শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নভোএয়ারের ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি, ঢাকায় জরুরি অবতরণ পাকিস্তানে বাস খাদে পড়ে নিহত ৪০ নতুন ভোটার নিবন্ধনের সময়সীমা এক মাস বাড়ালো ইসি বড় পর্দায় বিশ্বকাপ দেখার স্থানগুলোতে বিশেষ নজরদারি চালাবে ডিএমপি সুখরঞ্জন বালী অপহরণে সরাসরি জড়িত ছিলেন এএসপি ফজলুর মাটিরাঙ্গায় বর্ণিল আয়োজনে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’ এর শুভ উদ্বোধন। গুড়গুড়ি উত্তরপাড়া গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষরা ৬০টি আম গাছ কেটে ফেলেন ॥ আশুলিয়ায় মোটর চালক দলের মতবিনিময় সভা  দেবীগঞ্জে ৩ বছরেও শেষ হয়নি সড়ক নির্মাণকাজ, ঠিকাদারের অবহেলার অভিযোগে মানববন্ধন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কফিন তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায়, জানাজা শনিবার

ফ্যাসিবাদ পতন আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিতে হবে সরকার কে 

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
  • ১৫০ Time View

জালাল আহমদ : শেখ হাসিনার দীর্ঘ ১৬ বছর ‘ফ্যাসিবাদ’ পতন আন্দোলনে  বাংলাদেশী প্রবাসীরা বিদেশের মাটিতে আন্দোলন করতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।তাই  ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিতে হবে  সরকার কে। 

আজ ২৫  সেপ্টেম্বর বুধবার  জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘আধুনিক গণতান্ত্রিক মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের  মানুষের কাছে রেমিটেন্সযোদ্ধা প্রবাসী ও অভিবাসীদের প্রস্তাবনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

‘বাংলাদেশ প্রবাসী ও অধিবাসী পরিষদ, NRB professionals for Reform এবং বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার ঐক্য পরিষদ’ নামক ৩ টি প্রবাসী বাংলাদেশি সংগঠন এই গোলটেবিল আলোচনা সভার আয়োজন করে।লন্ডন প্রবাসী  মানবাধিকার ব্যক্তিত্ব  মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান (মাসুদ) আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। 

এ সময় বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক এস এম মোস্তফা মামুন,সাংবাদিক শিমুল পারভেজ,বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন আহবায়ক জালাল  আহমদ,জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য মাজহারুল ইসলাম, ছাত্র আন্দোলনে শহীদ আব্দুর রহমান জিসানার বাবা বাবুল সরদার, প্রবাসী ঐক্য পরিষদের সভাপতি সালাহউদ্দিন,হাফেজ নাঈম প্রমুখ।

মূল প্রবন্ধে মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চারটি কাজ  অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত । 

১)ব্যাংকিং সেক্টরে তারল্য সংকট সমাধান করা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা। 

২)প্রশাসনকে নিরেপেক্ষ  করে গড়ে তোলা। 

৩)আইন শৃঙ্খলার উন্নতি, পুলিশ বাহিনী কে স্বাধীন, স্বতন্ত্র এবং  নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত  করা। 

এবং ৪)নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা। 

এ সময় প্রবাসীদের কল্যাণের জন্য ১১ দফা দাবি ঘোষণা করা হয়। সেগুলো হলো :

১) প্রবাসীদের ভোটের  অধিকার নিশ্চিত করা, 

২)প্রবাসীদের লাশ সরকারি খরছে দেশে আনার  ব্যবস্থা করা, 

৩)প্রবাসীদের জন্য পেনশন স্কিম চালু করা, 

৪)বিদেশে অবস্থানরত প্রতিটি হাইকমিশনে প্রবাসীদের জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করা,

৫) রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানোর জন্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিদেশে পাঠানোর আগে বিশেষায়িত ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করা। 

৬)বিমানবন্দর দিয়ে আগমন বা বহিঃক্রমনের ক্ষেত্রে  সেবার মান বাড়ানো,৭)দালালদের দৌরত্ব বন্ধ করা,৮)বিদেশে কর্মী পাঠানোর খরচ দ্রুত কমিয়ে আনা, ৯)ইনভেস্টমেন্ট বাড়ানোর জন্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের ১০ বছরের ট্যাক্স ব্রেক , ১০)বাংলাদেশের প্রতিটি সেক্টরে প্রবাসে অবস্থানরত অভিজ্ঞ  ও মেধাবীদেরকে প্রশাসনের প্রতিটি পর্যায়ে দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং 

১১)সিন্ডিকেট মুক্ত করে সম্পূর্ণ অনলাইনে টিকেট নিশ্চিত করা।

এ সময় বক্তারা বিপ্লবকে ধরে রাখার জন্য দীর্ঘস্থায়ী কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করেন। সেগুলো হলো, দ্রুত সংবিধান সংস্কার বা নতুন সংবিধান গঠনের মাধ্যমে অনুচ্ছেদ ৭০; ডিজিটাল সিকিউরিটি এক্ট  সহ সব কালো আইন বাতিল করা;

সকল পর্যায়ে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ; লেজুড়ভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা; একই ব্যক্তির দুবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী এবং দলীয় সভাপতি না হওয়া;

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করা; নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা;

প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক(কলেজ) এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্টের ট্রেনিং ও সেই ট্রেনিংয়ের  বাস্তবিক অভিজ্ঞতার আলোকে  টেকনিক্যাল বা কারিগরি যে শিক্ষা কে প্রাধান্য দেওয়া;

গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল গুলোর অভ্যন্তরে গণতন্ত্র নিশ্চিত করা; প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার, চেয়ারম্যানদের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক,এমপির ক্ষেত্রে  শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) করা; প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করা;অতি দ্রুত ছাত্র সংসদ গুলো সচল করা ইত্যাদি। 

এবারের ছাত্র আন্দোলনে শহীদ আব্দুর রহমান জিসানার বাবা বাবুল সরদার অভিযোগ করেন “পুলিশ ও আওয়ামী লীগ গত ২০শে জুলাই (শনিবার) আমার ছেলে আব্দুর রহমান জিসান কে নির্মমভাবে মাথায় গুলি করে মেরে ফেলে। আমার একটাই সন্তান।   সরকার ইন্টারনেট ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়ায়  আমি খবর পাই নি!খবর পাওয়ার পর দেশে চলে আসি। 

এখন পর্যন্ত সরকার বা কোন সমন্বয়ক যোগাযোগ করে নাই।”এ সময় তিনি আক্ষেপ করে বলেন,” গত ২৯ শে জুলাই শোক সহ্য করতে না পেরে আমাদের পুত্রবধূ  জিসানের স্ত্রী  আত্মহত্যা করেন। আমি একজন রেমিটেন্সযোদ্ধা।দক্ষিণ সুদানে থাকি। আজকে দেশের দায়িত্ব পালনকারী সরকার যেন আমাকে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। কোন

রাজনীতির দল,সমন্বয়ক কেউ আমার বাসায় গিয়ে  কোনো খোঁজ খবর নেন নাই। 

যদি পারেন আমাকে বিদেশে পাঠানোর  টিকেটের ব্যবস্থা করে দেন।”

প্রবাসী ঐক্য পরিষদের সভাপতি সালাহউদ্দিন দুবাইয়ে 

আন্ডার গ্রাউন্ড কারাগারে তাদেরকে গুম করে রেখেছিল বলে অভিযোগ করেন। 

তিনি বলেন,”২০১৮ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে আমরা অবদান রেখেছি। এবারের আন্দোলনে প্রবাসীরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের পুনর্বাসন  করার জন্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।”

তিনি আরো বলেন, “ব্যাঙের ছাতার মতো ট্রাভেল  এজেন্সী বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল করতে আমি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে আহ্বান জানাচ্ছি।”

কিউএনবি/আয়শা/২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪,/রাত ৮:৫০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit