বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:০৭ অপরাহ্ন

ছাত্রদলের ওই ৭ নেতাকে বহিষ্কার করা উচিত: ডিবি প্রধান

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৩
  • ২৪০ Time View

ডেস্ক নিউজ : ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেছেন, ডিবি কাউকে ভয় পায় না। আমরা সত্যিকার অর্থেই অস্ত্রধারী ও অস্ত্র ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছি। এটা চলমান থাকবে। অস্ত্রধারী ব্যক্তি কোনো দলের হতে পারে না। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ছাত্রদলের ওই সাত কেন্দ্রীয় নেতাকে দলীয়ভাবে বহিষ্কার করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। 

এর আগে গত ২৪ আগস্ট কলবাগান থেকে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আবুল হাচান চৌধুরীকে অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেফতার দেখায় ডিবি পুলিশ। এ প্রসঙ্গে হারুন বলেন, আমাদের ডিবি পুলিশের আটটি টিমে অস্ত্র উদ্ধারে আলাদা টিম রয়েছে। সম্প্রতি অস্ত্র উদ্ধারে একটা অভিযান পরিচালনা করে ছয়জনকে অস্ত্র গোলাবারুদসহ গ্রেফতার করে গুলশান গোয়েন্দা বিভাগ। এরই ধারাবাহিকতায় কলাবাগান থানা এলাকা থেকে অস্ত্র-গুলিসহ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আবুল হাচান চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে চারটি অস্ত্র উদ্ধার ও গ্রেফতার করা হয়েছে ছাত্রদলের সাত কেন্দ্রীয় নেতাকে। 

হারুন বলেন, তারা ফেসবুকে অস্ত্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, কথোপকথন করেছে, তার ছবি আমাদের কাছে রয়েছে। মাসুম নামে একজন ঢাবি ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসানকে বলেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ রহমান হল দখলে ব্যবহার করবেন বলে কথোপকথনে উঠে এসেছে। 

হারুন বলেন, কোন দলের নেতা বা কর্মীকে গ্রেফতার করা আমাদের উদ্দেশ্য না। তবে যারা চোরাকারবারি, সন্ত্রাসী, অস্ত্র, মাদক ব্যবসা করবে তাদের বিরুদ্ধেই আমাদের অভিযান। যদিও অনেকেই বলার চেষ্টা করছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এটা রাজনৈতিক কথাবার্তা। আমরা আমাদের আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অভিযান পরিচালনা করেছি। 

ডিবিপ্রধান দাবি করেন, ছাত্রদলের গ্রেফতার নেতারা যে ১১টি অস্ত্র কেনার জন্য অস্ত্র ব্যবসায়ীদের কাছে অর্ডার করেছে, সেটি প্রমাণিত। সম্প্রতি গ্রেফতাররা হয়তো ছাত্রদলের নেতাকর্মী কিন্তু এর আগেও তো শার্শা উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকে আমরা অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছি, বাড্ডা থানা অস্ত্র মামলায় আমরা নাসির, কাউসার, জীবনকে গ্রেফতার করেছি, তারা সবাই ছাত্রলীগের নেতা। 

কিছুদিন আগে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার হারুন ও রশিদ হত্যা মামলার আসামি আসাদুজ্জামানকে দুটি অস্ত্রসহ আমরা গ্রেফতার করেছি। তখন তো কেউ প্রশ্ন তোলেনি? গ্রেফতাররা ছাত্রদলের বলে কেন তবে প্রশ্ন উঠছে? আমাদের উদ্দেশ্যটা রাজনৈতিক নয়। কে ছাত্রলীগ বা ছাত্রদলের সেটি আমাদের মুখ্য বিষয় নয়। মুখ্য বিষয় হচ্ছে, সে অস্ত্র ব্যবসায়ী, চোরাকারবারি, অস্ত্র ভাড়া করে মানুষের জীবনকে শেষ করার কাজ করছে। 
সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিন্তে আমাদের পক্ষ থেকে যা যা করণীয় আমরা করব। 

হারুন অর রশিদ বলেন, গ্রেফতার ছাত্রদলের সাত নেতাকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করে জেনেছি তারা ১১ টি অস্ত্র অর্ডার করেছে। এর মধ্যে আমরা মাত্র চারটি উদ্ধার করতে পেরেছি। আরও ৭টি অস্ত্র এখনো উদ্ধার বাকি রয়েছে। সেগুলো উদ্ধার করে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। 

জানতে চাইলে হারুন বলেন, এটা তো পরিষ্কার। নির্বাচনের ডামাডোল বাজতে আর এক মাস বাকি। মানুষ ও রাজনৈতিক দল তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছে। এ সময়ে ছাত্রদলের গ্রেফতার নেতারা ১১টি অস্ত্র সংগ্রহ করলেন বোমা-বারুদ সংগ্রহ করলেন, মোবাইল ফোনে কথোপকথনে তারা হল দখলের কথা বললেন। কে ব্যবহার করবে সেটাও বললেন, বণ্টন করলেন? এটা কিসের আলামত? 

হারুন বলেন, আলামত যাই হোক না কেন, আমরা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের স্বার্থে, অবৈধ অস্ত্রধারীরা যারাই হোক না কেন, তারা যে দলই করুক না কেন, আমাদের ডিবি পুলিশের প্রত্যেকটি টিম প্রত্যেককে আইনগত প্রক্রিয়ায় গ্রেফতার করা হবে।

তিনি বলেন, তাদের রিমান্ডে এনে তাদের গডফাদারদের আমরা খুঁজে বের করব ও আইনগত পদক্ষেপ নেব। আমরা সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে চাই। পুলিশকে দুর্বল মনে করে যদি ঢাকা শহরে কোনো অস্ত্র ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসীর চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায় ঢাকা শহরে ঘুরে বেড়াবে, আর ডিবির টিম বসে থাকবে, এটা হতে পারে না। 

আইনগত প্রক্রিয়া আমাদের যা যা করা দরকার আমরা তাই করবো। আর কেউ যদি অস্ত্র ব্যবসায়ীকে ধরার পরে পুলিশকে হুমকি দেয়, তাদের মনে রাখা উচিত, কারো হুমকিতে ডিবি পুলিশ ভয় পায় না। বরং আমরা যাদের নাম পেয়েছি তাদের প্রত্যেককে গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অস্ত্রধারী কেউ দলের না। ১১টা অস্ত্রই আমরা উদ্ধার করব।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২৮ অগাস্ট ২০২৩,/বিকাল ৫:৩০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

January 2025
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit