স্পোর্টস ডেস্ক : শৈশবেই পরিচয়, সেখান থেকেই প্রেম, বিয়ে এবং একসঙ্গে পথ চলার শুরু—লিওনেল মেসি এবং আন্তোনেলা রোকুজ্জোর সম্পর্কটা যেন এক রূপকথার গল্পের মতোই। এমনকি মেসির বর্ণিল ফুটবলীয় ক্যারিয়ারটাও কোনো রূপকথার গল্পের চেয়ে কম কিছু না।
আন্তোনেলার জন্য বিদেশে যাওয়া সহজ ছিল না। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পরিবার এবং বন্ধুদের ছেড়ে বিদেশে যাওয়া তার জন্য ছিল সবচেয়ে কঠিন অভিজ্ঞতা। তবে এই কঠিন সময়ে তিনি শিখেছেন নতুন পরিবেশে মানিয়ে চলা এবং নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলা।
মেসির ক্যারিয়ারের প্রতিটি ধাপে আন্তোনেলা তার পাশে ছিলেন। মেসির প্রতিটি উত্থান-পতনের সাক্ষী ছিলেন, কাছে থেকে তার সুখ-দুঃখের অংশীদার হয়েছেন। বার্সেলোনায় মেসির ক্যারিয়ারের সেরা সময়ের পর পিএসজি এবং ২০২৩ সালে ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেওয়ার পরেও মেসির সঙ্গে পরিবার নিয়ে নতুন জীবন শুরু করেন রোকুজ্জো।
এ পথচলায় তাদের পরিবারও বড় হয়েছে। ২০১২ সালে প্রথম সন্তান থিয়াগো, ২০১৫ সালে দ্বিতীয় ছেলে মাতেও, এবং ২০১৮ সালে তৃতীয় ছেলে সিরোর জন্ম হয়। তবে পরিবারের কাছ থেকে দূরে থাকা কখনোই সহজ ছিল না আন্তোনেলার জন্য। তিনি বলেন, জীবনের কঠিন মুহূর্তগুলোতে পরিবারের পাশে না থাকাটা তার জন্য অনেক কষ্টের ছিল।
তবে নতুন জায়গায় নতুন মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্কও তাদের শক্তি হয়ে উঠেছে। সতীর্থদের পরিবারই হয়ে উঠেছে তাদের পরিবার। জর্দি আলবা, সের্হিও বুসকেটস, লুইস সুয়ারেজ এবং ফ্র্যাব্রিগাসের সঙ্গে তারা উৎসব ও বিশেষ মুহূর্তগুলো ভাগ করেছেন।
তাদের দীর্ঘ যাত্রার সবচেয়ে আবেগময় মুহূর্ত আসে ২০২২ সালে কাতারে, যখন মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ জয় করেন। পরিবারের উপস্থিতিতে মেসির বহু বছরের স্বপ্ন পূর্ণতা পায়। তার ফুটবলীয় ক্যারিয়ারটাই যেন পূর্ণতা পায় সোনালী সেই ট্রফির ছোঁয়ায়।
কিউএনবি/আয়শা/২৫ মার্চ ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:০০