বেলা বাড়ার সাথে সাথে একের পর এক ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে স্মৃতিসৌধে প্রবেশ করতে থাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও শ্রমিক সংগঠনসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন। তাদের সবার হাতে ফুলের তোড়া। সেসব তোড়ার স্থান পেয়েছে স্মৃতিসৌধের মূল শহীদ বেদিতে। সহস্র জনতার শ্রদ্ধার ফুলে ভরে উঠছে শহীদ বেদি।
জাতীয় স্মৃতিসৌধে বিজয়ের ৫২ বছর উদযাপন করতে আসা হাজারও মানুষের মধ্যে ছিল বাঁধভাঙা উল্লাস। তবে এর মধ্যেও ৩০ লাখ শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা জানাতে ভোলেননি তারা। শিশু থেকে আবালবৃদ্ধ বনিতা অধিকাংশের হাতে লাল-সবুজের পতাকা আর বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছে জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকা।
শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন আশুলিয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ হোসেন মন্ডল। তিনি বলেন, ‘আজ স্মৃতিসৌধে গণমানুষের ঢল নেমেছে। সবাই একে একে নিবেদন করছেন শ্রদ্ধা। আমি আমার সহযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা জানিয়েছি। আমি স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হয়ে বেঁচে আছি। কিন্তু আমার সহযোদ্ধারা এই স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে জীবন দিয়েছেন। তারা দেখে যেতে পারেন নি স্বাধীনতা। আজ তারা সর্বস্তরের জনগণের শ্রদ্ধায় সিক্ত। এটাও আমার কাছে বড় পাওয়া।’
শ্রদ্ধা জানাতে আসা আশুলিয়ার ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দোয়া প্রার্থী সুলতান মাহমুদ বাদশা বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ করতে পারিনি। কিন্তু যারা যুদ্ধ করেছেন, দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, তাদের রক্তের বিনিময়ে আমারা আজ স্বাধীনতা অর্জন করেছি। তাই তাদের কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করা আমাদের প্রয়োজন। এজন্যই শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি। এখানে আমি প্রতিবারই আসি।’ জাতীয় স্মৃতি সৌধে ফুল অর্পণের মধ্য দিয়ে ঘোষণা দিতে চাই আগামীতে ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবো, সকলে আমার জন্য দোয়া করবেন।
অন্যদিকে, দিবসটি উপলক্ষে সাভার-আশুলিয়ার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করছে।