শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ন

নেত্রকোনায় জাতীয় অগ্রাধিকারের রুফটপ সোলারে আহ্বান জা‌নি‌য়ে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি

শান্তা ইসলাম,জেলা প্রতিনিধি ,নেত্রকোনা ।
  • Update Time : রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৯ Time View

শান্তা ইসলাম,জেলা প্রতিনিধি ,নেত্রকোনা ‎ প‌রি‌বেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-‌নেত্রকোণার উদ্যোগে নেত্রকোনা পৌরসভার সামনে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। ব্যবহৃত ও অব্যবহৃত ছাদেই লুকিয়ে আছে জ্বালানি সমাধান- রুফটপ সোলারে জাতীয় অগ্রাধিকারের আহ্বান জা‌নি‌য়ে ২২ ফেব্রুয়ারি ফোরাম এর আহ্বায়ক আলী আমজা‌দ এর সভাপ‌তিত্বে উপ‌স্থি‌তি‌ত ছি‌লেন ডি‌ডিএল‌জি ও পৌর প্রশাসক আরিফুল ইসলাম সরদার, ময়মনসিংহ অনন্য চিত্র ফাউন্ডেশন এর নির্বাহী পরিচালক রেবেকা সুলতানা, ফোরামের সদস্য সচিব এআরএফবি চেয়ারম্যান দিলওয়ার খান।

বক্তব্য রাখেন এআরএফবি প্রোগ্রাম অফিসার পারভেজ কামাল, এআরএফবি সেক্রেটারি চন্দন নাথ চৌধুরী সহ ফোরামের নেতৃবৃন্দ। মানববন্ধন শেষে ফোরামের নেতৃবৃন্দ পৌর প্রশাসকের নিকট স্মারক লিপি হস্তান্তর করেন। সমাবেশে স্থানীয় সাংবাদিক, যুব প্রতিনিধি, নারী নেত্রী এবং পরিবেশ আন্দোলনের কর্মীরা অংশ নিয়ে জ্বালানি খাতের এই পরিবর্তনের পক্ষে সংহতি প্রকাশ করেন। ‎সমাবেশে মূল বক্তব্যে প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-নেত্রকাণা (FED-Netrokona) এর নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যয়বহুল ও আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা বর্তমানে দেশের অর্থনীতির ওপর বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এর বিপরীতে রুফটপ সোলার একটি পরিচ্ছন্ন, সহজলভ্য এবং অত্যন্ত কম ব্যয়বহুল সমাধান হওয়া সত্ত্বেও এটি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যথাযথ অগ্রাধিকার পাচ্ছে না। বক্তারা বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলেন যে, রুফটপ সোলার কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের জন্য ‘জ্বালানি গণতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার সুযোগ। ইউনিয়ন পরিষদ ভবন থেকে শুরু করে স্কুল, হাসপাতাল এবং গ্রামীণ বাজারগুলোর বিশাল অব্যবহৃত ছাদ যদি সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা যায়, তবে স্থানীয় পর্যায় থেকেই একটি বৃহৎ জ্বালানি বিপ্লব শুরু করা সম্ভব। ‎বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে বিপুল পরিমাণ ছাদ কোনো কাজে আসছে না।

সেখানে পরিকল্পিতভাবে সৌর প্যানেল স্থাপন করলে একদিকে যেমন জাতীয় গ্রিডের ওপর লোড-শেডিংয়ের চাপ কমবে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির নির্ভরতা হ্রাসের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে। এই রূপান্তর কেবল পরিবেশই রক্ষা করবে না, বরং স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ টেকনিশিয়ান ও উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থানের বিশাল বাজার সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে নারী ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য কমিউনিটি ভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা একটি সাশ্রয়ী ও ন্যায্য জ্বালানি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।‎

কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনের নিকট ৫-দফা জোরালো দাবি পেশ করেন। ‎দাবিসমূহ হলো—স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে (ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিটি কর্পোরেশন) রুফটপ সোলার সম্প্রসারণে সুনির্দিষ্ট নীতিগত ও আর্থিক বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে; প্রতিটি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ভবনের ছাদে বাধ্যতামূলকভাবে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে; সাধারণ মানুষের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, সরকারি ভর্তুকি এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তার গ্যারান্টি দিতে হবে; জ্বালানি রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে; এবং পরিবেশ ধ্বংসকারী জীবাশ্ম জ্বালানি ভিত্তিক মেগা প্রকল্পের পরিবর্তে স্থানীয়ভাবে বাস্তবায়নযোগ্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির রোডম্যাপ গ্রহণ করতে হবে। বক্তারা সতর্ক করে বলেন, স্থানীয় সরকারকে সম্পৃক্ত না করে কেবল কেন্দ্র থেকে নেওয়া পরিকল্পনা টেকসই হবে না। বাংলাদেশ যদি এখনই রুফটপ সোলারকে অবহেলা করে, তবে দেশ পুনরায় ব্যয়বহুল ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক জ্বালানি সংকটের আবর্তে নিমজ্জিত হবে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:১২

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

April 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit