ডেস্ক নিউজ : ইসলাম মানুষের জীবন ও সম্পদের যেমন নিরাপত্তা বিধান করেছে, তেমনই মানুষের মর্যাদাগত বিষয়েরও নিরাপত্তা বিধান করেছে। প্রত্যেক মানুষের জান-মাল অন্যের কাছে যেমন আমানত স্বরূপ, তেমনি প্রত্যেকের মান-মর্যাদা, ব্যক্তিগত বিষয়াবলিও অন্যের কাছে আমানত স্বরূপ। মহান আল্লাহ বলেন,
নিশ্চয় আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি, আমি তাদেরকে স্থলে ও জলে চলাচলের বাহন দান করেছি; তাদেরকে উত্তম জীবনোপকরণ প্রদান করেছি এবং তাদেরকে অনেক সৃষ্ট বস্তুর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি। (সুরা বনি ইসরাইল ৭০) প্রযুক্তির এই যুগে মানুষের মর্যাদাহানির অন্যতম মাধ্যম হ্যাকিং। হ্যাকিং এর মাধ্যমে হ্যাকার কম্পিউটার বা মোবাইলের সফটওয়্যার, ফেসবুক বা ইউটিউব অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য থেকে শুরু করে গোপনীয় অনেক বিষয় ব্যক্তির বিনা অনুমতিতে হাতিয়ে নেয়। যার ফলে ব্যক্তি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকে, আর্থিক ক্ষতিরও সম্মুখীন হয়। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিসে বলেন,
প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির রক্ত (জীবন), ধন-সম্পদ ও মান-সম্মান অন্য মুসলিমের জন্য হারাম। (মুসলিম ৬৭০৬) মানুষের সম্পদ চুরি করা যেমন হারাম তেমনই তার কোনো গোপন তথ্য চুরি করে তার গোপনীয়তা নষ্ট করা ও তাকে কষ্ট, পেরেশানিতে নিপতিত করাও ইসলামে সুস্পষ্টভাবে হারাম। অনুমতি ছাড়া কারো গোপনীয় কোনোকিছুর অ্যাক্সেস নেয়া জায়েজ নাই।
অন্যের ব্যক্তিগত গোপনীয় কাজে আড়িপাতার বিষয়ে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কঠিন হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘যদি কেউ তোমার ঘরে অনুমতি ছাড়া উঁকি দেয়, তুমি পাথর মেরে তার চক্ষু ফুঁটো করে দাও, এতে তোমার কোনো গুনাহ নেই।’ (বুখারি শরিফ ৬৮৮৮) বিশেষজ্ঞদের মতে হ্যাকারদের তিনটি শ্রেণি রয়েছে। হোয়াইট হ্যাট, গ্রে হ্যাট ও ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার। এদের মধ্যে ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার বেশ ভয়ংকর। যারা মানুষের তথ্য হ্যাক করে তাদের বিপদে ফেলে দেয়।
তোমরা মানুষের দোষ অনুসন্ধান করো না; কারো পশ্চাতে গোয়েন্দাগিরি করো না; হিংসা-বিদ্বেষ ও শত্রুতা চর্চা করো না। সবাই এক আল্লাহর বান্দা হিসেবে ভাই ভাই হয়ে থাকো। (বুখারি ৫৮২৯) রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন,যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের সম্ভ্রমহানি বা অন্য কোনো বিষয়ে জুলুমের জন্য দায়ী থাকে, সে যেন আজই তার কাছ থেকে মাফ করিয়ে নেয়, সেদিন আসার আগে, যেদিন তার কোনো দিনার বা দিরহাম থাকবে না। সেদিন তার কোনো সৎকর্ম না থাকলে তার জুলুমের পরিমাণ তার কাছ থেকে নেওয়া হবে আর তার কোনো সৎকর্ম না থাকলে তার প্রতিপক্ষের পাপ থেকে নিয়ে তা তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। (বুখারি ২৪৪৯)
গ্রে হ্যাট হ্যাকার অনুমতি ছাড়া কোন সিস্টেম হ্যাক করে থাকলেও সেটির মাধ্যমে কোনো তথ্য চুরি করে না। বরং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সিস্টেম হ্যাক করার পরে এর সিকিউরিটি ঠিক করতে সময় দেয়। যদিও তাত্ত্বিক দিক দিয়ে হোয়াইট ও গ্রে হ্যাট হ্যাকারদের মধ্যে খুব বেশি অমিল নেই কিন্তু গ্রে হ্যাট হ্যাকাররা অনুমতি না নিয়েই সিস্টেম হ্যাক করে; ফলে এটি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। ইসলামের দৃষ্টিতে এই ক্যাটাগরির হ্যাকিংও জায়েজ নেই। বিনা অনুমতিতে অন্যের গোপন তথ্য খোঁজাও ইসলামে নিষিদ্ধ।
আল্লামা বদরুদ্দিন আইনী (রহ.) বলেন, ‘ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে তালাশ-অনুসন্ধান নিষেধ। তবে যদি কাউকে রক্ষা করার জন্য অপরিহার্য হয়, তাহলে বৈধ হবে। যেমন, বিশ্বস্ত ব্যক্তি মারফত জানা গেলো যে অমুক কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা করার জন্য অথবা কোনো মহিলার সাথে যিনা করার জন্য প্রস্তুত। এক্ষেত্রে কিছু ঘটিয়ে ফেলার আগেই যেন তাকে নিবৃত্ত করা যায় সে উদ্দেশ্যে তার ব্যাপারে তদন্ত ও অনুসন্ধান করা যাবে।’ (উমদাতুল ক্বারি ১৫/২১৮)
যে অন্যের ক্ষতি করল আল্লাহ তার ক্ষতি করবেন এবং যে তার সঙ্গে শত্রুতা করবে আল্লাহ তাকে শাস্তি দেবেন। (সুনানে দারাকুতনি, হাদিস ৩০৭৯)
কিউএনবি/আয়শা/০৯ অক্টোবর ২০২৪,/রাত ১১:৪৫