জালাল আহমদ , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : আজ ৪ ফেব্রুয়ারি (২০২৪) রবিবার অমর একুশে বইমেলা ২০২৪-এর চতুর্থ দিনে নতুন বই এসেছে ৬৬টি।উল্লেখযোগ্য বই: গ্রন্থ সংস্কৃতি ও সদাচার প্রবন্ধটি লিখেছেন মুহম্মদ নূরুল হুদা (বাংলা একাডেমি),বাংলায় ইসলাম : সহজিয়া ও রক্ষণশীল ধারা প্রবন্ধটি লিখেছেন স্বকৃত নোমান (পাঠক সমাবেশ), মহাকালের পথে পথে ভ্রমণকাহিনি লিখেছেন ননী গোপাল সরকার (আগামী প্রকাশনী) ,লালন ফকির : এক নিঃসঙ্গ সাধক গবেষণা পত্র লিখেছেন আবদুল্লাহ আল আমিন ,দেশ : স্বাস্থ্য, রাজনীতি বইটি লিখেছেন অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান প্রমুখ।
অন্যান্য খবর: বিকেল ৪:০০টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণ : “কাঙাল হরিনাথ মজুমদার” শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তপন মজুমদার। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন জাফর ওয়াজেদ এবং আমিনুর রহমান সুলতান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুনতাসীর মামুন। আলোচনার শুরুতে কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের জীবন ও কর্মভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। প্রাবন্ধিক বলেন, বাউল সংগীতকে সামাজিক জীবনধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার মানসে ঊনবিংশ শতকে যে কয়েকজন সাহিত্যসাধক নিজেদের সাহিত্যসম্পদকে নিয়োজিত করেছিলেন কাঙাল হরিনাথ তাঁদের মধ্যে অন্যতম পথিকৃত। কাঙাল হরিনাথ হিরন্ময় প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। কাঙাল হরিনাথের জীবন-দর্শন, আধ্যাত্ম ভাবনা ও মরমি মানসের পরিচয় পাওয়া যায় তাঁর বাউল সংগীতের মধ্যে। এই বাউল সংগীতের কথা ও সুর এবং সহজ-সরল প্রাণস্পর্শী ভাব কী শিক্ষিত আর কী নিরক্ষর, সকলকেই মুগ্ধ করে।
আলোচকবৃন্দ বলেন, রুচিশীল ও শিল্পবোধ-সম্পন্ন কাঙাল হরিনাথ মজুমদার ছিলেন সৌন্দর্যের পূজারি। আমাদের আবহমান বাংলার লোক-ঐতিহ্যকে হৃদয়ে ধারণ করেছিলেন তিনি। সংবাদপত্র ও সাহিত্যকে তিনি শাসক ও শোষকদের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তিনি যেমন বাউল গানে অধ্যাত্মবাদের কথা বলেছেন তেমনি সমাজ-সংস্কারের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। কাঙাল হরিনাথ মজুমদার নিজেই ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান। সভাপতির বক্তব্যে মুনতাসীর মামুন বলেন, কাঙাল হরিনাথ মজুমদার ছিলেন একইসঙ্গে বিদ্রোহী এবং অধ্যাত্মবাদী। তাঁর কর্মের ব্যাপ্তি ছিল অনেক দূর-বিস্তৃত। সৃজনশীল বুদ্ধিজীবী হিসেবে তিনি প্রান্তিক অবস্থানে থেকেও সমাজ সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন।
আজ ‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন চলচ্চিত্রকার ও লেখক তানভীর মোকাম্মেল, শিশুসাহিত্যিক বেণীমাধব সরকার, গবেষক কাজল রশীদ শাহীন এবং কবি ফারুক আহমেদ। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি আনিসুল হক, ফারুক মাহমুদ এবং ঝর্না রহমান। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, ডালিয়া আহমেদ এবং নায়লা তারান্নুম চৌধুরী। এছাড়া ছিল অনুপম বিশ্বাসের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘বেসিক একাডেমি অফ ইয়োগিক এ্যাকুস্টিক ট্রেডিশনাল ইন্সট্রুমেন্ট’ এবং মো. সাজেদুল ইসলাম ফাতেমীর পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘নকশিকাঁথা’র সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সংগীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী ফরিদা পারভীন, চন্দনা মজুমদার, আব্দুল লতিফ শাহ, আরিফ দেওয়ান এবং সরকার আমিরুল ইসলাম।
আগামীকালের সময়সূচি :আগামীকাল ২২শে মাঘ ১৪৩০/৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৪ সোমবার। অমর একুশে বইমেলার পঞ্চম দিন। মেলা শুরু হবে বিকেল ৩:০০টায়, চলবে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। ।আলোচনা অনুষ্ঠান বিকেল ৪:০০টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে সার্ধশত জন্মবার্ষিক শ্রদ্ধাঞ্জলি : মোহাম্মদ রওশন আলী চৌধুরী।
কিউএনবি/অনিমা /০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪,/রাত ৮:২৫