বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ভারতে ডিজিটাল প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেবে ব্যাংক ইথিওপিয়াকে ১২ যুদ্ধবিমান ও চার এস-৪০০ দিচ্ছে রাশিয়া, নেপথ্যে কী? এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের স্থান পরিবর্তন চ্যাটজিপিটির পরামর্শে ওষুধের মাত্রা কমিয়ে রোগীর মৃত্যু, ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা এলপিজি বিক্রির কমিশন দুই থেকে তিনগুণ বাড়ানোর প্রস্তাব সারেনি বিমানের ত্রুটি, বিমান থেকে নামলেন প্রধানমন্ত্রী শেষ হচ্ছে গঙ্গা চুক্তি, ভাগ্য বদলাবে কি নবায়ন চুক্তিতে? পর্যটনে এআই ও টেকসই গন্তব্যের বার্তা নিয়ে ঢাকায় বিটিটিএফ শুরু ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নোয়াখালীতে সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট বাড়ি দখল ও হামলার অভিযোগ

ধর্মের সব কটি জানালা খুলে দাও

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৮২ Time View

ডেস্ক নিউজ : পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আল্লাহকে বাদ দিয়ে তারা আলেম ও দরবেশদের রব বানিয়ে নিয়েছে।’ সুরা তওবার ৩১ নম্বর আয়াতের প্রথমাংশের অনুবাদ। আয়াতটি নাজিল হয়েছিল মূলত খ্রিস্টানদের ধর্মীয় জীবনে বিপর্যয় নেমে আসার কারণ পয়েন্ট আউট করার জন্য। অল্প কথায় এত চমৎকারভাবে একটি বড় ধর্মীয় গোষ্ঠীর অধঃপতনের ইতিহাস আল্লাহতায়ালা বলেছেন, সত্যিই অবাক হওয়ার মতো। তবে আসমানি কিতাবধারী খ্রিস্টানদের ধর্মীয় অধঃপতনের বিষয়টি কোরআনে এমনি এমনি স্থান পায়নি। অবশ্যই বড় উদ্দেশ্য রয়েছে। উদ্দেশ্যটি হলো, কোরআনে অনুসারীরা যেন এ ধরনের বিপর্যয় থেকে বেঁচে থাকে। দুঃখজনক হলেও সত্য! কোরআন অনুসরারীরা নিজেদের বাঁচাতে পারেনি। ব্যাপারটা তাহলে খোলাসা করেই বলি।

আল্লাহ বলেছেন, ‘ইত্তাখাজু আহবারাহুম ওয়া রুহবানাহুম আরবাবাম মিন দুনিল্লাহ। অর্থাৎ তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের আহবার ও রুহবানদের রব বানিয়ে নিয়েছে।’ আহবার কারা? আলেম-পণ্ডিতরা হলেন আহবার। আর পীর-দরবেশরা রুহবান। মূলত মানুষের ধর্মীয় জীবন এই দুই শ্রেণিই নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। যারা শরিয়ত প্রাধান্য দেয় তারা চলে আলেমদের কথায়। আর যারা তরিকত প্রাধান্য দেয় তারা মানে পীর-দরবেশদের জীবনাদর্শ। এই দুই শ্রেণির বাইরে ধর্মীয় কোনো লিডারশিপ তেমন নেই বললেই চলে। দুর্ভাগ্যের কথা হলো, রক্ষক যখন ভক্ষক হয়ে যায় তখন নীতিনৈতিকতা ধুলোয় মিশে যায়। এ ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। ঈসা (আ.)কে তুলে নেওয়ার পর খ্রিস্টান সমাজে শরিয়ত ও তরিকতের বিশেষজ্ঞরা নিজেদের দায়িত্ব ভুলে স্বার্থের পূজারি হয়ে পড়েন। তারা মানুষকে ব্যবহার করেন নিজেদের আর্থিক উন্নতির হাতিয়ার হিসেবে। জ্ঞান চর্চা ও আধ্যাত্মিক সাধনার নামে তারা খুলে বসেন ধর্ম ব্যবসার দোকান। ফলে মানুষকে আকৃষ্ট করার সব ফন্দিফিকির তারা আয়ত্ত করে ফেলেন অতিসহজেই। ধর্মের নামে মানুষকে বিভক্ত করে ফেলেন। এক আলেম আরেক আলেমের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে উসকে দেন। এক দরবেশ আরেক দরবেশের বিরুদ্ধে মানুষকে খেপিয়ে তোলেন। মানুষও ভালোমন্দ যাচাইবাছাই না করে আলেমরা যা বলতেন, দরবেশরা যেমন বোঝাতেন তেমনই বুঝত। আলেমরা যদি বলতেন এটা হালাল, মানুষ এটাকেই হালাল হিসেবে গ্রহণ করে নিত। আবার তারা যদি বলতেন এটা হারাম মানুষ তাই মেনে নিত। মানুষ ভুলেই গিয়েছিল হালাল-হারাম বিষয়টি ঘোষণা করার অধিকার কোনো মানুষের নেই। এটা শুধু আল্লাহর অধিকার। আর সেটা জানার নির্ভরযোগ্য সূত্র হলো আসমানি কিতাব। এ সত্যটি ভুলে যাওয়ার কারণে খ্রিস্টানদের ধর্মীয় জীবনে যে বিপর্যয় নেমে আসে তার ক্ষত আজও দৃশ্যমান। এ আয়াতটি নাজিল হওয়ার পর রসুল (সা.) বলেন, দেখো খ্রিস্টানরা তাদের আলেম সম্প্রদায়কে রব বানিয়ে নিয়েছিল।’ সদ্য খ্রিস্টান থেকে মুসলমান হওয়া সাহাবি আদি (রা.) বলেন, ‘হুজুর! আমার জানামতে আলেমদের আমরা রব বলতাম না।’ জবাবে রসুল (সা.) বলেছেন, ‘মুখে রব না বললেও রবের জায়গায় তাদের বসিয়েছিলে এভাবে যে তারা যা হালাল বলত তোমরা তাই হালাল মেনে নিতে আবার তারা যা হারাম বলত তোমরা তাই হারাম হিসেবে জানতে। এ কথা কি সঠিক?’ আদি (রা.) বলেন, ‘অবশ্যই সঠিক।’

এ আয়াত থেকে আরেকটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে যায়, ইসলাম কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়। দাদা পীর, বাবা পীর, ছেলেও পীর এমন সুযোগ পীরালিতে থাকলেও ইসলামে অযোগ্য ব্যক্তি গদিনশিন হওয়াকে ভয়াবহ জুলুম বলে আখ্যায়িত করেছে। আবার একইভাবে মাদ্রাসা থেকে বড় ডিগ্রি নিয়ে, আরবি শ্লোক মুখস্থ করে ইসলামের ডিলার বনে যাওয়া এবং এটা হারাম, এটা হালাল এভাবে ইচ্ছামতো ফতোয়া দেওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। আফসোস! সম্প্রতি লক্ষ করা যাচ্ছে, নিত্যদিনের কিছু বিষয় নিয়ে আলেমরা দুই ধরনের ফতোয়া দিচ্ছেন। এক আলেম বলছেন এটা খাওয়া হারাম। আরেক আলেম বলছেন জায়েজ। সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছে। আসলে আমরা যদি সালফে সালেহিনদের নীতি গ্রহণ করতাম তাহলে আমাদের জন্য উত্তম হতো। সালফে সালেহিনরা সহজে কোনো বিষয়কে হারাম বলতেন না। যতক্ষণ না স্পষ্ট ‘নস’ পেতেন ততক্ষণ পর্যন্ত তারা বিষয়টি কেবল ‘পছন্দ নয়’ এরকম ফতোয়া দিতেন। বলছিলাম, ইসলাম আলেম ও পীরের হাতে বন্দি কোনো ধর্ম নয়। এখানে পুরোহিত তন্ত্রের মতো জুলুমবাজি নেই। এখানে যে কেউ চাইলে কোরআন-হাদিস পড়তে পারে, গবেষণা করতে পারে, দাওয়াতি কাজে সময় দিতে পারে এবং যোগ্যতা থাকলে ইমাম এমনকি রাষ্ট্রপ্রধানও হতে পারে। যদি এ সুযোগগুলো কোনোভাবে সংকুচিত করে ফেলা হয় বা ইসলাম শুধু পীর-মাওলানাদের একান্ত সম্পত্তি মনে করা হয় সেটা হবে চরমতম ধর্মীয় বিপর্যয়। যে বিপর্যয় থেকে আহলে কিতাবরা এখনো বের হতে পারেনি। আশা করি আল্লাহতায়ালা আমাদের এমন বিপর্যয় থেকে হেফাজত করবেন। আমিন।

লেখক : প্রিন্সিপাল, সেইফ এডুকেশন ইনস্টিটিউট

কিউএনবি/অনিমা/২৭ নভেম্বর ২০২৫,/সকাল ৮:২০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit