এস কে সুজন ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : টানা কয়েকদিনের তীব্র দাবদাহে যখন জনজীবন বিপর্যস্ত, ঠিক তখনই ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলায় দেখা দিয়েছে চরম লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি। দিনে-রাতে মিলিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অতিমাত্রায় এই লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৫ থেকে ১৮ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছে না। বিশেষ করে রাতের বেলা ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে মানুষজন ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না। তীব্র গরমে শিশু ও বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। শহরের এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,এমনিতেই গরমে দোকানে বসা যাচ্ছে না, তার ওপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না।
ফ্রিজের মালামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, জেনারেটর চালিয়ে বাড়তি খরচ করতে গিয়ে ব্যবসার বারোটা বাজছে। এদিকে সামনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ চলে গেলে দীর্ঘ সময় আর দেখা মেলে না। মোমবাতি বা চার্জার লাইটের আলোয় এই তীব্র গরমে পড়াশোনা করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক শিক্ষার্থী।
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের বিষয়ে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ ডিজিএম এনামুল হক জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে। রানীশংকৈল উপজেলায় বিদ্যুতের যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতেই এলাকাভিত্তিক এই লোডশেডিং বা ‘লোডিং শেয়ারিং’ করতে হচ্ছে।
সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। এদিকে তীব্র গরম আর লোডশেডিংয়ের এই দ্বিমুখী সংকটে রানীশংকৈলবাসীর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করে এই অসহনীয় পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ।
কিউএনবি/আয়শা/২৮ জুন ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:১৫