বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম

১০ বিষধর সাপের তালিকায় নেই রাসেলস ভাইপার

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ২৮ জুন, ২০২৪
  • ১১২ Time View

ডেস্ক নিউজ : দেশজুড়ে বহুল আলোচিত রাসেলস ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া সাপ সারাবিশ্বে বিষধর ১০টি সাপের মধ্যে নেই বলে জানিয়েছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা। ফলে সাপটি নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। এছাড়া দেশে পর্যাপ্ত এন্টিভেনম (সাপের কামড়ের ব্যবহৃত প্রতিষেধক) মজুদ রয়েছে। সরকারিভাবে সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধটি পৌঁছানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘রাসেল’স ভাইপার নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। জনগণের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। আমি সংসদ সদস্যদের নিজ এলাকার রোগীকে চিকিৎসকের কাছে দ্রুত মানুষের কাছে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করার আহ্বান করেছি। আমি সবাইকে আশ্বস্ত করতে চাই, আমাদের এন্টিভেনমের সংকট নেই।’

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. রোকেয়া সুলতানা বলেন, বাংলাদেশে সবাই ডাক্তার। এটি একটি বড় সমস্যা। আমাদের এখানে যে কোনো রোগে মানুষ নিজেরা সিদ্ধান্ত নিয়ে ওষুধ খায়। এমনকি অ্যান্টিবায়োটিকও সেবন করে। সাপের কামড়ে ওঝাদের কাছে না গিয়ে যে কোনো রোগে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। সাপের বিষয়ে আমরা সচেতনা তৈরির চেষ্টা করছি। এই বিষয়ে গণমাধ্যনের সহযোগিতা চাই।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. দীন মো. নূরুল হক বলেন, দেশে ৬৬৫ জনকে প্রতিদিন কুকুরে কামড়ায়। পানিতে ডুবে অনেক মানুষ মারা যায়। রাসেল’স ভাইপারে কামড়ের সংখ্যা আরও অনেক কম। এ বিষয়ে আতঙ্ক তৈরি না করে সচেতন হবে। ভয় তৈরি করা যাবে না।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. টিটো মিঞাঁ বলেন, সাপে কাটা রোগী যদি হাসপাতালে এসে মৃত্যুবরণ করে এর দায় আমাদের। আমাদের প্রত্যেক হাসপাতালে এন্টিভেনম পৌঁছানো হয়েছে। চিকিৎসকরা এ বিষয়ে প্রশিক্ষিত। তবে ওঝাসহ নানা কারণে রোগী হাসপাতালে আসতে দেরি করায় মৃত্যু বাড়ে। দেরিতে হাসপাতালে আসায় রোগীরা অন্তত ক্রিটিক্যাল অবস্থায় চলে যায়। ওই অবস্থায় তাদের ইনটেনসিভ কেয়ার সেন্টারের প্রয়োজন। হাসপাতালে এই ক্রিটিক্যাল রোগীদের মৃত্যু অনেকটা রোধ করা সম্ভব যদি ইনটেনসিভ সেবা নিশ্চিত করা যায়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর বলেন, সাপের বিরুদ্ধে বিপ্লব ঘোষণা করা হয়েছে। এটি করা যাবে না। সাপ ইকোলজিক্যাল ব্যালান্স বা পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করে। সাপের বিষ ওষুধ তৈরির উপাদান। মানবসৃষ্ট কারণের সাপ তার বাসস্থান থেকে লোকালয়ে আসছে। রাসেল’স ভাইপার নিয়ে অসংখ্য মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বিষধর সাপের একটি। অথচ বিশ্বের দশটি বিষধর সাপের মধ্যেও নেই রাসেল’স ভাইপার।

সেমিনারে বৈজ্ঞানিক সেশনে আলোচনা করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়য়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবু রেজা, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আবু শাহীন মো. মাহবুবুর রহমান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. অনিরুদ্ধ ঘোষ। আলোচকরা রাসেল’স ভাইপার সাপ এবং এন্টিভেনম নিয়ে তদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। রাসেল’স ভাইপারের বাসস্থান, অভ্যাসসহ নানা বিষয় তুলে ধরেন বিশেষজ্ঞরা। একইসঙ্গে আলোচকরা সাপটির বিষের ধরন, চিকিৎসা ব্যবস্থা ও কামড় প্রতিরোধে করণীয়সহ এন্টিভেনম তৈরির নানা পদক্ষেপ তুলে ধরেন।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২৮ জুন ২০২৪,/দুপুর ২:২৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

April 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit