ডেস্ক নিউজ : হাড়কাঁপানো শীত ও উত্তরের হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চুয়াডাঙ্গার জনপদ। চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে বয়ে চলা টানা শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। গত তিন দিনের সূর্যের আলো দেখা যায়নি। প্রচণ্ড এই শীতেও চুয়াডাঙ্গার প্রাথমিকসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকায় শিক্ষার্থীরা শীত উপেক্ষা করে কাঁপতে কাঁপতে স্কুল-কলেজে ক্লাশ করতে উপস্থিত হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলায় ঠান্ডাজনিত রোগ নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন শতাধিক শিশুরোগী ৩-৪টি হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। আউটডোরে বেশি শিশুকে ঠান্ডা ও নিউমোনিয়া চিকিৎসা ও পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসারা। প্রচণ্ড শীতে জবুথবু সাধারণ মানুষ আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করছেন। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় চলতি মৌসুমে চুয়াডাঙ্গা জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ৯৩ শতাংশ।
চুয়াডাঙ্গার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান কমে যাওয়ায় মারাত্মক শীত অনুভূত হচ্ছে। বয়ে যাচ্ছে উত্তরের হিমেল হাওয়া। সঙ্গে ঘন কুয়াশা। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মতো কুয়াশা ঝরছে। এতে মানুষের স্বাভাবিক কর্মজীবন ব্যাহত হচ্ছে। নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে। তা সত্ত্বেও জীবিকার তাগিদে বাইরে বের হতে হচ্ছে। অনেকেই শীতের হাত থেকে বাঁচতে খড়কুটো জ্বেলে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। দুর্ঘটনা এড়াতে চালকরা হেডলাইট জ্বালিয়ে ও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করে চলাচল করছেন। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোত ঠাণ্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানা গেছে।
ভ্যানচালক সামাদ বলেন, শীতের কাপড় অনেক পরিধান করেও রক্ষা পাচ্ছি না। শরীরের কোনো অংশ ঢাকা না থাকলেই হিম শীত অনুভূত হচ্ছে। ভাড়ার জন্য সকাল থেকে বের হলেও কোনো ভাড়া পাচ্ছি না, শীতে বাইরে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। হাড়কাঁপানো শীত নিবারণ করতে আগুন জ্বালিয়ে তাপ দেওয়া নিয়ে দিন কাটাচ্ছি।
চুয়াডাঙ্গার সদর হাসপাতালের শিশু কনসাল্টেন্ট ডা. মিলনুর রহমান মিলন বলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলায় ঠান্ডাজনিত রোগ নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুরা ওয়ার্ডে ভর্তি আছে। আউটডোরে বেশি শিশুকে ঠান্ডা ও নিউমোনিয়া চিকিৎসা ও পরামর্শ সহকারে অনেকের বাড়িতে পাঠানো হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি শিশু রোগী ভর্তি হচ্ছে ঠান্ডা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে। হাসপাতালে শিশুদের স্যালাইনসহ নিয়মিত চিকিৎসাসহ ঠান্ডা থেকে বাঁচতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষার্থী রেজাউল বলেন, সকালে পানিতে হাত দেওয়া অসম্ভব হয়ে গেছে। বরফের মতো ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। পড়াশোনা করতে বাইরে যাওয়া অনেক কষ্ট হয়ে গেছে। চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ৯৩ শতাংশ; যা চলতি মৌসুমে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
তিনি আরও জানান, এর আগে ২০২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি এ জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। আর ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি এ যাবতকালের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩ দশমিক ৯ ডিগ্রি। এদিকে জেলা-উপজেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, বিভিন্ন এনজিও, সামাজিক সংস্থা শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র ও কম্বল বিতরণ করছে। তবে তা চাহিদার তুলনায় কম।
কিউএনবি/আয়শা/৬ জানুয়ারী ২০২৬,/রাত ৮:৪৪