মোঃ আফজাল হোসেন, দিনাজপুর প্রতিনিধি : দেশের উত্তর অঞ্চলের দিনাজপুরের মধ্যপাড়া পাথর খনিতে জিটিসি’র অধীনে কর্মরত সাবেক দুস্থ্য ও অসহায় শ্রমিক পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরন। গতকাল রবিবার বেলা সাড়ে ১১ টায় মধ্যপাড়া পাথর খনির সন্মুখে অবস্থিত জিটিসি’র চ্যারিটি হোমে সামাজিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঈদ উপলক্ষ্যে জার্মানীয়া-ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) এর সাবেক দুস্থ্য ও অসহায় খনি শ্রমিক পরিবারদের মাঝে ঈদ বস্ত্র, উপহার সামগ্রী সহ নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে।
মধ্যপাড়া পাথর খনির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জার্মানীয়া-ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম জিটিসি’র নির্বাহী পরিচালক মোঃ জাবেদ সিদ্দিকী এর পক্ষে পরিবারগুলোর মাঝে ঈদবস্ত্র, উপহার সামগ্রী সহ নগদ অর্থ বিতরন করেন উপ-মহাব্যবস্থাপক মোঃ জাহিদ হোসেন। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, মধ্যপাড়া পাথর খনির ব্যবস্থাপনা, রক্ষনাবেক্ষণ এবং উৎপাদন কাজে নিয়োজিত দেশীয় একমাত্র মাইনিং কোম্পানী জার্মানীয়া কর্পোরেশন লিমিটেড ও বেলারুশ কোম্পানী এর যৌথ প্রতিষ্ঠান জার্মানীয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) সংশ্লিষ্ট খনি এলাকায় মসজিদ, মাদ্রাসা এতিমখানা সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সহায়তা প্রদান সহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এরই অংশ হিসেবে জিটিসি’র অধীনে চাকুরী করা খনির সাবেক দুস্থ্য এবং অসহায় শ্রমিক পরিবারকে বিগত বছরগুলোর ন্যায় চলতি বছরেও পবিত্র রমজানের পুরো মাসের জন্য খাদ্য সামগ্রী এবং ২ টি ঈদ উপলক্ষ্যে ঈদবস্ত্র, ঈদ সামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা কার্যক্রম চালাচ্ছে জিটিসি।
ঈদ সামগ্রী গ্রহন করতে আসা মোঃ রোকন জানান, তার বাবা জিটিসি’র অধীতে খনিতে কাজ করতেন। তিনি হঠাৎ করে বাড়ীতে অসুস্থ্য হয়ে মৃত্যু বরণ করলে, তারা অসহায় হয়ে পড়েন। জিটিসি কর্তৃপক্ষ তাকে খনিতে চাকুরী দিয়েছে। জিটিসি তার বোনের বিয়েতে আর্থিক সহায়তা করেছে এবং প্রতি রমজান মাসে এবং দুটি ঈদে উপহার সামগ্রী দিয়ে আসছে। সাবেক খনি শ্রমিকের স্ত্রী রোখসানা বেগম বলেন, আমার স্বামী খনিতে চাকুরী করতেন। একমাত্র উপার্জক্ষম তিনি নাবালক ৩ টি সন্তান রেখে বাড়ীতে অসুস্থ্য হয়ে মারা যান। আমরা অসহায় হয়ে পড়ি। সেই সময় আমাদের পাশে দাড়ায় জিটিসি কর্তপক্ষ। জিটিসি তার শিশু সন্তাদের লেখাপড়ার জন্য মাসিক উপবৃত্তি দিচ্ছেন এবং প্রতি রমজান মাসে পুরো মাসের খাদ্য সামগ্রী সহ নগদ অর্থ এবং দুটি ঈদে উপহার ও খাদ্য সামগ্রী সহ নগদ অর্থ সহায়তা অব্যাহত রেখেছেন। তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য জিটিসি কর্তপক্ষের উপর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য জিটিসি চ্যারিটি হোম থেকে খনিতে কর্মরত শ্রমিকদের উচ্চ শিক্ষায় অধ্যায়নরত ৫২ জন শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি প্রতদান করা হচ্ছে। এখানে সপ্তাহে ৫ দিন খনি এলাকার মানুষের জন্য ০১ জন অভিজ্ঞ এমবিবিএস ডাক্তার দ্বারা বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরামর্শ সেবা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বে-সরকারি কোম্পানিটি খনির উৎপাদনের দায়িত্ব নেওয়ার পর খনির উৎপান বৃদ্ধি পেয়েছে। জার্মানীয়া-ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম জিটিসি’র নির্বাহী পরিচালক মোঃ জাবেদ সিদ্দিকী এলাকার মানুষের জন্য নিবেদীত ভাবে সামাজিক কাজ করে যাচ্ছেন। যা ইতি পূর্বে কোন কোম্পানি করেন নি।
কিউএনবি/আয়শা/১৫ মার্চ ২০২৬,/বিকাল ৫:০০