ডেস্ক নিউজ : পোষ্য কোটাকে ‘লাল কার্ড’ দেখিয়ে বিক্ষোভ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রোববার বিকাল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করেন। কর্মসূচি থেকে আগামীকাল সোমবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার মুক্তমঞ্চে শিক্ষকদের সঙ্গে পোষ্য কোটার যৌক্তিকতা নিয়ে উন্মুক্ত বিতর্কের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
এসময় শিক্ষার্থীরা কোটা না মেধা? মেধা মেধা’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’, ‘জনে জনে খবর দে, পোষ্য কোটার কবর দে’, ‘জোহা স্যারের স্মরণে, ভয় করিনা মরণে’ ‘আপোষ না বিপ্লব, বিপ্লব বিপ্লব,’ ‘তুমি কে? আমি কে? মেধাবী মেধাবী,’ ‘ছাত্রসমাজের অ্যাকশান, ডাইরেক্ট একশান,’ ‘মেধাবীদের কান্না, আর না আর না ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাবি শাখার সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, পোষ্য কোটার বিরুদ্ধে আজকে আমরা লাল কার্ড প্রদর্শন করেছি। আগামীকালের বিতর্ক প্রতিযোগিতায় যদি তারা (শিক্ষকরা) তাদের পোষ্য কোটার পক্ষে যুক্তি দেখাতে পারে, তাহলে শিক্ষার্থীরা পোষ্য কোটাকে মেনে নিব কিন্তু তারা যদি কোন যুক্তি দেখাতে না পারে তাহলে সেখান থেকে পোষ্য কোটার বাতিল ঘোষণা করতে হবে। জুলাই অভুত্থানের মাধ্যমে আমরা ফ্যাসিস্ট একটা সরকারের পতন ঘটিয়েছি। পোষ্য কোটা নিয়ে তালবাহনা করলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পতন ঘটাতে ১০ মিনিটের বেশি সময় আমরা নিব না।
এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মেশকাত মিশু বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এবং চাকরির বাজারে বৈষম্যমূলক যে পোষ্য কোটা রয়েছে সেটাকে লাল কার্ড দেখাতে আজকের কর্মসূচি। আমাদের একমাত্র দাবি হচ্ছে, পোষ্য কোটাকে চিরতরে বিলুপ্ত করতে হবে। দেশের সর্বস্তরের প্রতিষ্ঠান থেকে এ বৈষম্য কোটা বিলুপ্ত করে বৈষম্যবিরোধী বাংলাদেশ গড়তে হবে।
শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে আইন বিভাগের অধ্যাপক মোর্শেদুল ইসলাম বলেন, ১৯৯৩ সালে তৎকালীন যে উপাচার্য ছিলেন তার ছেলে ৩৭ নম্বর পেয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নেওয়া হয়নি। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ন্যূনতম মার্ক ছিল ৪০। পরবর্তীতে দেখা গেছে ২২, ২৫, ২৮, ৩২ এবং ৪০ নম্বর ন্যূনতম নম্বর না পেয়েও ছাত্র-ছাত্রীদের কোটায় ভর্তি করা হয়েছে। পোষ্য কোটাধারী এসব ছাত্রছাত্রীরা সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টে যেয়ে ফার্স্ট-ক্লাস ফার্স্ট এবং সেকেন্ড হয়েছে, কিভাবে হয়েছে? এদেরকেই পরবর্তী সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষক হিসেবেও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই কারণে আমি চাইনা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষকের ছেলে বা মেয়ে কোটায় ভর্তি হোক।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ভর্তি পরীক্ষায় ৪ শতাংশ পোষ্য কোটা সুবিধা পেয়েছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানেরা। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ কোটা বাতিলের দাবি জানাচ্ছেন। এ দাবিতে গত ৩১ অক্টোবর উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেন শিক্ষার্থীরা। গত ১৪ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর এবারের ভর্তি পরীক্ষায় পোষ্য কোটা ১ শতাংশ কমিয়ে ৩ শতাংশ করার বিষয়টি জানায়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ওইদিন সন্ধ্যায় শহিদ শামসুজ্জোহা চত্বরে আমরণ অনশনে বসেন শিক্ষার্থীরা।
উপাচার্যের আশ্বাসে পরদিন দুপুরে অনশন ভাঙেন তারা৷ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পোষ্য কোটার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে একটি রিভিউ কমিটি করেন। ওই কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাদা আলাদাভাবে আলোচনায় বসেছে। আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি পোষ্য কোটা ৩ থেকে বাড়িয়ে আবার ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। না বাড়ালেও অন্তত ৩ শতাংশ বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে গত শুক্রবার রিভিউ কমিটির সঙ্গে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সভা হয়। সভায় শিক্ষার্থীরা পুরো কোটাই বাতিল করার দাবি জানান এবং শনিবার সারা দিনের মধ্যে এ ঘোষণা না দিলে আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে কোনো ঘোষণা না দেওয়ায় শনিবার রাত ৮টার দিকে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা এবং আজ পোষ্য কোটাকে লাল কার্ড প্রদর্শনের ঘোষণা দেন।
কিউএনবি/আয়শা/০৮ ডিসেম্বর ২০২৪,/সন্ধ্যা ৬:২০