বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৯ অপরাহ্ন

হাতে ভোটের কালি থাকলে কি অজু-গোসল হবে?

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫১ Time View

ডেস্ক নিউজ : অনেকে জানতে চান, নির্বাচনে ভোট দিতে গেলে জালিয়াতি ঠেকাতে আঙুলে ভোট কালি ব্যবহার করা হয়। ভোটের পর আঙুলে লাগানো এই কালি কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটা রং পরিবর্তন করে হয়ে যায় নীল। তারপর সাবান, তেল যাই দিয়ে ঘষুন না কেন ওই কালি আর সহজে ওঠে না। এ কালি নিয়ে অজুর বিধান কী?

এর উত্তরে ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, অজু-গোসলের সময় চামড়ায় বাঁধাহীনভাবে পানি পৌঁছাতে বাধা দেয় এমন যে কোনো কিছু থাকলে অজু হয় না। নির্বাচনে ভোট প্রদানের পর আঙ্গুলের মাথায় যে অমোচনীয় কালি ব্যবহার করা হয় তা চামড়ার ওপর কোনো প্রলেপ বা আবরণ তৈরি করে না, বরং এটি চামড়ার ভেতরে শোষিত হয়ে যায়। ফলে খুব সহজে সেটাতে তোলা না গেলেও অজু করার সময় পানি চামড়া পর্যন্ত পৌঁছাতে কোনো বাধা সৃষ্টি করে না।
তাই এ কালি হাতে নিয়ে অজু-গোসল-নামাজ আদায় করা যাবে। কিন্তু যদি চামড়ার ওপর প্রলেপ তৈরি করে তাহলে সেক্ষেত্রে নিয়ম হলো, যথাসম্ভব সেটাকে তুলে ফেলে অজু-গোসল করতে চেষ্টা করবে। যদি অত্যধিক চেষ্টার পরও সেই কালি তোলা সম্ভব না হয় তাহলে ওই অবস্থায়ই অযু-গোসল করে নামাজ আদায় করতে পারবে।
 

কালিতে ব্যবহৃত উপাদান

এখন জানার বিষয় হলো এ ভোট কালি থাকলে কি অজু হবে? আগে জানতে হবে যে, এই কালিতে সিলভার নাইট্রেট থাকে। যা আঙ্গুলে লাগানোর পরই চামড়ার তলার লবণের সংস্পর্শে এসে স্থায়ী হয়ে বসে যায়।

রোদের আলো পড়লে তা আরও চেপে বসে। ওই কালির মধ্যে অ্যালকোহল মেশানো থাকে। ফলে অল্প সময়েই শুকিয়ে যায়। তবে মূল রহস্য আছে সিলভার নাইট্রেট-এর মধ্যেই। এ ছাড়াও, আরও নানান ধরনের গোপন রাসায়নিক ও উপকরণ এই কালির মধ্যে থাকে।
 
যেহেতু ভোটগ্রহণের সময় জাল ভোট ঠেকানোর জন্য ভোটারদের আঙুলে এই কালি লাগিয়ে দেয়া হয়। এই অমোচনীয় কালিতে সিলভার নাইট্রেট থাকে। সেই সিলভার নাইট্রেট ত্বকের সংস্পর্শে এসে ত্বকের লবণের সঙ্গে মিশে যাওয়ায় এমন বিক্রিয়া করে, যা পানিতে ধুলেও মোছে না। জানা যায়, ওই কালির মধ্যে অ্যালকোহল মেশানো থাকে। সাধারণত এসব অ্যালকোহল হারাম জিনিস থেকে তৈরি হয় না।
 
অ্যালকোহল থাকায় অল্প সময়েই এই কালিটি শুকিয়ে যায়। রোদের আলোয় এই কালি শরীরের মধ্যে আরো সেঁটে যায়। কালিতে সিলভার নাইট্রেট যত বেশি পরিমাণ থাকবে, তত বেশি সময় দীর্ঘস্থায়ী হবে এই কালি। তবে এই কালি সাধারণত শরীরে আবরণ সৃষ্টি করে না। তাই ভোট দিতে গেলে কারো হাতে এই কালি লাগালেও অজু-গোসল শুদ্ধ হবে। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া ১/৪)।
 
এই কালি একটা প্রধান উপাদন হল রুপোর এক রাসায়নিক পদার্থ (সিলভার নাইট্রেট বা AgNO3)। ছয়ের দশকে ন্যাশনাল ফিজিকাল ল্যাবরেটরি এই ফর্মুলা তুলে দেয় দেশের একটি সংস্থাকে। মহীশূরের ওই কালি নির্মাণকারী সংস্থার নাম মাইসোর পেন্টস অ্যান্ড ভার্নিশ লিমিটেড। সংক্ষেপে ‘এমপিভিএল’। চুক্তি অনুযায়ী ওই সংস্থা আজও গোপন রেখেছে কালি-রহস্য। সংস্থার দু’এক জন বাদে বাকিদের কাছেও গোপন রাখা হয়। ওই কালির মধ্যে অ্যালকোহল মেশানো থাকে। তার ফলে অল্প সময়েই শুকিয়ে যায়।

তবে মূল রহস্য আছে সিলভার নাইট্রেট-এর মধ্যেই। কালি লাগানোর সঙ্গে সঙ্গে আঙুলের চামড়ার প্রোটিনের সঙ্গে বিশেষ বিক্রিয়া ঘটায় সিলভার নাইট্রেট। আর তাতেই দাগ আর মোছা যায় না। আর সেই কালিতে রোদের আলো পড়তে তা আরও চিপকে বসে। কালিতে সিলভার নাইট্রেট যত বেশি থাকবে তত বেশি সময় তা হাতে বা যেখানে লাগানো হয় সেখানে টিকে থাকবে কালি।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/রাত ১০:০৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

April 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit