প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশের আটটি বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মসজিদ রয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে মোট ৭৫ হাজার ৯৫৬টি মসজিদ রয়েছে। জনসংখ্যা, বিস্তৃত ভৌগোলিক এলাকা এবং বিপুল সংখ্যক গ্রাম ও নগরকেন্দ্র থাকার কারণে ঢাকায় মসজিদের সংখ্যাও সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। এ বিভাগে মসজিদের সংখ্যা ৬৩ হাজার ৭০৩টি।
অন্য বিভাগগুলোর পরিসংখ্যান হলো:-
রংপুর বিভাগ: ৪৫ হাজার ৭৯২টি।
রাজশাহী বিভাগ: ৪৫ হাজার ৬৭৯টি।
বরিশাল বিভাগ: ৩৫ হাজার ৬৯১টি।
খুলনা বিভাগ: ৩৪ হাজার ৫৮৬টি।
ময়মনসিংহ বিভাগ: ৩১ হাজার ২১২টি।
সিলেট বিভাগ: ২২ হাজার ৬টি (সবচেয়ে কম)।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সমন্বয় বিভাগের পরিচালক মো. মহিউদ্দিন স্বাক্ষরিত তথ্যপত্রে মহাপরিচালক ও উপপরিচালক (সমন্বয়)-এর অনুমোদন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঠিক তথ্য সংরক্ষণ, প্রশাসনিক কার্যক্রম সহজ করা এবং ইসলামের প্রচার-প্রসারসংক্রান্ত পরিকল্পনা গ্রহণের সুবিধার্থে এ ধরনের পরিসংখ্যান নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে মসজিদ কেবল ইবাদতের স্থান নয়; বরং এটি সমাজ গঠনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। মসজিদকে কেন্দ্র করে কোরআন শিক্ষা, শিশুদের নৈতিক শিক্ষাদান, ইসলামি আলোচনা, দাতব্য কার্যক্রম, রমজানে ইফতার ও তারাবির আয়োজন, যাকাত ও সদকা বিতরণসহ নানা সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে। গ্রামীণ সমাজে বিরোধ নিষ্পত্তি, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠায়ও অনেক ক্ষেত্রে মসজিদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উল্লেখ্য, সংবিধান অনুযায়ী ইসলাম বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম। দেশের প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ মুসলিম হওয়ায় ধর্মীয় অবকাঠামো হিসেবে মসজিদের সংখ্যা প্রতিবছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে। নতুন আবাসিক এলাকা, গ্রামীণ জনপদ ও নগর সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন মসজিদ নির্মিত হচ্ছে, যা দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক বাস্তবতারই প্রতিফলন।