে আমেরিকার প্রভাব কমে যায়, তবে ইসরাইলের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়বে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তির পিছুটান শুরু হলে ইসরাইলের মতো রাষ্ট্রগুলো দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে হিমশিম খাবে, যা ফিলিস্তিন প্রশ্নে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

ইতিহাস সাক্ষী দেয় যে, কোনো সাম্রাজ্য একদিনে ধ্বংস হয় না। যখন কোনো শক্তির সামরিক ব্যয় তার রাজনৈতিক কৌশলের চেয়ে বেড়ে যায় এবং অর্থনৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে, তখনই পতনের শুরু হয়। সুয়েজ খাল যেমন ব্রিটিশদের দম্ভ চূর্ণ করেছিল, হরমুজ প্রণালিও হয়তো মার্কিন একক আধিপত্যের অবসানের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কোনো নতুন শক্তির উত্থান নয়, বরং এই অঞ্চল এখন বহুমুখী শক্তির (Multipolar world) দিকে ধাবিত হচ্ছে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২৮ মার্চ ২০২৬,/বিকাল ৩:৫০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

April 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit