শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতিতে নতুন রেকর্ডের আভাস আজকের নামাজের সময়সূচি শেহজাদের ব্যাটে-বলে নৈপুণ্যে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সের বড় জয় বাইন্যান্সের ৬৩০ কোটি ডলারের ডিজিটাল সম্পদ চুরির নেপথ্যে উত্তর কোরিয়া? সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতিদের গোপনে সহায়তা করছে আমিরাত ইরান যুদ্ধের ৬ মাসে মার্কিন জ্বালানি কোম্পানির মুনাফা ১৩০ বিলিয়ন ডলার হরমুজ প্রণালিতে তিনটি ট্যাংকারে আগুন রামাল্লার পশ্চিমে নতুন অবৈধ বসতি স্থাপন শুরু করেছে ইসরায়েল ইউক্রেনে ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিককে ‘খুবই বাজে দেখাচ্ছে’, ‘রয়টার্স জঘন্য’ কেন বললেন ট্রাম্প?

মহানবী (সা.)কে অনুসরণে রয়েছে সর্বোত্তম কল্যাণ

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ১০১ Time View

ডেস্ক নিউজ : মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সত্যিকার অর্থেই এক অতুলনীয় মহাপুরুষ। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যাঁর জীবনের প্রতিটি খুঁটিনাটি ঘটনাও ইতিহাসের অন্তর্গত। মহানবী (সা.)-এর চরিত্রে কোমলতা ও বজ্রকঠিন দৃঢ়তার অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে। একাধারে তিনি ফুলের মতো কোমল আবার বজ্রের মতো কঠিন। মানুষের দুঃখ-বেদনা, রক্তপাত ও হানাহানি, উৎপীড়িতের ক্রন্দনরোল তাঁকে বিহ্বল করেছে। মানুষের দুঃখে তিনি অশ্রুপাত করেছেন, আবার সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য কোমল হাতে তুলে নিয়েছেন অস্ত্র। ন্যায়ের সংগ্রামে তিনি ছিলেন এক আপসহীন ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন সর্ব ক্ষেত্রে সততা, ব্যক্তিত্ব ও অপূর্ব সাফল্য সহকারে তাঁর কর্তব্য সম্পন্ন করেছেন। সব ক্ষেত্রেই সংস্কারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। তিনি যথোপযুক্ত সংস্কার সাধন করে সমাজকে কলুষমুক্ত করেছেন। ‘বিশ্বনবী’ রচয়িতা গোলাম মোস্তফা বলেছেন, তিনি আমাদের মতোই মাটির মানুষ ছিলেন- এটাও যেমন ভুল ধারণা, তিনি একজন অলৌকিক ব্যক্তি বা অতিমানুষ ছিলেন- এটাও তেমনি ভুল ধারণা। মানুষ ও অতিমানুষের তিনি ছিলেন সমন্বয়ক। এটাই তাঁর বৈশিষ্ট্য। তিনি আরও বলেন, তিনি ছিলেন এমন মানুষ যার ওপর ওহি নাজিল হতো, আকাশ-পৃথিবীজুড়ে যাঁর কর্মক্ষেত্র প্রসারিত ছিল, গ্রহনক্ষত্র যাঁর পায়ের ভৃত্য ছিল, সর্বোপরি যিনি ছিলেন আল্লাহর প্রতিনিধি বা খলিফা। এ ব্যাপক গণ্ডির মধ্যে বিচরণশীল একজন মানুষের রূপই ছিল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর। মানব চরিত্রের সব ধরনের মহৎ গুণের অনন্য সমন্বয়ক ছিলেন মহানবী (সা.)। আল কোরআনে আল্লাহ তাঁর সম্পর্কে বলেন, ‘হে মুহাম্মদ! নিশ্চয়ই আপনি অনুপম চরিত্রের অধিকারী।’

মহানবী (সা.)-এর ছিলেন আল্লাহর প্রতি অবিচলিত ইমানের মূর্ত প্রকাশ। সুদৃঢ় ইমানই ছিল তাঁর মহৎ চারিত্রিক গুণাবলির উৎস। তাঁর প্রতিটি কাজে আল্লাহর নির্দেশের প্রতিফলন ছিল। কুরাইশদের হাতে তিনি অশেষ যাতনা ভোগ করেছেন, লাঞ্ছিত হয়েছেন, প্রতিকূল পরিবেশের বিরুদ্ধে তাঁকে সর্বক্ষণ সংগ্রাম করতে হয়েছে; কিন্তু কখনো তিনি আল্লাহর নির্দেশিত সত্য পথ থেকে বিচ্যুত হননি, বরং দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেছেন, তারা যদি আমার ডান হাতে সূর্য এবং বাঁ হাতে চন্দ্র এনে দেয়, তার পরও আমি মহাসত্যের সেবা ও স্বীয় কর্তব্য থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হব না। ঐতিহাসিক লিওনার্ড তাই বলেছেন, পৃথিবীর কোনো মানুষ যদি স্রষ্টাকে প্রত্যক্ষ করে থাকেন, বুঝে থাকেন এবং প্রকৃতপক্ষে পৃথিবীর কোনো উপকার করে থাকেন, তবে সুনিশ্চিতভাবে তিনি আরবের ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

মুহাম্মদ (সা.) ক্লেদাক্ত বিশ্বে সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য আবির্ভূত হয়েছিলেন। তাই জীবনের শুরু থেকেই তিনি ছিলেন সত্যনিষ্ঠ ও শান্তিপ্রিয়। মিথ্যা, প্রবঞ্চনা ও প্রতারণার প্রতি তাঁর ঘৃণা ছিল। অল্প বয়সেই তিনি ‘আল-আমিন’ খেতাবে ভূষিত হয়েছিলেন। প্রাক-ইসলাম যুগে আরবের আকাশবাতাস-মৃত্তিকা যখন দলাদলি, হানাহানি আর রক্তপাতে বিষাক্ত, তখন তিনিই সর্বপ্রথম শান্তির ললিতবাণী নিয়ে এগিয়ে আসেন। হিলফুল ফুজুল বা শান্তিসংঘ গঠন করে তিনি আরবের মাটিতে ভবিষ্যৎ শান্তিক্ষেত্র রচনা করেন। সারা জাহান যখন অত্যাচার-অবিচারে নির্যাতিত-নিষ্পেষিত তখন মহানবী (সা.) দুনিয়ায় এসেছিলেন মজলুম মানুষের ত্রাণকর্তা হিসেবে। মাত্র ২০ বছর সময়ের মধ্যে তিনি সভ্যতাবিবর্জিত, কুসংস্কারাচ্ছন্ন আরব জাতিকে এক সুসভ্য ধর্মাশ্রিত জাতিতে পরিণত করে তাদের নৈতিক ও আত্মিক পতনের অন্ধকূপ থেকে তৌহিদ, নীতিবোধ ও ন্যায়পরায়ণতার উচ্চতম স্তরে উন্নীত করেছিলেন। সব গোষ্ঠীকলহ দূরীভূত করে গোটা আরব জাতিকে ইমানভিত্তিক ঐক্যের বন্ধনে বেঁধেছিলেন। তাঁর দৃষ্টিতে ও তাঁর প্রণীত আইনের কাছে মুসলিম-অমুসলিম সবাই ছিল সমান। তিনি ছিলেন দরিদ্র, অসহায়, দুর্বল ও মজলুমের বন্ধু। তিনি মানুষের হাসিকান্নার শরিক ছিলেন। শোকার্ত ও দুঃখপীড়িত মানুষকে আন্তরিক সমবেদনা প্রদর্শন করতেন এবং তাদের দুঃখভোগের সঙ্গী হতেন। অভাবের সময় তিনি ক্ষুধার্তকে নিজ খাদ্যের ভাগ প্রদান করতেন এবং প্রতিবেশী প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিগত সুখস্বাচ্ছন্দ্য আন্তরিকভাবে কামনা করতেন। তিনি দাসী ও অধীন লোকদের প্রতি সর্বাধিক মানবোচিত আচরণ করতেন। তাঁর গোলাম আনাস বলেছেন, আমি ১০ বছর নবী করিম (সা.)-এর গোলামি করেছি; কিন্তু কখনো তিনি আমার প্রতি বিরক্তিসূচক উহ্ শব্দটিও করেননি। মহানবী (সা.)-এর চরিত্রে এতটুকুও প্রতিহিংসাবৃত্তি ছিল না। তিনি দুশমনকেও ক্ষমা ও করুণা প্রদর্শন করে আনন্দ লাভ করতেন। বলতেন, ‘শাস্তি দেওয়ার জন্য আমি আসিনি, শান্তির দূতরূপে এসেছি।’ এদিক দিয়ে তিনি ছিলেন মানব ইতিহাসে অতুলনীয় এবং সমগ্র দুনিয়ায় অদ্বিতীয়। আত্মার মহত্ত্ব, অন্তরের পবিত্রতা,  সুরুচিপূর্ণ মনোভাব ও কঠোর কর্তব্যনিষ্ঠা ছিল মহানবী (সা.)-এর চরিত্রের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। মহানবী (সা.) তাঁর অনুসারীদের সব সময় আগের ও পরের সব ধর্মপ্রচারকের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের উপদেশ দিয়ে গেছেন।

লেখক : ইসলামি গবেষক

কিউএনবি/অনিমা/০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫/রাত ৮:০৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit