শান্তা ইসলাম নেত্রকোনা প্রতিনিধি : নেত্রকোনার পূর্বধলার শ্যামগঞ্জ হাফেজ জিয়াউর রহমান ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান খন্দকারের বিরুদ্ধে কলেজ সরকারীকরনের নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকালে অভিযোগটি মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবী করে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন- কলেজের অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান খন্দকার অধ্যক্ষ ও কলেজের অন্য শিক্ষকরা।
শিক্ষকরা জানান, কলেজের দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুখলেছুর রহমান টিটু অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ করেছেন। তিনি অধ্যক্ষকে নানা সময় হুমকি ধমকিও দিতেন। বেশ কিছুদিন আগে ওই শিক্ষক বলেছিলেন বিএনপি ক্ষমতায় গেলে একদিনও অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমানকে অধ্যক্ষের চেয়ারে বসতে দেওয়া হবে না। কলেজের অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান খন্দকার জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
গত কয়েকদিন পূর্ব তার বিরুদ্ধে কলেজের শিক্ষক মোঃ মুখলেছুর রহমান টিটু সম্প্রতি কলেজের টাকা আত্মসাতসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করেন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর। বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবী করেন অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান। তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্যই এ অভিযোগ। এছাড়াও অভিযোগকারী তাকে বিভিন্ন সময় পদত্যাগ করার জন্যও হুমকি দিতেন। বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে সকল শিক্ষকদের সমন্বয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। তার বিরুদ্ধে এ হেন মিথ্যা অভিযোগে প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করেন।
হাফেজ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজের জীবন পন্ডিত, মোঃ আবুল কালাম, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শ্যামল ঘোষসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক বলেন, কলেজ জাতীয়করণের নামে টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমাদের জানা নেই। কলেজের কার্যক্রম সুষ্ঠ- সুন্দরভাবে পরিচালিত হচ্ছে। কলেজের সহকারী অধ্যাপক মুখলেছুর রহমান মিথ্যে অভিযোগ করেছেন। এতে কলেজের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে বলেও তারা দাবী করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনৈক শিক্ষক বলেন, মুখলেছুর রহমান বলেছে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে একদিনও এই অধ্যক্ষ (হাবিবুর রহমান খন্দকার) অধ্যক্ষের চেয়ারে বসতে দেওয়া হবে না। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মুখলেছুর রহমান সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে।
অভিযোগকারী হাফেজ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজের দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুখলেছুর রহমান টিটু বলেন, কলেজের অধ্যক্ষ দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম দুর্নীতি করে আসছেন। কলেজের টাকা কলেজ ফান্ডে না রেখে নিজের একাউন্টে রাখেন অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান। কলেজ জাতীয়করনের নামে শিক্ষকদের কাছ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা নিয়েছেন। কিন্তু কলেজ জাতীয়করণ করা হয়নি। এসব বিষয় নিয়ে ইউএনও বরাবর অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অধ্যক্ষকে হুমকি দেইনি এবং তার পদত্যাগের বিষয়ে আমি কিছুই বলিনি। পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খবিরুল আহসান বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ এসেছে। তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে সত্য মিথ্যা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কিউএনবি/আয়শা/১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪,/সন্ধ্যা ৬:১৪