বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ন

সুয়েজ খাল অচল করে দিতে পারে ইরান সমর্থিত হুথিরা : রিপোর্ট

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬
  • ৩৭ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের ওপর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যৌথভাবে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। ওই দিন থেকেই পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে ইরানও। এভাবেই টানা ২৯তম দিন গড়িয়েছে যুদ্ধ। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা যদি আরও বৃদ্ধি পায়, তবে সরাসরি তেহরানের পক্ষে যুদ্ধে নামার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। 

মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন’কে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে হুথি সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের আন্ডারসেক্রেটারি মোহাম্মদ মনসুর জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি ইরানের ওপর হামলা আরও জোরালো করে, তবে হুথিরা হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না।

এদিকে, কাতারের দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরির মতে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধে তেহরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের অংশগ্রহণ বিশ্ব বাণিজ্যের দ্বিতীয় একটি প্রধান নৌপথকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরাকে এলমাসরি বলেন, ‘গত আড়াই বছরে আমরা দেখেছি যে হুথিদের যথেষ্ট ক্ষমতা রয়েছে। যদি তারা বাব আল-মান্দেব প্রণালী বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং এর ফলে লোহিত সাগর ও শেষ পর্যন্ত সুয়েজ খালে প্রবেশের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। তাহলে আমরা দু’টি প্রধান ‘চোকপয়েন্ট’ বা বাধাগ্রস্ত পয়েন্টের (হরমুজ প্রণালী ও সুয়েজ খাল) সম্মুখীন হব।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই রুটগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অপরিহার্য প্রধান বৈশ্বিক নৌপথ। তাই আমি মনে করি সেই দৃষ্টিকোণ থেকে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।’

তার মতে, হুথিদের পক্ষ থেকে নিরবচ্ছিন্ন হামলা ইসরায়েলের শক্তিশালী কিন্তু ‘অভেদ্য নয়’ এমন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।

তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হিজবুল্লাহর মিসাইল ও রকেট এবং ইরানের মিসাইলগুলো ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ভেদ করতে সক্ষম হয়েছে। এখন যদি ইসরায়েল ইয়েমেন থেকে আসা মিসাইলগুলো মোকাবিলা করতে বাধ্য হয়, তবে তা তাদের জন্য পরিস্থিতিকে উল্লেখযোগ্যভাবে আরও জটিল করে তুলবে।’

এলমাসরি জানান, ‘রাজনৈতিকভাবে-এবং হয়তো কিছুটা অদ্ভুতভাবে-ইসরায়েল এটিকে স্বাগত জানাতে পারে। কারণ তারা এই যুদ্ধকে বিস্তৃত ও দীর্ঘায়িত করতে চায়। তারা নিশ্চিত করতে চায় যেন ডোনাল্ড ট্রাম্প নিকট ভবিষ্যতে যুদ্ধের সমাপ্তি না ঘটান। কারণ ইসরায়েলের লক্ষ্যগুলো এখনও অর্জিত হয়নি।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর যৌথভাবে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। ওই দিন থেকেই পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে ইরানও। এভাবেই টানা ২৯তম দিন গড়িয়েছে যুদ্ধ। ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনায় অনবরত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। এতে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য। সেই সঙ্গে বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। এতে সারাবিশ্বে জ্বালানির বাজারে চরম অস্থিরতা শুরু হয়েছে।

সূত্র : আল-জাজিরা।

কিউএনবি/অনিমা/২৮ মার্চ ২০২৬,/বিকাল ৩:৪১

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit