বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম

জাকাত আদায়ের উত্তম মৌসুম রমজান

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৩
  • ৯৫ Time View

ডেস্ক নিউজ : ইসলামী অর্থব্যবস্থায় সম্পদের সুষম বণ্টনের লক্ষ্যে জাকাত ও ফিতরার প্রচলন করা হয়। যাতে ধন-সম্পদ শুধু ধনীদের মধ্যে ঘুরপাক না খায়। বরং পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আর তোমাদের (ধনীদের) সম্পদে রয়েছে অভাবী ও বঞ্চিতদের অধিকার।’ (সুরা আল-জারিআত, আয়াত: ১৯) আমরা সহিহ হাদিস থেকে জানতে পাই, পবিত্র রমজানে এক টাকা দানে সত্তরের অধিক টাকা দানের সওয়াব পাওয়া যায়। তাই জাকাত, সদকা (দান) ও ফিতরা প্রদানের উত্তম সময় নিঃসন্দেহে এই রমজান মাস। আসুন, জাকাত আদায়ের কতিপয় নিয়ম জেনে নিই।

পবিত্র কোরআনের সুরা তাওবার ৬০ আয়াতে বলা হয়েছে, জাকাত নিম্নোক্ত ৮ শ্রেণির মানুষের মাঝে বণ্টন করতে হবে। ১. ফকির ২. মিসকিন ৩. জাকাত আদায়কর্মী ৪. নও মুসলিম ও অনুরাগী ৫. দাস-দাসী মুক্তি পণ ৬. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি ৭. ইসলামের পথে জিহাদ (প্রচেষ্টা) কারী ৮. বিপদগ্রস্ত মুসাফির। এঁদের মাঝে জাকাতের অর্থ বণ্টন করতে হবে। তবে বর্তমানে প্রচলিত শাড়ি-লুঙ্গি প্রদানের যে সিস্টেম চালু হয়েছে, তা ইসলামী অর্থনীতিতে বিশেষত: জাকাতের কর্মকৌশল বিরোধী। কেননা, জাকাতের উদ্দেশ্য হলো- স্বাবলম্বী করা। অর্থাৎ এ বছর যে ব্যক্তিকে জাকাত দেওয়া হবে, সে যেন আগামীতে কারও কাছে হাত না পাতে। তার মানে, জাকাতের অর্থ দিয়ে অভাবী দরিদ্র ব্যক্তিকে আয়ের পথ বের করে দিতে হবে। প্রয়োজনে দশ জনের জাকাতের অর্থ একত্র করে একজন অভাবীকে দিতে হবে। যে যেন ছোটখাটো ব্যবসা অথবা পশুপালনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।

জাকাত দানকারী’র সম্পদের নিসাব (নির্ধারিত পরিমাণ) হলো, ৭ তোলা সোনা অথবা সাড়ে ৫২ তোলা রৌপ্য অথবা সমমূল্যের নগদ অর্থ বা ব্যবসা পণ্য যদি বছরান্তে অবশিষ্ট থাকে, তবে তাঁর সম্পদের শতকরা আড়াই শতাংশ হিসাবে আল্লাহর নির্ধারিত খাতে গরিব-মিসকিনদের মধ্যে বণ্টন করতে হয়।

ইসলামে জাকাত আদায়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়ের বাধ্যবাধকতা না থাকলেও রমজান মাসই জাকাত আদায়ের সর্বোত্তম সময়। ফলে এ সময় বিত্তবানেরা দান-সদকা ও জাকাত-ফিতরা প্রদানে উৎসাহিত হন। জাকাত প্রদানের ফলে ধনী গরিবের মাঝে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে ওঠে। তাই নবী করিম (সা.) যথার্থই বলেছেন, ‘জাকাত ইসলামের সেতু।’ (মুসলিম) রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘প্রতিটি বস্তুর একটি জাকাত রয়েছে, আর মানুষের দেহের জাকাত হলো সাওম।’ (ইবনে মাজা)। আর জাকাত আদায়ে সম্পদ পবিত্র হয়। হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি তার সম্পদের জাকাত প্রদান করে, তার সম্পদের দোষ দূর হয়।’ জাকাত আদায় করলে সম্পদ বৃদ্ধি পায়। ধনী লোকেরা যদি ঠিকমতো জাকাত আদায় করেন, তাহলে সমাজে কোনো অন্নহীন, বস্ত্রহীন, আশ্রয়হীন, শিক্ষাহীন লোক থাকতে পারে না। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যখন কোনো বান্দা জাকাত আদায় করে, তখন ফেরেশতারা তার জন্য দোয়া করে।’

কিউএনবি/অনিমা/২০ এপ্রিল ২০২৩,/দুপুর ১:৫৭

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

March 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit