জসীম উদ্দিন জয়নাল,পার্বত্যাঞ্চল প্রতিনিধি : আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের গুলিতে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি বিপুল চাকমাসহ ৪ নেতাকে হত্যার প্রায় ২০ ঘণ্টা পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করেছে পানছড়ি থানা পুলিশ।নিখোঁজ রয়েছেন ইউপিডিএফের তিন নেতাকর্মী।প্রসীত গ্রুপের ৪ নেতাকর্মীকে হত্যার ঘটনায় খাগড়াছড়ির পানছড়ি এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আতঙ্কে রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে পানছড়ির লোগাং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গম অনিলপাড়া থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ পিসিপির সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি বিপুল চাকমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সুনীল বিকাশ ত্রিপুরা (২৮), লিটন চাকমা (২৯) যুব ফোরামের জেলা সহ-সভাপতি লিটন চাকমা ও ইউপিডিএফের সদস্য রুহিন ত্রিপুরা।
এ ছাড়াও ইউপিডিএফ নেতা হরি কমল ত্রিপুরা, নীতি দত্ত চাকমা ও মিলন চাকমা নিখোঁজ রয়েছে। ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপ এই ঘটনার জন্য ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিককে দায়ী করেছে। লোগাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয় কুমার চাকমা ও চেংগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনন্দ জয় চাকমা জানান, গতকাল রাত আনুমানিক দশটার দিকে সশস্ত্র কিছু লোকজন এসে বাড়িটি ঘেরাও করে চারজনকে গুলি করে হত্যা করে ও তিনজনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে এসেছি। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকায় জনগণ ভয়ভীতির মাঝে বসবাস করছে বলেও জানান তিনি।
খাগড়াছড়ি জেলা ইউপিডিএফ’র জেলা সংগঠক অংগ্য মারমা জানান, মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) এলাকায় যুব সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। তাই তারা সেখানে অবস্থান করছিল। ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তাদের দাবি বলেও তিনি জানান। গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফের সভাপতি শ্যামল চাকমা হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিজেদের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে পানছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)মো সফিউল আজম জানান, চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল খুব দুর্গম। পরবর্তীতে যে আইনি কার্যক্রম তার প্রক্রিয়া চলছে।
কিউএনবি/আয়শা/১৩ ডিসেম্বর ২০২৩,/বিকাল ৩:১৮