মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনে সৌদি আরব ও ফ্রান্সের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য দ্রুত নীতিমালা আসছে: জাহেদ উর রহমান চলতি অর্থবছরেই অনুষ্ঠিত হবে সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন: প্রতিমন্ত্রী সংকটের দশ বছর: রোহিঙ্গাদের ফেরার অপেক্ষা শেষ কোথায় ? বাড়লো স্বর্ণের দাম, ভরিতে কত? চীনা পণ্য ও মার্কিন নীতি: ট্রান্সশিপমেন্টকে ‘প্রতারণা’ বলছে যুক্তরাষ্ট্র, নজরে সিঙ্গাপুর রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ফুলহ্যামকে হারাল চেলসি, দ্রুততম গোলে রেকর্ড পালমারদের আশ্রয়প্রার্থীদের ২ লাখ ভিসা বাতিল করতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন ইরান ‘পুরোপুরি ধসে পড়ছে’: ট্রাম্প মানবসম্পদ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে একযোগে কাজ করবে সিঙ্গাপুর-ইকুয়েডর

সততা আমানতদারিতার বিষয়ে ইসলাম কঠোর

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬
  • ৫৫ Time View

ডেস্ক নিউজ : সৎ ও আমানতদার হওয়ার বিষয়ে ইসলামের কঠোরতা এবং এর গুরুত্ব নিচে কয়েকটি প্রধান দিক থেকে আলোচনা করা হলো, ১. আমানতদারিতা ও সততা ঈমানের পরিমাপক। ইসলামে আমানতদারিতা ও সততাকে সরাসরি ঈমানের সাথে যুক্ত করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছেন।

ঈমানহীনতার লক্ষণ: মহানবী (সা.) স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, যার মধ্যে আমানতদারিতা নেই, তার মধ্যে ঈমান নেই। আর যে অঙ্গীকার রক্ষা করে না, তার মধ্যে দ্বীন নেই। (মুসনাদে আহমাদ)

মুনাফিকের আলামত: কেউ যদি বাহ্যিকভাবে ইসলাম পালনও করে, কিন্তু তার মধ্যে সততা না থাকে, তবে তাকে মুনাফিক হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। হাদিসে এসেছে, মুনাফিকের তিনটি লক্ষণের দুটিই হলো কথা বললে মিথ্যা বলা এবং আমানতের খেয়ানত করা।

২. কোরআনের অকাট্য নির্দেশ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত জোরালোভাবে সততা ও আমানতদারিতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতার সুযোগ রাখা হয়নি।


আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা যেন আমানতসমূহ তার হকদারদের কাছে পৌঁছে দাও। (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৫৮) মুমিনদের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করতে গিয়ে আল্লাহ বলেন, আর যারা নিজেদের আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে.. (সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত: ৮)
৩. পেশাদারিত্ব ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে কঠোরতা। জীবিকা নির্বাহ, ব্যবসা-বাণিজ্য বা পেশাগত দায়িত্বে সততা ও আমানতদারিতার বিষয়ে ইসলাম সবচেয়ে বেশি কঠোর।

ওজনে কম দেওয়া বা জালিয়াতি: ব্যবসা বা লেনদেনে সামান্যতম অসততা বা ওজনে কম দেওয়াকে ইসলামে ধ্বংসের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সূরা আল-মুতাফফিফীনে আল্লাহ তাআলা সেই ব্যবসায়ীদের জন্য ধ্বংসের বার্তা দিয়েছেন, যারা লেনদেনের সময় নিজেরা পুরোটা বুঝে নেয় কিন্তু অন্যকে দেওয়ার সময় কম দেয়।

হালাল উপার্জনের বাধ্যবাধকতা: অসৎ উপায়ে অর্জিত এক পয়সাও ইসলামে হারাম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, হারাম উপার্জনে গড়ে ওঠা শরীর জান্নাতে প্রবেশ করবে না।

৪. রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক দায়িত্ব। ইসলামী বিধান অনুযায়ী, যেকোনো অর্পিত দায়িত্ব বা পদও একটি বড় আমানত।যোগ্য লোককে সঠিক পদে বসানো আমানতদারিতার অংশ। স্বজনপ্রীতি বা ঘুষের মাধ্যমে অযোগ্য কাউকে কোনো দায়িত্বে বসানোকে ইসলামে মহান আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের সাথে বড় ধরনের খেয়ানত (বিশ্বাসঘাতকতা) হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

বিচারক, সরকারি কর্মকর্তা বা যেকোনো প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তি যদি তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সততার সাথে পালন না করেন, তবে তার জন্য পরকালে কঠিন শাস্তির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

৫. খেয়ানতের পরকালীন পরিণতি। আমানতের খেয়ানত ও অসততার শাস্তি পরকালে অত্যন্ত ভয়াবহ।

মানুষের হকের (হাক্কুল ইবাদ) সাথে সততা ও আমানত জড়িত। আল্লাহ তাআলা নিজের হক (যেমন নামাজ, রোজা) চাইলে ক্ষমা করতে পারেন, কিন্তু কোনো মানুষের সাথে অসততা বা খেয়ানত করা হলে, যতক্ষণ না সেই ব্যক্তি ক্ষমা করবে, ততক্ষণ আল্লাহ তাআলা তা ক্ষমা করবেন না।

কিয়ামতের দিন খেয়ানতকারীকে তার কৃতকর্মের জন্য সবার সামনে লজ্জিত ও অপমানিত হতে হবে।

ইসলামের দৃষ্টিতে একজন প্রকৃত মুসলিম কখনো অসৎ বা আমানতের খেয়ানতকারী হতে পারে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) নবুয়ত পাওয়ার আগেও মক্কার কাফেরদের কাছে তাঁর পরম সততার জন্য ‘আল-আমিন’ (বিশ্বস্ত) উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন। তাই ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় ও পেশাগত জীবন সব ক্ষেত্রে শতভাগ সততা ও আমানতদারিতা বজায় রাখা ইসলামের অন্যতম প্রধান ও কঠোর বিধান।

কিউএনবি/আয়শা/০৮ জুলাই ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:৫৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit