মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৪ পূর্বাহ্ন

আর্জেন্টিনার প্রতি ফিফার পক্ষপাত, যা বললেন মিশরের কোচ

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬
  • ৫৬ Time View

স্পোর্টস ডেস্ক : গতকাল আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২ গোলে এগিয়ে থাকার পরও রেফারির পক্ষপাত মূলক আচরণের কারণে শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় মিশর। নাটকীয় সেই ম্যাচ শেষে রেফারিং ও ভিএআর নিয়ে রীতিমতো বিতর্ক হচ্ছে।

মিশরের কোচ হোসাম হাসান সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সুবিধা দিতে এবং লিওনেল মেসিকে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখতে ম্যাচটিতে কারচুপি করা হয়েছে। তার এই বিস্ফোরক মন্তব্য ফুটবল বিশ্বে তীব্র আলোড়ন তৈরি করেছে, যা নিয়ে থিয়েরি অঁরি, রয় কিন ও জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের মতো কিংবদন্তিরাও দ্বিমুখী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ উগরে দিয়ে মিশসের কোচ হোসাম হাসান বলেন, আমি এটিকে সান্ত্বনাদায়ক শব্দ দিয়ে আড়াল করতে চাই না যে আমাদের ভাগ্য খারাপ ছিল। আজ আমাদের সঙ্গে অন্যায়ভাবে প্রতারণা করা হয়েছে, আমরা অবিচারের শিকার হয়েছি।

ফলাফল যাই হোক না কেন নিজের মনের কথা বলবেন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘এটি স্পষ্টতই একটি পাতানো ম্যাচ ছিল এবং পুরো বিশ্ব তা দেখেছে। আমি আরও একটি কথা বলতে চাই, তারা যদি এতটাই চায় যে আর্জেন্টিনা জিতুক, তবে সবাইকে ডেকে এনে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার দরকার কী ছিল?’

তিনি আরও বলেন, ‘হয়তো তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রতিযোগিতায় রাখতে চেয়েছিল। হয়তো তারা চেয়েছিল মেসি লড়াইয়ে থাকুক। ফুটবলে কখনও কখনও এমন কিছু বাহ্যিক উপাদান থাকে যা টেকনিক্যাল দিককেও ছাড়িয়ে যায়। বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা প্রতিটি স্তরেই সমর্থন পেয়েছে।’

নাটকীয় ম্যাচ ও মিসরের ক্ষোভ

মিসরের দাবি, বেশ কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে তারা ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছে। ম্যাচের একপর্যায়ে মোস্তফা জিকোর একটি দুর্দান্ত গোল ভিএআর-এর মাধ্যমে বাতিল করা হয়। বিল্ড-আপের সময় লিসান্দ্রো মার্তিনেসের ওপর মারওয়ান আতিয়ার ফাউল খুঁজে পায় ভিএআর। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, গোল হওয়ার আগের মুহূর্তে আক্রমণভাগের দল কোনও ফাউল করলে গোল বাতিল হতে পারে।

বিশ্লেষক অ্যালি ম্যাককোইস্ট অবশ্য স্বীকার করেছেন যে আতিয়া মার্তিনেসের জার্সি টেনেছিলেন এবং পায়ে পা দিয়েছিলেন। তবে সমালোচক ও মিসরীয় শিবিরের মতে, এই সংস্পর্শ খুবই মৃদু ছিল এবং তা গোলপোস্ট থেকে অনেক দূরে মাঠের অন্য প্রান্তে ঘটেছিল। ইংলিশ সাংবাদিক হেনরি উইন্টার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৌতুক করে লিখেছেন, ভিএআর যদি মিসরের ওই আক্রমণের আরও পেছনে যেত, তবে তুতেনখামেনকেও (মিসরীয় ফারাও) হয়তো এর সঙ্গে জড়িয়ে ফেলা হতো।

গোলটি বাতিল না হলে জিকোর ফিনিশিংটি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গোল হতে পারত বলে মন্তব্য করেন উইন্টার। বিবিসি সাংবাদিক ডেল জনসনও এই ভিএআর সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, মিসরের গোল বাতিল করার সিদ্ধান্তটি এই টুর্নামেন্টের সাধারণ রেফারিং স্ট্যান্ডার্ডের সম্পূর্ণ পরিপন্থি ছিল। সামান্য স্পর্শের জন্য যেখানে ফাউল দেওয়া হচ্ছে না, সেখানে সামান্য জার্সি টানার কারণে ভিএআর দিয়ে গোল বাতিল করা যায় না।

ম্যাচ শেষে আবেগপ্রবণ হয়ে ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো বলেন, আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত খেলেছি। দ্বিতীয় হাফে কী হলো জানি না। এমন অদ্ভুত সব কাণ্ড ঘটলো যা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট ছিল। রেফারি পুরো একটি জাতির পরিশ্রমকে ডাকাতি করেছে। আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতার জন্য অভিনন্দন। তিনি আরও বলেন, বিতর্ক ছাড়া আর্জেন্টিনা নিজেদের যোগ্যতায় জিতলে এটি মেনে নেওয়া সহজ হতো।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০৮ জুলাই ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:০৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit