ডেস্ক নিউজ : নিরবিচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্লিন এনার্জীতে (পরিচ্ছন্ন জ্বালানি) সরকার অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি বলেন, ‘পরিবেশের কথা বিবেচনা করে পরিকল্পনাধীন ১০ বিলিয়ন ডলারের ৮ টি কোল পাওয়ার প্লান্ট (কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র) বাতিল করা হয়েছে। আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি ভিত্তিক তিনটি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছি আমরা। পায়রা, রামপাল ও মাতারবাড়ির কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘ক্লিন কোল পাওয়ার প্লান্ট’। আধুনিক প্রযুক্তির এসব কেন্দ্রের দক্ষতা অনেক বেশি হওয়ায় কম কার্বন ইমিশন হবে।’
আজ বুধবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ শীর্ষক আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এমন মন্তব্য করেন। যৌথভাবে এ আলোচনার আয়োজন করে ইন্টারন্যাশনাল গ্রোথ সেন্টার (আইজিসি) এবং রিসার্স অ্যান্ড পলিসি ইন্টারগেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (আরএপিআইডি)। নসরুল হামিদ বলেন, ‘২০০৯ সালে আমরা যখন ক্ষমতায় আসি তখন ১৭ থেকে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুতের লোডশেডিং হতো। তখন আমাদের লক্ষ্য ছিল বিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধি করা। সেইটা ছিল স্বল্প মেয়াদী পরিকল্পনা। তখন আমরা ছোট ছোট বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করেছি। দ্বিতীয় ধাপে আমাদের পরিকল্পনা ছিল শতভাগ বিদ্যুতায়ন। আমরা সেই লক্ষ্যেও সফল হয়েছি। হাওড়, বাওড় বিচ্ছিন্ন দ্বীপেও বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি আমরা।
তিনি বলেন, বিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে শিল্প কারখানার ব্যাপক প্রসার হয়েছে। আমাদের অর্থনীতির চিত্র বদলে গেছে, উন্নত হয়েছে জীবনযাত্রার মান। ২০০৯ সালে রিজার্ভ ছিল ১ বিলিয়ন ডলারের নীচে। এখন আমাদের রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলারের মতো।’‘দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এখন আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ। সেখানে নানা রকম আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছি। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ কমানোরও চেষ্টা চলছে। আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ৪০ শতাংশ ক্লিন এনার্জী থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছি আমরা,’ যোগ করেন তিনি।
পরিবেশ দূষণের জন্য বাংলাদেশ দায়ী নয় উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন পরিবেশ দূষণের জন্য উন্নত বিশ্ব দায়ী, তবে দেশকে দূষণমুক্ত করতে চাই। আমরা ২০ শতাংশ ক্লিন জ্বালানির লক্ষ্য স্থির করেছি। বৈদ্যুতিক যানবাহনের দিকে যাচ্ছি। এ ধরনের যানের ইঞ্জিনের দক্ষতা অনেক বেশি বলে জ্বালানি সাশ্রয়ী। ইলেকট্রিক চার্জিং স্টেশন গাইড লাইন করা হয়েছে। লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহার বাড়ানোর জন্য একটি টেকসই মডেল তৈরী করা আবশ্যক।
সরকারের নানামুখি উদ্যোগের কারণে দেশের গ্রামাঞ্চলে সৌর বিদ্যুতের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে মন্তব্য করে নসরুল হামিদ বলেন, বাসাবাড়িতে সোলার হোম সিস্টেম স্থাপনে সরকার অর্ধেক ভর্তুকি দিয়েছে। কাজের বিনিময়ে খাদ্য প্রকল্পের আওতায় সোলার স্ট্রিট লাইট ও অন্যান্য সৌর সিস্টেম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কৃষিতে সৌর পাম্প স্থাপন করা হচ্ছে। কিন্তু এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করা বড় চ্যালেঞ্জ। কীভাবে কম খরচে সহজে রক্ষণাবেক্ষণ করা যায় সে বিষয়টি চিন্তা করা দরকার।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে ১.২২ মিলিয়ন ডিজেল পাম্প এবং ৪৩০,০০০ ইলেক্ট্রিক পাম্প রয়েছে। এগুলোকে সোলার ইরিগেশন পাম্পে পরিণত করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে এ পর্যন্ত মাত্র ২৮৭৫টি সোলার ইরিগেশন পাম্প স্থাপিত হয়েছে। এই পাম্পের প্রসার বাড়াতে লাভজনক বিজনেস মডেল দাঁড় করাতে হবে। বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেও এ ব্যাপারে খুবই সচেতন। আমাদেরকে সচেতন হতে হবে। ভবনে নকশায় পরিবর্তন আনতে হবে। যেনো পর্যাপ্ত আলো বাতাস প্রবেশ করতে পারে।
নসরুল হামিদ বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে জমির স্বল্পতাসহ নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তারপরও সরকার কাজ করছে। আমাদের নেট মিটারিং ফর্মুলা গ্রাহকদের জন্য খুবই আকর্ষণীয়। এর আওতায় বাসায় সোলার প্যানেল স্থাপন করে নিজেরা সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পাশাপাশি বাড়তি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করার সুযোগ রয়েছে। যারা নেট মিটারিং ব্যবহার করছে, তাদের বিদ্যুৎ বিল অনেক কমে এসেছে।’
আইজিসি গবেষণা অনুষ্ঠানের প্রধান শহিদ ভাজিরাল্লী’র সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক অতুনু রাব্বানী, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ফ্যালো রুহিনী কামাল, জর্জ টাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আমরিতা কুন্ডু ও ইমপেরিয়াল কলেজের গবেষক সহযোগী শেফালী খান।
কিউএনবি/আয়শা/২০ জুলাই ২০২৩,/রাত ১১:০৫