শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ড. আব্দুল মঈন খানের সুস্থতা কামনায় নরসিংদীতে দোয়া মাহফিল পারস্য উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধ জাহাজ ঢুকতে দেওয়া হবে না : ইরান অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যের জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেও নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার অনলাইন অর্ডারেই হোম ডেলিভারি মিলছে মরণঘাতী দেশীয় অস্ত্র মাঝ আকাশে দুই যুদ্ধবিমানের সংঘর্ষে ফিলিপিন্সের ৪ পাইলট নিহত প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতির আশা টোকিওর সংবিধান সংশোধন: বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক চলছে মিথ্যাচার করে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা করছে জামায়াত: রিজভী গাজীপুরে পোশাক কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে কক্সবাজারের হোটেলে ফের অগ্নিকাণ্ড, রক্ষা পেলেন ৩ শতাধিক পর্যটক

সামর্থ্যের ধরন অনুযায়ী ইবাদতের বিধান

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৯০ Time View

ডেস্ক নিউজ : মানুষের ওপর আল্লাহপাকের বিরাট অনুগ্রহ যে তিনি তাঁর শরিয়তে, তত্প্রদত্ত বিধি-নিষেধে, মানুষের সাধারণ সক্ষমতার আওতাভুক্ত করে এই বিধানগুলো দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, এমনকি প্রত্যেক মানুষের নিজ নিজ সক্ষমতা ও সামর্থ্যের প্রতিও এখানে বিবেচনা করা হয়েছে। শারীরিক সক্ষমতার দিকে যেমন লক্ষ রাখা হয়েছে, তেমনি মানসিক ও চেতনা সক্ষমতার বিষয়টিও সর্বত্র লক্ষণীয় বলে বিবেচ্য হয়েছে। কোরআন মাজিদে স্পষ্ট ঘোষণা করা হয়েছে, ‘আল্লাহ তো কোনো মানুষকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২৮৬)

মহানবী (সা.) সাহাবিদের থেকে যখন কোনো বিষয়ের বায়াত নিতেন, কোনো কাজের শপথ নিতেন, তখন নিজে থেকে বলতেন, বলো, ‘মাস্তাতাতু’, আমি আমার সক্ষমতানুসারে তা করব। তিনি আরো বলেন, তোমাদের জন্য জরুরি হলো, সামর্থ্য অনুসারে কাজ করবে। (বুখারি, হাদিস : ৪৩)

এমনকি শরিয়তে ইসলামী জ্ঞান ও বুদ্ধির পরিপক্বতা অর্জন না হওয়া পর্যন্ত কাউকে কোনো বিধানের আওতায় আনা হয় না। এ ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ-নির্বিশেষে সবার জন্য বুলুগ বা সাবালক হওয়ার শর্ত আরোপ করা হয়েছে। চেতনবোধসম্পন্ন হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

অনেক ইবাদতের ক্ষেত্রে শারীরিক ও মানসিক সামর্থ্যের সঙ্গে আর্থিক সামর্থ্যের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। আমরা জানি, জাকাত, ওশর, সদকা, হজ ইত্যাদি ইবাদত একজনের আর্থিক সংগতির সঙ্গে সম্পর্কিত। জাকাত ইত্যাদি তো পুরোপুরি আর্থিক ইবাদত। নির্দিষ্ট একটা নিসাব পরিমাণ না হলে তো জাকাত-ওশর ধার্যই হয় না।

হজের ক্ষেত্রেও স্পষ্ট উল্লেখ হয়েছে, ‘মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ওই গৃহের হজ করা তার অবশ্য কর্তব্য।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৯৭)

দাওয়াত, তাবলিগ, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ, জিহাদ-কিতাল সব ক্ষেত্রেই এই সামর্থ্য ও ইস্তিতাআতের বিষয়টির লক্ষ রাখা হয়েছে, সক্ষমতা হিসাবে স্তরবিন্যাস করা হয়েছে। যেমন ইরশাদ হয়েছে-‘যখন কোনো অবাঞ্ছিত কাজ হতে দেখবে, তখন সামর্থ্য থাকলে তা হাত দিয়ে, শক্তি দিয়ে রুখবে। তা না হলে জবান ও কথা দিয়ে রুখবে।

এরও সামর্থ্য না হলে অন্তত মনে মনে ঘৃণা করবে; আর সেটি হলো ঈমানের দুর্বলতম দিক, দুর্বলতম পর্যায়।’ (মুসলিম, হাদিস : ৪৯)

বহু ক্ষেত্রে সামর্থ্যের ধরন হিসেবে ইবাদতের ধরনের বিধান দেওয়া হয়েছে। যেমন নামাজের ক্ষেত্রে আমরা লক্ষ করি যে কেউ যদি কিয়াম বা দাঁড়াতে সক্ষম না হয়, তবে বসে, তাও সম্ভব না হলে শুয়ে শুয়ে তা আদায় করার কথা বলা হয়েছে, বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে কিছু কিছু অবস্থায় নামাজের মতো হুকুম স্থগিত বা শিথিল করা হয়েছে, রোজার হুকুম সাময়িকভাবে স্থগিতের ব্যবস্থা আছে। সফরের ক্ষেত্রে ‘কসর’-এর বিধান নারী-পুরুষ-নির্বিশেষে সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

শরিয়তের মিজাজ বুঝতে এই বিষয়টিরও অনুধাবন করা কর্তব্য। এ দ্বারা পরিষ্কার হয়ে উঠবে, ইসলাম কতটা মানব স্বভাবের অনুকূল।

লেখকের ‘মিযাজে শরীআত’ গ্রন্থ থেকে

কিউএনবি/অনিমা/২০ নভেম্বর ২০২৫,/রাত ৯:০৬

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit