বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:০০ অপরাহ্ন
শিরোনাম

এফ-৩৫ উৎপাদনে রেকর্ড, রাশিয়ার কপালে ভাঁজ

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৪২ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২০২৫ সালে সামরিক বিমান উৎপাদনের ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব রেকর্ড গড়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা সংস্থা লকহিড মার্টিন। প্রতিষ্ঠানটি ওই বছরে মোট ১৯১টি এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান সরবরাহ করেছে। যা আগের সর্বোচ্চ ১৪২টি বিমানের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। অর্থাৎ, গড়ে প্রতি দুই দিনে একটি করে এফ-৩৫ সরবরাহ করেছে লকহিড মার্টিন।

লকহিড মার্টিন জানিয়েছে, বর্তমানে এফ-৩৫-এর বার্ষিক উৎপাদন হার অন্যান্য মিত্র দেশগুলোর যেকোনো আধুনিক যুদ্ধবিমানের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। 

তুলনামূলকভাবে ইউরোপ ও রাশিয়ার প্রধান যুদ্ধবিমান নির্মাতারা অনেক পিছিয়ে রয়েছে। ফ্রান্সের দাসো অ্যাভিয়েশন ২০২৫ সালে মাত্র ২৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান সরবরাহ করেছে। যার মধ্যে ১৫টি রপ্তানি করা হয়েছে এবং ১১টি পেয়েছে ফরাসি সশস্ত্র বাহিনী। 

রাশিয়ার ইউনাইটেড এয়ারক্রাফট করপোরেশন একই বছরে একাধিক ধাপে সু-৩৫ যুদ্ধবিমান সরবরাহ করলেও মোট সংখ্যা ছিল আনুমানিক ১৪ থেকে ২১টির মধ্যে। ইউরোফাইটার টাইফুন ও সুইডিশ গ্রিপেনের ক্ষেত্রেও উৎপাদন সীমিত ছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে প্রায় ১২টি টাইফুন ও ১৭টি গ্রিপেন সরবরাহ করা হয়েছে।

এই হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে লকহিড মার্টিন একাই যত এফ-৩৫ তৈরি করেছে, তা রাফাল, টাইফুন, সু-৩৫, সু-৩৪ এবং গ্রিপেন এই সব বিমানের সম্মিলিত উৎপাদনের চেয়েও বেশি।

লকহিড মার্টিনের এফ-৩৫ প্রোগ্রামের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও জেনারেল ম্যানেজার চন্সি ম্যাকইনটশ বলেন, ২০২৫ সালে উৎপাদন লক্ষ্য পূরণ করতে পেরে তারা গর্বিত। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্বার্থ রক্ষায় এফ-৩৫ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং ভবিষ্যতেও যোদ্ধাদের হাতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি তুলে দিতে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৩শ’টির কাছাকাছি এফ-৩৫ সক্রিয় রয়েছে এবং ১২টি দেশ এই স্টেলথ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিশ্বে বর্তমানে যত পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান রয়েছে এফ-২২, রুশ সু-৫৭, চীনের জে-২০ ও জে-৩৫ সব মিলিয়েও এফ-৩৫-এর সংখ্যা  বেশি।

তবে এত উৎপাদনের পরও এফ-৩৫-এর চাহিদা কমেনি। ২০২৫ সালের শেষ দিকে লকহিড মার্টিনের অর্ডার ব্যাকলগ দাঁড়ায় প্রায় ৪১৬টি বিমানে। ইতালি ও ডেনমার্ক তাদের পরিকল্পিত এফ-৩৫ বহর আরও বাড়িয়েছে। আর মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের বাইরে সৌদি আরব ও তুরস্ককেও এফ-৩৫ বিক্রির সম্ভাবনার কথা উঠেছে। এমনকি ভারতের কাছেও এই যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ প্রকাশ পেলেও নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে এখনো স্পষ্ট সাড়া মেলেনি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন গতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোকে দ্রুত নতুন ও আধুনিক উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং উৎপাদন বাড়ানো না হলে উচ্চ বেতন, লভ্যাংশ ও শেয়ার বাইব্যাকের ওপর কড়াকড়ির হুঁশিয়ারি দেন।

এফ-৩৫-এর পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনেও বড় ঘোষণা দিয়েছে লকহিড মার্টিন। প্রতিষ্ঠানটি প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নত সংস্করণ পিএসি-৩ এমএসই ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন ক্ষমতা আগামী সাত বছরে তিন গুণের বেশি বাড়ানোর জন্য মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের সঙ্গে চুক্তি করেছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র বর্তমানে সুইডেন, জাপান, পোল্যান্ড, সৌদি আরব ও ইউক্রেনসহ ১৭টি দেশ ব্যবহার করছে।

সূত্র: ইউরো এশিয়া টাইমস 

কিউএনবি/অনিমা/১০ জানুয়ারি ২০২৬,/রাত ৯:১১

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

February 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit