বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন

ইরানি শাসনব্যবস্থা এখনো যে কারণে ভেঙে পড়েনি

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬
  • ২৩ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রায় এক মাস হতে চলল এবং গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন।

এরপরের সময়গুলোতে একে একে ইরানের শীর্ষ নেতাদের অনেকেই নিহত হয়েছেন, গুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে একের পর এক শহর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো।

কিন্তু তা সত্ত্বেও ইরানের শাসনব্যবস্থা এখনো ভেঙে পড়েনি, এবং এমন পরিস্থিতিতেও দেশটির শাসনব্যবস্থা এখনো কেন ভেঙে পড়েনি – তা অবাক করেছে অনেককে।

কেউ কেউ ভেবেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় প্রথম দিনই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে, বিশেষ করে সর্বোচ্চ নেতার মুত্যুর খবর প্রকাশের পর, কিন্তু তা হয়নি। বরং, ইরানের শাসনব্যবস্থা এখনও অটুট আছে।

এর কারণ হিসেবে প্রথমেই কয়েকটি বিষয়ের উল্লেখ করা যেতে পারে – যেমন দেশটির শাসন কাঠামো এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি), যা ‘সমান্তরাল রাষ্ট্র’ কাঠামো হিসেবে পরিচিত, তার ওপর দেশটির নেতৃত্বের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ।

সেই সঙ্গে ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে ইরানে হামলা শুরুর আগে দেশটিতে চলা সরকার বিরোধী বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে তেহরান। ফলে, পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত স্থিতাবস্থায় রয়েছে। প্রথাগত বাহিনীগুলোও সক্রিয়। 

ইরানের রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতি অত্যন্ত জটিল। যদিও সর্বোচ্চ নেতা এখানে সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী, তবে এর পাশাপাশি একটি ‘সমান্তরাল রাষ্ট্র’ কাঠামো বিদ্যমান এখানে, সেটি হলো আইআরজিসি।

এই বাহিনী এমন একটি প্রতিষ্ঠান যার ক্ষমতা কেবল প্রথাগত সামরিক ম্যান্ডেটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। চলমান এ যুদ্ধে এবং গত বছরের জুনে ১২ দিনে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সংঘাতের সময় আইআরজিসির বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কমান্ডার নিহত হয়েছেন।

কিন্তু আইআরজিসি বারবারই বলে আসছে যে, তাদের কেউ নিহত হলে সেই পদে স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য অন্য আরেকজন সবসময় প্রস্তুত থাকেন। এছাড়া আইআরজিসি আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’কে নিয়ন্ত্রণ করে, যা প্রায় ১০ লাখ সদস্যের একটি স্বেচ্ছাসেবী মিলিশিয়া বাহিনী।

ভিন্নমত দমনে রাজপথে শক্তি প্রয়োগের জন্য প্রায়ই এ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। ইসরাইল জানিয়েছে যে, তারা বাসিজের কিছু চেকপোস্ট লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। কিন্তু তাতে আধাসামরিক বাহিনী বাসিজের নিয়ন্ত্রণ খর্ব হয়নি।

চলতি সপ্তাহে তেহরান থেকে পাওয়া খবরে জানা যাচ্ছে, বাসিজ বাহিনী এখনও বিভিন্ন শহরে বেশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, এমনকি তারা সড়কে গাড়ি থামিয়ে তল্লাশির কাজ করছে নিয়মিতভাবে।

নিয়ন্ত্রণে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, নেই ইন্টারনেট

এছাড়া বছরের শুরুতে যে টানা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছিল ইরানের বিভিন্ন শহর, সেটি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে একেবারে স্থিমিত হয়ে পড়েছে।

একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ক্রমাগত হামলায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে মানুষের মনে, একইসঙ্গে, কর্তৃপক্ষও মানুষজনকে বাইরে বের হতে নিরুৎসাহিত করছে।

কর্তৃপক্ষ দেশের ভেতরের মানুষকে সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও বিবৃতি, এবং মোবাইল ফোনে গণ-এসএমএস পাঠিয়ে রাজপথে আন্দোলনে না নামার জন্য সতর্ক করে আসছে।

একই সঙ্গে নেই ইন্টারনেট। দেশটির বহু মানুষ আজকের দিনটিকে ইন্টারনেট বিহীন ৬০০ তম ঘণ্টা হিসেবে পালন করছেন।

এছাড়া ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, সেইসঙ্গে সরকারি নজরদারি ও নানা জরিমানার ভীতি থাকায় বিক্ষোভকারীদের নিজেদের মধ্যে আন্দোলন সমন্বয় করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

যেকারণে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে বড় ধরনের কোনো সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভ দেখা যায়নি।

এর উল্টোপাশে, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রতিদিন রাতে বিভিন্ন শহরে সরকারের সমর্থকদের সমাবেশ দেখানো হচ্ছে।

নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে নিয়ে প্রশ্ন-গুঞ্জন

এদিকে মার্চের শুরুতে উত্তরাধিকারী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে এখনও জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

এখন পর্যন্ত ইরানি সংবাদমাধ্যমে কেবল তার পাঠানো কয়েকটি লিখিত বার্তা দেখা গেছে। এর মধ্যে ইসরাইল তাকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘোষণা দিয়ে রেখেছে। ফলে নতুন সর্বোচ্চ নেতার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও গুঞ্জনের খবর জানা যায়।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২৫ মার্চ ২০২৬,/রাত ১০:৫৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

March 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit