বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন

ত্যাগের মহিমামন্ডিত পবিত্র ঈদুল আজহা

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ৬ জুন, ২০২৫
  • ৬৩ Time View

ডেস্ক নিউজ : ইসলামী শরিয়তের মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত কোরবানি। এ ইবাদতে আছে আত্মত্যাগের মহিমা। আদিপিতা হজরত আদম (আ.)-এর আমল থেকে শুরু হওয়া কোরবানি প্রথা মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর শিশুপুত্র ইসমাইল (আ.)-এর মহান আত্মবিসর্জনে মহিমান্বিত হয়ে ওঠে। যা কেয়ামত পর্যন্ত অম্লান থাকবে। 

হানাফি মাজহাব মতে, কোরবানি প্রাপ্তবয়স্ক, স্বাভাবিক জ্ঞানসম্পন্ন, মুসলমান নারী-পুরুষ যদি ‘নিসাব’ পরিমাণ সম্পদের মালিক থাকেন তাদের পক্ষ থেকে কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব বা আবশ্যক।

শাফেয়ি, মালেকি ও হাম্বলি মাজহাব মতে কোরবানি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। বিনা ওজরে ছেড়ে দেওয়া মাকরুহ। ইমাম শাফেয়ির মতে, ‘কোরবানি করা গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত, ছেড়ে দেওয়া পছন্দনীয় নয়।’ (কিতাবুল উম্ম, তৃতীয় খন্ড, ২৫৫ পৃষ্ঠা)। অন্য দুই ইমামের মতামতও অভিন্ন।

ইব্রাহিম (আ.)-কে আল কোরআনে মুসলিম জাতির পিতা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। (হজ ৭৮)। ঈদুল আজহার দিন সমগ্র মুসলিম জাতি ইব্রাহিমী সুন্নত পালনের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করে। কোরবানির স্মৃতিবাহী জিলহজ মাসে অনুষ্ঠিত পবিত্র হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় মক্কা নগরীতে। 

হজ মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সংহতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য উদাহরণ। পবিত্র হজে আমরা নিবিড়ভাবে অনুভব করি বিশ্ব মুসলিম ভ্রাতৃত্ব। কোরবানি হলো মহান আল্লাহর কাছে নিজেকে উৎসর্গিত করার মাধ্যম। আল্লাহ আমাদের রব। যার করুণা লাভের জন্য মানুষ প্রত্যাশী। আমাদের সবকিছু তাঁর উদ্দেশ্যেই নিবেদিত। কোরবানি হচ্ছে সেই নিবেদিত মনোভাবের প্রতীক।

মানুষ কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভে ধন্য হয়। আল্লাহর জন্য মানুষ তার সবচেয়ে প্রিয় জিনিস ত্যাগ করতেও রাজি আছে কি না সেটাই পরীক্ষার বিষয়। কোরবানি আমাদের সেই পরীক্ষার কথাই বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়। ইব্রাহিম (আ.)-এর কাছে আল্লাহর পরীক্ষাও ছিল তাই। আমাদের এখন আর পুত্র কোরবানি দেওয়ার মতো কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয় না। একটি হালাল পশু কোরবানি করেই আমরা সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারি। 

কোরবানি আল্লাহর জন্য আত্মত্যাগের একটি অনুপম দৃষ্টান্ত। সারা বছরই আল্লাহর নৈকট্য লাভের প্রত্যাশায় মানুষ নিবেদিত থাকবে আল্লাহ এমনটিই চান। তাঁর বান্দার মধ্যে ত্যাগের মনোভাব গড়ে উঠুক। কোরবানি শব্দের অর্থ ত্যাগ, ত্যাগের মনোভাবে কোরবানি সার্থক হয়। আল কোরআনে আল্লাহ বারবার ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। 

আল্লাহ বলেন, ‘হে ইমানদারগণ! তোমরা তোমাদের উপার্জিত হালাল মালের কিছু অংশ এবং আমি যা তোমাদের জন্য জমিন হতে বের করেছি তার অংশ ব্যয় কর।’ (বাকারা ২৬৭)। 

আর তাই আমাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ মানবতার সেবায় ব্যয় করতে হবে। দরিদ্র মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে হবে। কেয়ামতের দিন কোরবানির পশুর শিং, লোম আর ক্ষুর হাজির করা হবে। এগুলো সেদিন বান্দা আল্লাহ প্রেমের নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হবে। কোরবানির রক্ত মাটি স্পর্শ করার আগেই আল্লাহর কাছে তার সওয়াব গ্রাহ্য হয়ে যায়। আল্লাহ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় কোরবানিদাতাদের সাবধান করে দিয়েছেন, ‘কোরবানির পশুর রক্ত, গোশত কোনো কিছুই আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, পৌঁছে কেবল তোমাদের তাকওয়া বা আল্লাহভীতি।’ (হজ ৩৭)। 

ঈদের দিনে গোসল করে ঈদগাহে যাওয়া সুন্নত। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিন গোসল করতেন।’ (নাসবুর রায়াহ)।

ঈদের দিন উত্তম ও সুন্দর পোশাক পরাও সুন্নত। হাদিসে এসেছে- রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক ঈদে ডোরাকাটা কাপড় পরিধান করতেন।’ (বায়হাকি)। ঈদগাহে যাওয়ার পথে আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ’ তাকবির বলা সুন্নত। 

হাদিসে এসেছে- নাফে (রা.) বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) উভয় ঈদের নামাজের জন্য মসজিদ থেকে বের হতেন। ঈদগাহে পৌঁছা পর্যন্ত (রাস্তায়) তাকবির বলতেন। ঈদগাহে পৌঁছেও ইমাম নামাজ আরম্ভ করার আগ পর্যন্ত তিনি তাকবির বলতেন।’ (দারাকুতনি)। 

অন্য বর্ণনায়, আবু আবদুর রহমান সুলামি (রা.) বর্ণনা করেন, সাহাবায়ে কেরাম ঈদুল ফিতরের তুলনায় ঈদুল আজহায় অনেক বেশি তাকবির বলতেন।’ (মুসতাদরেকে হাকেম)। হজরত উম্মে সালামা (রা.) বর্ণনা করেন, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমরা জিলহজের চাঁদ দেখবে এবং তোমাদের কেউ কোরবানি করার ইচ্ছা করবে, তখন সে যেন চুল, নখ ইত্যাদি কাটা বন্ধ রাখে।’ (মুসলিম)।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রসুল (সা.) বলেন, সামর্থ্য থাকার পরও যে ব্যক্তি কোরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের ধারে-কাছেও না আসে।’ (মুসনাদে আহমাদ)। ঈদের নামাজের আগে কোরবানি করা জায়েজ নয়। যদি কেউ ঈদের নামাজের আগে কোরবানির উদ্দেশ্যে কেনা পশু জবেহ করে তবে তা শুধু জবেহ হিসেবে পরিগণিত হবে। কেননা কোরবানি ঈদের নামাজের পর আদায় করতে হয়।

লেখক : প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আমেনা খাতুন হাফেজিয়া কোরআন রিসার্চ অ্যান্ড ক্যাডেট ইনস্টিটিউট কটিয়াদী, কিশোরগঞ্জ।

কিউএনবি/অনিমা/০৬ জুন ২০২৫, /সকাল ৯:০৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

December 2025
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit