রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৬:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
চবির সাবেক জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ফোরামের ইফতার মাহফিলে ছাত্রদলের নবীন- প্রবীণ নেতাদের মিলনমেলা পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের জরিমানা হয়নি ১৪তম দিন শেষে যুদ্ধে এগিয়ে ইরান? ‎ইশতেহার বাস্তবায়ন, কৃষির উন্নয়ন ও সামাজিক অপরাধ দূর করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য—- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রানমন্রী ‘শিগগিরই’ ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার সাথে বৈঠক করবেন পুতিন! আমিরাতের তিন বন্দর এলাকায় হামলার সতর্কবার্তা ইরানের গ্লাভস হেলমেট ছুড়ে মারায় সালমানের শাস্তি ডলার নয়, চাইনিজ ইউয়ানে লেনদেন করলেই খুলবে হরমুজ প্রণালি বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি করা উচিত  নিজ দায়িত্বে বাড়ি ঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে: ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার 

মাথা গোজার ঠাঁই পেলো ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহতের পরিবার

তোবারক হোসেন খোকন ,দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
  • Update Time : শুক্রবার, ১৪ মার্চ, ২০২৫
  • ৬৫ Time View

তোবারক হোসেন খোকন ,দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি : মাথা গোজার ঠাঁই পেলো, ছাত্র-আন্দোলনের সহিংসতায় নিহত নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বাকলজোড়া গ্রামের জাকির হোসেনের পরিবার। জাকির হোসেনের কবরের পাশে নির্মান হবে ঘর। এই ঘর নির্মানের জন্য আর্থিক বরাদ্দ দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যান পরিষদ। শুক্রবার দুপুরে জাকির হোসেনের মায়ের কাছে ঘর নির্মানের সামগ্রী তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাভিদ রেজওয়ানুল কবীর। জাকির হোসেন ওই এলাকার মৃত ফজলু মিয়া ও মিছিলি বেগমের একমাত্র ছেলে। জীবন জীবিকার তাগিদে মা কে নিয়ে ঢাকায় কাজ করতে চলে যান জাকির হোসেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কের কাঁচপুর সেতুর কাছে ঠিকাদারের অধীনে ওয়াসার পানির লাইন মেরামতের কাজ করতেন তিনি। কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষ ও সারাদেশে কারফিউ জারি হওয়ায় বাসায় ফিরতে পারছিলেন না। গত ২১ জুলাই বিকেলে কাজ শেষে সহকর্মীদের সাথে পাশের একটি দোকানে নাশতা খেতে যান জাকির।

এ সময় হঠাৎ একটি গুলি এসে লাগে তার পিঠে। গুলি লাগার পর দৌড়ে পাশের একটি গলিতে গিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন জাকির। সেখানেই মৃত্যু হয় তার। পরে সহকর্মীরা দ্রুত মরদেহ নিয়ে যান জাকিরের মায়ের কাছে বাড্ডা নতুন বাজার এলাকায়। মা রাতেই মরদেহ নিয়ে রওনা হন গ্রামের বাড়ি নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলার বাকলজোড়া ইউনিয়নের বাকলজোড়া গ্রামে। পরদিন সকাল ১০টায় জানাজা শেষে দাফন করা হয় জাকির হোসেনের মরদেহ। একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলে না থাকায়, তার মা এ বাড়ি ও বাড়ি গিয়ে রাত কাটাচ্ছেন। এ বিষয়টি নজরে আসে দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসনের। পরবর্তিতে মায়ের ইচ্ছা মতোই ছেলের কররের পাশে একটি ঘর নির্মানের জন্য অর্থ বরাদ্দ আসার পর ওই স্থানে ঘর নির্মানের ব্যবস্থা নিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। জাকির হোসেনের মা মিছিলি বেগম বলেন, ভিটেমাটি না থাকায় ছোট জাকিরকে নিয়ে ঢাকায় চলে গিয়েছিলাম। মানুষের বাসায় কাজ করে ছেলেকে বড় করেছি, কাজ শিখিয়েছি।

ছেলের আয়ের টাকা দিয়ে কিছুদিন আগে গ্রামে ঘর তৈরির জন্য জায়গা কিনেছি। কিন্ত ঘর নির্মানের আগেই আমার ছেলে দুনিয়া থেকে চলে গেলো। বর্তমানে ছেলের কবরের পাশে একটা ঘর নির্মানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আমি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞ। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাভিদ রেজওয়ানুল কবীর বলেন, জাকির হোসেনের মা এ বাড়ি ও বাড়ি রাত্রি যাপন করছে এমন খবর পাই আমি। পরবর্তিতে ঘরের জন্য আর্থির বরাদ্দের চাহিদা দিলে জেলা প্রশাসক স্যার বরাদ্দের ব্যবস্থা করেন। এরই প্রেক্ষিতে আজকে সামগ্রী হস্তান্তর করছি, আশা করছি অল্প কিছুদিনের মধ্যে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত জাকির হোসেনের মায়ের স্বপ্ন পুরণ করতে পারবো। এ সময় উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. মাসুল তালুকদার, প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মো. জহুরুল ইসলাম, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জেলা কমিটির যুগ্ন-আহবায়ক রাতুল খান রুদ্র, হীরা আব্বাসী, জনপ্রতিনিধি সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন।

কিউএনবি/অনিমা/১৪ মার্চ ২০২৫,/বিকাল ৫:২৯

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

March 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit