শরীয়তপুর জেলা সংবাদদাতা : ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে জাজিরা উপজেলায় ২১ মে সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। উপজেলার সেনেরচর ইউনিয়নের ফরাজী দারুস সুন্নাহ হাফিজিয়া মাদরাসা কেন্দ্র্রে বেলা ১১টার দিকে মোটর সাইকেল প্রতিকে ভোটারদের ভোট দিতে বাধ্য করা হয় এমন অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। জাজিরা উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা সেই কেন্দ্রে গিয়ে প্রকাশ্যে ভোট গ্রহণের তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করে। তখন মোটর সাইকেল প্রতিকের সমর্থকরা ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিকদের উপর হামলা চালায়।
হামলায় দৈনিক বার্তা বাজার প্রতিনিধি আশিকুর রহমান হৃদয়, যায়যায় দিন প্রতিনিধি ইমরান হোসাইন, দৈনিক সংবাদ প্রতিনিধি ও জাজিরা প্রেস ক্লাব সভাপতি পলাশ খান, দৈনিক জবাবদিহি প্রতিনিধি ও প্রেস ক্লাবের সম্পাদক সুজন মাহমুদ, ঢাকা ক্যানভাস প্রতিনিধি বরকত মোল্লা, বাংলাদেশ সমাচার প্রতিনিধি রুহুল আমিন, কালবেলা প্রতিনিধি আব্দুর রহিম আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতদের জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
জাজিরা প্রেস ক্লাব ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, জাজিরা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ চলাকালে মোটর সাইকেল প্রতিকে (জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইদ্রিস ফরাজীর পক্ষে) বেলা ১১টার দিকে ফরাজী দারুস সুন্নাহ হাফিজিয়া মাদরাসা কেন্দ্রে প্রকাশ্যে ভোট গ্রহণ করা হয়। এমন ঘটনার ভিডিও ধারণ শুরু করে বার্তা বাজার প্রতিনিধি আশিকুর রহমান হৃদয়সহ কয়েকজন সাংবাদিক। তখন মোটর সাইকেল প্রতিকের ব্যাচ ধারণ করা কয়েকজন লোক এসে সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাধা দেয় এবং ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। তখন অন্যান্য সাংবাদিকরা এগিয়ে গেলে মোটর সাইকেল প্রতিকের সমর্থকরা সাংবাদিকদের উপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে।
গুরুতর আহত সাংবাদিক হৃদয়, বরকত ও ইমরান জানায়, তারা ভোট কেন্দ্রের বাহিরে ছিলেন। প্রকাশ্যে ভোট গ্রহণের অভিযোগ পেয়ে ভোট কেন্দ্রের ভিতরে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পায় তারা। প্রকাশ্যে ভোট গ্রহণের ভিডিও ধারণ শুরু করলে মোটর সাইকেল প্রতিকের ব্যাচ ধারণ করা কয়েক যুবক তাদের বাঁধা দেয়। পরে তাদের সাথে থাকা অন্যান্য সাংবাদিকরা এগিয়ে গেলে মোটরসা ইকেল প্রতিকের প্রার্থীর ভাই ইমন ফরাজীর নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জন মিলে তাদের উপর হামলা চালায়। মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়।
জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, আহত অবস্থায় কয়েকজন সাংবাদিককে নিয়ে আসে। এদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা গুরুতর। তাদের শরীরে আঘাত ছিল। আহতদের ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
জাজিরা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি দুঃজনক। তদন্ত পূর্বক দোষিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। সহকারী রিটার্নি কর্মকর্তা ও জাজিরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া ইসলাম লুনা বলেন, আমরা খবর পেয়ে অভিযুক্ত কেন্দ্রটি জেলা প্রশাসকসহ পরিদর্শন করেছি। যারা আহত হয়েছেন তারা লিখিত অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কিউএনবি/আয়শা/২১ মে ২০২৪,/বিকাল ৫:৫০